গাইবান্ধায় রডের বদলে বাঁশের ব্যবহার : মামলা


প্রকাশিত: ১১:৫২ এএম, ১৮ এপ্রিল ২০১৬
ফাইল ছবি

গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের মেঘডুমুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শৌচাগার নির্মাণ কাজে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনায় ঠিকাদার ও উপসহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করেছে দুদক। রংপুরের দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক মো. জাকারিয়া বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।

এর আগে গত বুধবার দুদকের কর্মকর্তারা ঠিকাদার আব্দুল খালেক ও সংশ্লিষ্ট উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আরিফ বিল্লাহকে ৫৪ ধারায় আটক করে থানায় সোপর্দ করেন। পরে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

এদিকে একাধিক সুত্র জানায়, এ ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে একটি মহল নানামুখী তৎপরতা শুরু করেছে।
 
প্রসঙ্গত, গত বছরের সেপ্টেম্বরে মেঘডুমুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে ওই শৌচাগার নির্মাণের কাজ শুরু করেন ঠিকাদার আব্দুল খালেক। ৮ এপ্রিল শুক্রবার ওই নির্মাণ কাজে ঠিকাদার আব্দুল খালেক ও তার লোকজন ঢালাই কাজে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার করলে এলাকাবাসী তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলে এবং কাজ বন্ধ করে দেয়। এ খবর বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রচারিত হলে এ নিয়ে গাইবান্ধায় তোলপাড় শুরু হয়।

ওই ঘটনায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগীয় তদন্ত টিম তদন্ত কাজ পরিচালনা করে। দুদক রংপুর কার্যালয়ের একটি তদন্ত টিম তদন্ত কাজ শেষে প্রকৌশলীসহ ঠিকাদারকে গ্রেফতার করে। পরে দুদকের কর্মকর্তারা গত ১৩ এপ্রিল থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিয়ে অভিযুক্তদের ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে পুলিশের হাতে তাদের তুলে দেন। এ ঘটনার পরপরই উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আরিফ বিল্লাহকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
 
এদিকে সোমবার গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ঠিকাদার আব্দুল খালেক ও প্রকৌশলী আরিফ বিল্লাহকে নির্দোষ দাবি করেছেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের ঠিকাদারসহ স্থানীয় অন্যান্য ঠিকাদাররা। এতে লিখিত বক্তব্যে ৪০ জন ঠিকাদার স্বাক্ষর করেন। তাদের দাবি, বিদ্যালয়টির শৌচাগার নির্মাণ কাজকে কেন্দ্র করে ওই গ্রামের লোকজনের মধ্যে দুটি গ্রুপ সৃষ্টি হয়। তাদের একটি গ্রুপের সঙ্গে যোগসাজশ করে কর্মরত রাজ মিস্ত্রি ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অজান্তে নির্মাণ কাজের লিন্টনের ঢালাইয়ে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার করে। ব্যাপারটি ষড়যন্ত্রমূলক।

সংবাদ সম্মেলন বক্তব্য রাখেন ঠিকাদার আবু বকর সিদ্দিক, মোস্তাক আহমেদ, এস.এম সালাহ উদ্দিন লিটন, মো. আসাদুজ্জামান, শামসুজ্জামান খন্দকার, শাহাদত হোসেন, মো. হুমায়ুন কবির, শামছুল হুদা, মো. এমদাদুল হক, শহিদুল ইসলাম, সাইদুর রহমান ও লিখন চৌধুরী প্রমুখ।

অমিত দাশ/এফএ/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।