নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ৪৬৩ বাঙালি পরিবার


প্রকাশিত: ০৫:৫৪ এএম, ২৫ এপ্রিল ২০১৬

রাঙামাটি পার্বত্য জেলার লংগদুর প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাসকারী ৪৬৩ পুনর্বাসিত বাঙালি পরিবার সন্ত্রাসীদের ত্রাস ও হুমকির মুখে চরম নিরাপত্তাহীনতায় মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

রাঙামাটি শহরের বনরূপার রেইনবো রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন ভূক্তভোগী পরিবারের লোকজন ও ‘পার্বত্য গণমঞ্চ’ নামে স্থানীয় বাঙালিদের একটি সংগঠনের নেতারা।

তারা অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ সময় তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির নেতা মো. শওকত আকবর রানা, মো. মোস্তফা কামাল, মো. আবদুর রহিম বিশ্বাস, মো. ইউসুফ, ইউনুস ফরাজি, আব্দুল জব্বার, মো. শামসুল হকসহ প্রায় অর্ধ শতাধিক লোকজন। পরে শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

এ সময় তারা বলেন, লংগদু উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে লংগদু ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভাইবোনছড়া এলাকার তিনটি মৌজায় বসবাসকারী ৪৬৩ পুনর্বাসিত বাঙালি পরিবারের লোকজন অস্ত্রধারী পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের তাণ্ডবে বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সন্ত্রাসীদের ভয়ে অনিরাপত্তার কারণে বাঙালিদের এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে লংগদু থানা পুলিশে অভিযোগ করা হলেও বিষয়টি আমলেও নিচ্ছেন না পুলিশ। সেনাবাহিনীর কাছে অভিযোগ করা হলে বলা হয় সরকারের নির্দেশ ছাড়া তাদের কিছুই করার নেই।

তারা জানান, স্থানীয়ভাবে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়া হয়েছে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে ২০১৫ সালের ১ অক্টোবর, সেনাবাহিনীর বামে লংগদুর সাব-জোনে ২৩ অক্টোবর এবং লংগদু থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে ১৪ নভেম্বর। পরে চলতি বছর ১ ফেব্রুয়ারি ১০১ পরিবার প্রধানের স্বাক্ষরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে, ৯ মার্চ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে এবং ২১ মার্চ পৃথকভাবে ভূমি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। সর্বশেষ ৭ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ৬ দফা সম্বলিত দাবিতে একটি স্মারকলিপি প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো হয়েছে। এরপরও কোনো জবাব না পেয়ে আবারও দাবিগুলো তুলে ধরছি আমরা। ৩০ এপ্রিলের মধ্যে কোনো সুরাহা না পেলে পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।

তারা বলেন, আমরা সাধারণ পাহাড়িদের বিরুদ্ধে নয়-অস্ত্রধারী পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে।

তারা আরও বলেন, ১৯৮১ সালে তৎকালীন সরকার তাদের নিয়ে আসে। ১৯৮৩ সালে লংগদুর তিনটি মৌজায় ৪৬৩ বাঙালি পরিবারকে জমি বন্দোবস্তের দলিল বুঝে দিয়ে পুনর্বাসিত করে সরকার। বর্তমানে তাদের সেই রেকর্ডীয় জায়গা দখল করে সেখানে বাড়িঘর করছে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা। এছাড়াও প্রতিনিয়ত বাঙালিদের কাছ থেকে অস্ত্রের মুখে ব্যাপক চাঁদাবাজি করছে তারা। সন্ত্রাসীরা বাঙালিদের এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হুমকি দিচ্ছে। ফলে নিরাপত্তার জন্য বাধ্য হয়ে এলাকা ছেড়ে যেতে হচ্ছে ওই এলাকার বাঙালিদের।  

সুশীল প্রসাদ চাকমা/এসএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।