আজো অরক্ষিত কাঠিপাড়ার গণকবর


প্রকাশিত: ০৪:২০ এএম, ১৭ মে ২০১৬

আজ ১৭ মে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার কাঠিপাড়া গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে রাজাপুর উপজেলার কাঠিপাড়া ঠাকুরবাড়ীর জঙ্গলে প্রাণ ভয়ে লুকিয়ে থাকা হিন্দু সম্প্রদায়ের শতাধিক লোককে স্থানীয় রাজাকারদের সহায়তায় পাক হানাদাররা নির্বিচারে হত্যা করে।

স্বাধীনতার ৪৫ বছরেও এখানকার গণকবর দুটি সংরক্ষণে উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। নিহতদের পরিবার পায়নি শহীদ পরিবারের মর্যাদা। এমনকি রাজাকাদের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা দায়ের হলেও তারা বাদীপক্ষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলা না লড়তে বাধ্য করে রেখেছে।

মুক্তিযোদ্ধা আক্কাস আলী মৃধা বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিনে সংখ্যালঘূ অধ্যুষিত ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার কাঠিপাড়া, নারিকেল বাড়িয়া এবং নৈকাঠি গ্রামে পাক হানাদাররা হত্যাযজ্ঞ চালায়। পাক বাহিনী আসবে আগে থেকেই এমন খবর পেয়ে এই তিন গ্রামের লোকজন ঠাকুর বাড়ির বিশাল জঙ্গলে আশ্রয় নেয়।

স্থানীয় রাজাকাররা পাক হানাদারদের এ খবর দিলে তারা ঐ জঙ্গল ঘেরাও করে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে পুরুষদের হত্যাকরে, নরীদের উপর চলায় অমানুষিক নির্যাতন। পাক হানাদাররা চলে গেলে এলাকার বেঁচে থাকা লোকজন মরদেহগুলো দুটি গর্তে মাটি চাঁপা দিয়ে রাখে। এখনও নিহতদের স্বজনদের গণকবরের পাশে গিয়ে কান্নাকাটি করতে দেখা যায়।

তাদের আক্ষেপ স্বাধীনতার ৪৫ বছরেও গণকবর দুটি সংরক্ষণে সরকারিভাবে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। নিহতদের পরিবাররাও পায়নি শহীদ পরিবারের মর্যাদা। অথচ রাজাকাররা পাচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা আর তাদের সন্তানরা পাচ্ছে সকল সুযোগ।

JHALAKATI

তিনি আরো জানান, ২০১১ সালে স্থানীয় রাজাকারদের বিরুদ্ধে শহীদ পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে ৫টি মামলা দায়ের করা হয়। গণতদন্ত কমিশন ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং আলামত হিসেবে গণকবর থেকে তোলা শহীদদের কঙ্কাল গুলো নিয়ে যায়। কিন্তু পরবর্তীতে রাজাকার কমান্ডার হেমায়েত হোসেন নূরু, মিল্লাত জমাদ্দার ও খালেক মাস্টারসহ অন্যরা শহীদ পরিবারগুলোকে হুমকী ও ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলা চালানো থেকে বাদী পক্ষকে বিরত থাকতে বাধ্য করে।

মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী এএইচএম খায়রুল আলম সরফরাজ বলেন, এরই মধ্যে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ প্রশাসন ও সাংবাদিকবৃন্দ এসে ঘটনার সত্যতা পায়। তদন্ত কমিটি উদ্ধারকৃত হাড় বস্তাবন্দি করে নিয়ে যায়। তারই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় স্বজনহারা অনেকেই একে একে ঝালকাঠি কগনিজেন্স আদালতে মামলা করে।

কিন্তু রাজাপুর থানা পুলিশকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দিলেও রাজাকার হেমায়েত হোসেন নুরু, খালেক মাস্টার, মিল্লাত জোমাদ্দার অত্যান্ত প্রভাবশালী লোক। তারা অর্থের বিনিময়ে, চাপ সৃষ্টি করে, হুমকি দিয়ে ও ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন কায়দায় সমস্ত কিছু স্থগিত করে। বর্তমানে মামলার বাদী এবং স্বাক্ষীদের জোর করে এফিডেভিট আদায় করেছে যাতে তারা ভবিষ্যতে এ মামলা পরিচালনা না করে। এ মামলা আর কোনোদিন যেন বিচারের মুখোমুখি না হয় এজন্যই তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা।

বাদী এবং স্বাক্ষীদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বলেন, এ মামলা পুনরুজ্জীবিত করলে আমাদের জীবনের নিরাপত্তা কে দেবে। সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ তারা যদি আমাদের জীবনের নিরাপত্তা দেয় তাহলে আমরা এর বিচার চাই।

আতিকুর রহমান/এফএ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]