বৈসাবি-বৈশাখী উৎসবে মেতেছে বাঙালি-পাহাড়ি
পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক উৎসব (বৈসুক-সাংগ্রাই-বিজু) বৈসাবি আর আবহমান বাংলার বাঙালির প্রাণের উৎসব বৈশাখীতে মাতল পার্বত্য তিন জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের গোটা পাহাড়। উৎসবের রঙে রাঙিয়ে পাহাড় জুড়ে বইয়ে গেছে খুশির জোয়ার। উৎসবে মেতেছে বাঙালি-পাহাড়ি সবাই।
রাঙ্গামাটিতে মঙ্গলবার শুরু হওয়া পাহাড়িদের বৈসাবি উৎসব নানা আচার অনুষ্ঠান ও বর্ণিল আয়োজনের মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছে। উৎসবকে ঘিরে ঘরে ঘরে চাকমারা বিজু, মারমারা সাংগ্রাই, ত্রিপুরারা বৈসুক, রাখাইনরা সাংক্রান, তঞ্চঙ্গ্যারা বিষু, অহমিয়া জনগোষ্ঠী বিহু নামে পালন করেছে।
শুক্রবার পাহাড়ে পাহাড়ে আয়োজন করা হয় মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী জলোৎসব। রাঙ্গামাটির কাপ্তাই চিৎমরম বৌদ্ধ মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে সার্বজনীন জলোৎসবটি। উৎসবে মাতে পাহাড়ি বাঙালিসহ সব জাতিগোষ্ঠীর নারী-পুরুষ।
শুক্রবার কাপ্তাই চিৎমরম বৌদ্ধ মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত মারমা সম্প্রদায়ের জলকেলি উৎসবে নামে সর্বস্তরের মানুষের ঢল। সকাল ১১টায় শুরু দিনব্যাপী জলোৎসবের উদ্ধোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ। 
জাঁকজমকপূর্ণ এ জমকালো অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি দীপংকর তালুকদার, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিন, সেনাবাহিনীর কাপ্তাই জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. কামাল উদ্দিন, পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান ও জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. মুছা মাতব্বর প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, পাহাড়ে ঐতিহ্যবাহী এ উৎসবে সব জাতি গোষ্ঠীর সম্মিলন ও সম্প্রীতির বন্ধন সত্যিই প্রসংশনীয়। এতে প্রমাণ করে পাহাড়ের মানুষ সবাই ঐক্য, সংহতি ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ থাকতে চায়।
তিনি আরো বলেন, দশ বছর আগের পার্বত্য চট্টগ্রাম বর্তমানে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। পাল্টে গেছে উন্নয়নের দৃশ্যপট। এসেছে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। পরে জলোৎসবে মেতে ওঠে মারমা সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীরা। শেষে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শনিবার রাঙ্গামাটি সদরের আসামবস্তির নারকেল বাগানে জমকালো জলোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
এআরএ/এমএস