মাছ চাষে ডেনমার্কের এ্যাসেনটপ্ট অ্যাকুয়া ও প্রাণ-আরএফএলের চুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:১৩ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০২৬
নিবিড় মাছ চাষ প্রকল্প যৌথভাবে শুরু করতে যাচ্ছে হবিগঞ্জ এগ্রো লিমিটেড এবং ডেনমার্কভিত্তিক এ্যাসেনটপ্ট অ্যাকুয়া

রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি ইনডোর, সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত ও নিবিড় মাছ চাষ প্রকল্প যৌথভাবে শুরু করতে যাচ্ছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগ্রুপ প্রাণ-আরএফএলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হবিগঞ্জ এগ্রো লিমিটেড এবং ডেনমার্কভিত্তিক এ্যাসেনটপ্ট অ্যাকুয়া।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর বাড্ডায় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত এক সমঝোতা স্মারক সই হয়। হবিগঞ্জ এগ্রো লিমিটেডের পক্ষে নির্বাহী পরিচালক নাসের আহমেদ এবং এ্যাসেনটপ্ট অ্যাকুয়ার পক্ষে বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর ড. ইয়েনস্ ওলে ওলেসেন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের হয়ে সমঝোতা স্বারকে সই করেন।

প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা, অ্যাসেনটপ্ট- এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান মারিস্কোর ম্যানেজিং পার্টনার থমাস সুদারলিন্ড, এ্যাসেনটপ্ট কান্ট্রি ম্যানেজার আবদুল্লাহ আল মামুন মো. ইউসুফ, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ আমিনুর রহমান এফসিএস, উপ-মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তৌহিদুজ্জামান এসময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রকল্পটি চট্টগ্রাম বিভাগের মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে অথবা উভয় পক্ষের সম্মতিতে নির্ধারিত অন্য কোনো উপযুক্ত স্থানে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগামী দুই বছরে দুই থেকে তিন ধাপে প্রকল্পটিতে মোট ৩০ মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও পড়ুন
কৃষিপণ্যের দামে অস্থিরতার পেছনে মধ্যস্বত্বভোগীর প্রভাব 
একীভূত ৫ ব্যাংকের আমানতকারীরা পাচ্ছেন দুই বছরের মুনাফা 

এ প্রকল্পের অধীনে প্রধানত এশিয়ান সিবাস ও গ্রুপার, ইলিশসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ চাষ করা হবে। প্রতিটি মাছের গড় ওজন হবে এক কেজি ২০০ থেকে এক কেজি ৫০০ গ্রাম। উৎপাদিত মাছের বড় একটি অংশ রপ্তানি করা হবে এবং একটি অংশ স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হবে। প্রকল্পটি পূর্ণ বাস্তবায়নের পর বছরে প্রায় ২ হাজার টন মাছ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ সম্পর্কে প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা বলেন, সুস্বাদু সামুদ্রিক মাছের ক্রমবর্ধমান দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে দেশে অত্যাধুনিক আরএএস পদ্ধতিতে এসব মাছ চাষ করতে চায় প্রাণ গ্রুপ। অ্যাসেনটপ্ট অ্যাকুয়ার সঙ্গে এই অংশীদারত্ব বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। কারণ উন্নত দেশগুলোতে এরই মধ্যে স্বল্প জায়গায় এই প্রযুক্তির মাধ্যমে শিল্প পর্যায়ে মাছ চাষ হচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো শিল্প পর্যায়ে সিবাস উৎপাদন শুরু হবে।

এ্যাসেনটপ্ট অ্যাকুয়ার ড. ইয়েনস্ ওলে ওলেসেন বলেন, আমাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মারিস্কো এপিএস ২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মাছ চাষে যৌথভাবে কাজ করে আসছে। বাংলাদেশে একটি আরএএস-ভিত্তিক মাছ চাষ প্রকল্প বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে এরই মধ্যে আমরা ডেনিশ সরকারের গ্যারান্টিযুক্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করেছি। আমরা এ পদ্ধতিতে সুস্বাদু সামুদ্রিক মাছের উৎপাদনের জন্য কাজ করছি। যার মধ্যে ব্রুডস্টক সুবিধাসহ হ্যাচারি ও নার্সারি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সঙ্গে এই অংশীদারত্ব নিয়ে আমরা অত্যন্ত আশাবাদী।

কেএসআর/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।