নওগাঁয় আমের বাম্পার ফলনের আশা


প্রকাশিত: ০৩:৫০ এএম, ১৬ মে ২০১৬

দেশে আমের দ্বিতীয় রাজধানী হিসেবে জায়গা দখল করে নিয়েছে নওগাঁর পোরশা-সাপাহার ও নিমায়তপুর উপজেলা। ইতোমধ্যেই এই তিন উপজেলার আম দেশের বিভিন্ন স্থানের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি হতে শুরু করেছে। আর তাই আম পাকার আগেই সরকারি উদ্যোগে আম সংরক্ষণ ও বিদেশে রফতানির উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন আম চাষিরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ঠাঁ ঠাঁ বরেন্দ্র ভূমিতে নওগাঁয় গত ১০ বছরে আম বাগান ছিল মাত্র ১৮ হাজার হেক্টর। অন্যান্য ফসল চাষের চেয়ে আম চাষে বেশি লাভ হওয়ায় জেলায় ইতোমধ্যে প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে আম বাগান গড়ে উঠেছে। জেলার সাপাহার-পোরশা ও নিমায়তপুর উপজেলার মাটি আম চাষের বিশেষ উপযোগী হওয়ায় বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে আম চাষের নিরব বিপ্লব ঘটেছে এই উপজেলাগুলোতে।

এই তিন উপজেলায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে হাইব্রিডসহ বিভিন্ন জাতের আমের চাষ হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত মানের আম চাষ করায় প্রতি হেক্টরে প্রায় ১০ টন আম উৎপাদন হচ্ছে। এই হিসেবে জেলায় প্রায় ৪ লাখ টন আম উৎপাদন হবে। যা দেশের বিভিন্ন স্থানের চাহিদা মিটিয়েও বিদেশে রফতানি করা সম্ভব।

এদিকে, প্রতি বছর জেলায় আমের উৎপাদন মাত্রা বেড়েই চলেছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে উৎপাদন অন্যান্য উপজেলার চেয়ে পোরশা, নিয়ামতপুর ও সাপাহারে বেশ কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। এছাড়াও অন্যান্য উপজেলার মধ্যে পত্নীতলা, বদলগাছী, ধামইরহাট ও মহাদেবপুরে বেশি আম চাষ করা হয়। এসব আম অতিসুস্বাদু হওয়ায় বাজারে এসব আমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

Mango

এ এলাকাগুলোতে সাধারণত হাইব্রিড জাতের আমরুপলী, চষা, মল্লিকা, বারি-৪, বারি-৩ এবং দেশীয় জাতের মধ্যে ফজলী, সুরমা ফজলী, নাগ ফজলী, নেংড়া, গোপাল ভোগ, খিরসা পাতি, মহনভোগসহ বিভিন্ন জাতের সুমিষ্ট আম চাষ হয়ে থাকে।

আমের মৌসুমে প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, বাগান থেকে হাজার হাজার টন আম দেশের রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় রফতানি করা হয়। স্থানীয় বাজারে এসব আমের দাম প্রতি মণ ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

জানা গেছে, এবার আমের মৌসুম শুরু হওয়ার আগে থেকে এই তিন উপজেলায় আম ব্যবসায়ীরা চলে এসেছেন। আমের আড়ৎগুলোতে শতশত শ্রমিক এখন থেকেই আম পরিচর্যা, বাগানের খোঁজখবর ও দামদর নির্ধারণে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

সাপাহার উপজেলার আম ব্যাবসায়ী জাহাঙ্গির আলম জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবারেও ভাল ব্যবসার আশা আছে। তার আড়তে প্রায় ২৫ জন শ্রমিক কাজ করে থাকে। সে হিসেবে আমের আমদানীও হয়ে থাকে প্রচুর। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আমের বাম্পার ফলনে আম চাষিদের মুখে হাসি ফুটবে।

Mango

আমচাষি তোসলিম উদ্দিন, নয়ন ও প্রদীপ সাহা জানান, আমের ভালো ফলন হলেও অন্যান্য বছরের মত এবারেও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটর মাধ্যমে দর পতন ঘটবে। এর ফলে আম চাষিরা লাভের পরিবর্তে লোকশান গুনতে পারেন।

পোরশা উপজেলার নীতপুর বাজার এলাকার আমীর উদ্দিন জানান, আম পেকে গেলে সেটা তো আর ঘরে রাখা যায় না। এলাকায় আম সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বেশির ভাগ আম চাষিরা বাধ্য হয়ে ব্যবসায়ীদের কাছে কম দামে বিক্রি করে থাকেন।  

পোরশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান জানান, এ এলাকার মাটি আম চাষের উপযোগী হওয়ায় এখানকার আম খুব সুস্বাধু। আর তাই দেশের বিভিন্ন জেলাসহ রাজধানীতে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ থেকে আম চাষিদের ফরমালিন না দেয়ার জন্যে সার্বক্ষণিক উদ্বুদ্ধ করা হয়।

সাপাহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ভূইয়া জানান, স্থানীয় জনগণ ও আম চাষিদের ভাগ্যান্নোয়নে উপজেলায় ১টি হিমাগার এবং ১টি জ্যাম-জ্যালী বা জুস ফ্যাক্টরি স্থাপনে প্রাইভেট বা পার্টনারশিপ অথবা ব্যক্তিগত উদ্যোগে অথবা সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাহী চেয়ারম্যান বিনিয়োগবোর্ড ঢাকা ও পরিচালক রাজশাহী বিভাগীয় বিনিয়োগবোর্ডসহ বিভিন্ন দফতরে আবেদন পাঠানো হয়েছে।

এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।