কেন্দুয়ায় মামলা আতঙ্কে আ.লীগ-বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা


প্রকাশিত: ০৪:৩৫ এএম, ১৭ এপ্রিল ২০১৬

আগামী ২৩ এপ্রিল নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের নির্বাচনকে সামনে রেখে আ.লীগ-বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি, হামলা, অফিস ভাঙচুর, কর্মীদের মারধরসহ মামলা দিয়ে পুলিশি হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থী ও সাধারণ ভোটাররা।

কেন্দুয়া উপজেলার ৫ নং গন্ডা ইউনিয়নে আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মুখলেছুর রহমান অভিযোগ করে জাগো নিউজকে বলেন, আ.লীগ প্রার্থী সনজু মিয়ার নির্দেশে তার বাহিনীর লোকজন আমাকে ধরে নিয়ে যেতে আমার বাড়িতে আসে। পরে এলাকার লোকজন আমাকে রক্ষা করে।  এ ঘটনায় পুলিশ দিয়ে হয়রানি করার জন্য উল্টো সনজু মিয়া আমি ও আমার সমর্থকদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছে। একই ইউনিয়নের বিএনপি প্রার্থী মোবারক আলী ভূঞার প্রচারণায় আ.লীগ প্রার্থীর সমর্থকরা বাধা সৃষ্টি করে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
 
১২ নং রোয়াইলবাড়ি আমতলা ইউনিয়নে আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এসএস ইকবাল রুমী অভিযোগ করে জাগো নিউজকে বলেন, আ.লীগ প্রার্থী শেখ নাজমুল হক ও তার কর্মী-সমর্থকরা আমার নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় আমি থানায় অভিযোগ করলে আমার কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে আ.লীগ প্রার্থীও তার কাপড়ের তৈরি নৌকা প্রতীক ছিঁড়ে ফেলার পাল্টা অভিযোগ করেন।

৭ নং মাসকা ইউনিয়নে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান খুকুমণি অভিযোগ করে জাগো নিউজকে বলেন, আ.লীগ প্রার্থী আব্দুস সালাম বাঙালির কর্মী সমর্থকরা মাসকা বাজারে আমার কর্মী সমর্থদের ওপর অর্তকির্ত হামলা করে। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আমার সমর্থকরাও আ.লীগ প্রার্থীর কর্মীদের ধাওয়া করে।

অপরদিকে, আ.লীগের অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন আ.লীগ প্রার্থী আব্দুস সালাম বাঙালি।

২ নং আশুজিয়া ইউনিয়নে আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রফিকুল ইসলাম রফিক অভিযোগ করে জাগো নিউজকে বলেন, আ.লীগ প্রার্থী আবু তাহেরের কর্মী সমর্থকরা রামপুর বাজারে আমার প্রচার মাইক ভাঙচুর করে। পরে আ.লীগ প্রার্থী আবু তাহের বাদী হয়ে আমার কর্মী সমর্থকদের পুলিশি হয়রানির জন্য উল্টো থানায় মামলা করেন এবং পুলিশ সঙ্গে নিয়ে আ.লীগ প্রার্থীর প্রচারণায় যাওয়ায় ভোটাররা আতঙ্কিত।

এছাড়া উপজেলার অন্য ইউনিয়নগুলোতেও আ.লীগ-বিএনপির বিদ্রোহী ও বিএনপির প্রার্থী ও কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে আ.লীগ প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের বিচ্ছিন্ন ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

কেন্দুয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অভিরঞ্জন দেব একাধিক অভিযোগ প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে জাগো নিউজকে জানান, পুলিশ অহেতুক কাউকে হয়রানি করছে না। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।

কামাল হোসাইন/এসএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।