অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে আবাসিক হোটেলে ভাঙচুর


প্রকাশিত: ১২:১৩ পিএম, ২২ এপ্রিল ২০১৬

রাঙ্গামাটিতে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেলে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে উত্তেজিত জনতা। এলাকার বহু লোকজন দলে দলে এ ভাঙচুরের অংশ নেয়। এ ঘটনায় গোটা শহরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে শহরের রিজার্ভ বাজারে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এসময় দুইটি আবাসিক হোটেল থেকে ছয় তরুণীকে আটক করে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, জুমার নামাজ শেষে রিজার্ভ বাজার জামে মসজিদের কাছাকাছি হিলসিটি, স্টার, লেকসিটি, ফারুক, আল-হেলাল ও প্রবাসী নামে ছয়টি আবাসিক হোটেলে একের পর এক ভাঙচুর চালায় এলাকার লোকজন। এসময় ওই সব হোটেলে ব্যাপক ক্ষতির ঘটনা ঘটে।

ভাঙচুরকারীদের অভিযোগ ওই সব হোটেলে দীর্ঘদিন ধরে দেহ ব্যবসাসহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ চলে আসছে। এতে মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট হচ্ছে। হামলার সময় হোটেলে অবস্থানরত দুই তরুণীকে বেধড়ক পেটানো হয় বলে জানা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হামলাকারীদের ধাওয়া দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

Rangamati-Hotel-Attact  

এদিকে, অসামাজিক কার্যকলাপকে কেন্দ্র করে গত ১২ মার্চ হোটেল হিলসিটি থেকে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় হোটেল ম্যানেজার সেলিম, সুমন দাশ ও আকাশ নামে তিন আসামিকে গ্রেফতার করে রাঙ্গামাটি কোতোয়ালি থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা বর্তমানে রাঙ্গামাটি কারাগারে রয়েছেন।   
 
অন্যদিকে, কোনো রকম অভিযোগ ছাড়াই একটি মহলের ইন্ধনে বিনা উস্কানিতে উত্তেজনা সৃষ্টি করে তাদের হোটেলে হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেছেন হোটেল মালিকরা।

হোটেল হিলসিটির মালিক আনোয়ার মিয়া বানু বলেন, প্রথমে মসজিদের সামনে আল-হেলাল হোটেলে বিনা উস্কানিতে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। পরে অন্য হোটেলগুলোতে ঢুকে একে একে এলোপাতাড়ি হামলা, ভাঙচুর ও মারধর করা হয়। অথচ কারও বিরুদ্ধে কারও কাছে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। এভাবে কী কেউ হামলা চালাতে পারে ?

Rangamati-Hotel-Attact

দেশে তো আইনের শাসন আছে। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। কোনো হোটেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তারা আইনের কাছে যেতে পারে। এ ধরনের হামলায় পর্যটকরা আর রাঙ্গামাটি আসবেন না। এতে পর্যটনের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

কোতোয়ালী থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) লিমন বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থল গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়া হয়। পুলিশের ধাওয়ায় পিছু হটে চলে যায় ভাঙচুরকারীরা। এসময় হোটেল স্টার থেকে দুইজন এবং হোটেল আল-হেলাল থেকে চার তরুণীকে আটক করা হয়। আটকরা পতিতা বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

সুশীল প্রসাদ চাকমা/এআরএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।