পঞ্চগড়ে কেরোসিন তেলের কৃত্রিম সঙ্কট
জ্বালানির দাম কমতে পারে। লোকসানের আশঙ্কায় পর্যাপ্ত কেরোসিন ও ডিজেল মজুদ করছেন না পঞ্চগড়ের পেট্রলপাম্প মালিক ও জ্বালানি ব্যবসায়ীরা। আর এই কৃত্রিম সঙ্কটের নামে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত দরে বিক্রি হচ্ছে কেরোসিন আর ডিজেল। এতে বিপাকে পড়েছেন কৃষকসহ কেরোসিন ব্যবহারকারি নিম্ন আয়ের মানুষ। তবে ফিলিং স্টেশনের মালিকদের দাবি তারা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যেই জ্বালানি তেল বিক্রি করছেন।
গত মঙ্গলবার দিনভর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, এসব এলাকায় ডিজেলের চেয়ে কেরোসিনের দাম বেশি। উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের কাজিপাড়া, কাকপাড়া ও ভেলকুপাড়া ঘুরে জানা গেলো অধিকাংশ এলাকা এখনো বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসেনি। এখানকার অধিকাংশ শিশু লেখাপড়া করে দিনের আলোয়। এছাড়া লেখাপড়াসহ রাত্রীকালীন কাজের জন্য তাদের কেরোসিন চালিত কুপিবাতির উপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু আকশ্মিক কেরোসিনের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের এসব মানুষ।
কাজীপাড়ার পাশেই স্থানীয় মিলন বাজারে প্রতি লিটার কেরোসিন বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। অথচ ডিজেল ও কেরোসিনের সরকারি মূল্য প্রতি লিটার ৬৮ টাকা। তবে এই বাজারের ব্যবসায়ীরা ৭৫ থেকে ৮০ টাকা লিটারে কেরোসিন বিক্রির কথা স্বীকার করলো।
মিলন বাজারের হাসান স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. হাসান আলী বলেন, আমরা পঞ্চগড় বাজারের মহাজনদের কাছ থেকে কেরোসিন ও ডিজেল ক্রয় করি। খরচসহ লিটার প্রতি মাত্র ৫ টাকা লাভে বিক্রি করি।
জ্বালানির দাম কমতে পারে আর এতে লোকসানের আশঙ্কায় বেশ কিছুদিন ধরে কেরোসিনের স্থানীয় ডিলাররা ডিপো থেকে কেরোসিন উত্তোলনে গড়িমসি করছিল। এ কারণে সপ্তাহখানেক আগে কেরোসিন শুন্য হয়ে পড়ে পঞ্চগড়ে। তখন লিটার প্রতি ১০০ থেকে ১১০ টাকা পর্যন্ত কেরোসিন বিক্রি হয় পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকায়। এসময় শহরেও সঙ্কট দেখা দেয় কেরোসিনের।
শহরের চৌরঙ্গী মোড়ের চা দোকানদার মো. আব্দুল বলেন, কয়দিন আগে কেরোসিন পাওয়া যাচ্ছিল না। ৭০ টাকার কেরোসিন ১১০ টাকায় কিনেছি। এখন প্রতি লিটার ৭৫ থেকে ৮০ টাকা কিনছি।
তবে প্রত্যন্ত এলাকায় বেশি দামে বিক্রির হওয়ার কথা স্বীকার করলেও সরকার নির্ধারিত মূল্যেই জ্বালানি বিক্রির দাবি পেট্রলপাম্প মালিকদের।
শহরের কাঞ্চনজঙ্গা ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী মো. আবু হিরন বলেন, আমরা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যেই পেট্রল ডিজেল বিক্রি করছি। প্রত্যন্ত এলাকায় সঙ্কটের নামে প্রপাগান্ডা ছাড়িয়ে কিছু সংখ্যক অসাধু ব্যবসায়ী বেশি দামে ডিজেল ও কেরোসিন বিক্রি করতে পারে। তবে আমরা বেশি দামে বিক্রি করলে আমাদের ব্যবসায়ীক লাইসেন্স (সনদ) বাতিল হয়ে যাবে। এ ভয় সকলের আছে।
তবে স্থানীয় কেরোসিনের ডিলার শরীফ হোসেনের ম্যানেজার ইউনুস আলী বলেন, কয়েকদিন আগে তেলবাহী গাড়ি আসতে একটু দেরি হয়েছিল। এজন্য কিছুটা সঙ্কট দেখা দেয়। তবে বর্তমানে পর্যাপ্ত মজুদ আছে এবং নির্ধারিত মূল্যেই কেরোসিন বিক্রি হচ্ছে।
সুফকুল আলম/ এমএএস/এবিএস