থাকবে কৃষিপণ্যও

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি পণ্য আমদানি করবে বাংলাদেশ

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১২:১৫ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি পণ্য ও কৃষিপণ্য আমদানি করবে বাংলাদেশ/ফাইল ছবি

পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৫ বছরে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের জ্বালানি পণ্য এবং ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের গম, সয়াবিন, তুলা ও ভুট্টাসহ কৃষিপণ্য আমদানি করবে বাংলাদেশ।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোক্যাল ট্রেড (এআরটি)’ স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর ফলে চূড়ান্তভাবে বাংলাদেশের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্কের হার ১ শতাংশ কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়েছে।

এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ কৃষি, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতসহ নানা বিষয়ে কাজ করার বিষয় বাণিজ্যিক চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিমান ক্রয়, গম, সয়াবিন, তুলা ও ভুট্টাসহ প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য ক্রয় এবং আগামী ১৫ বছরে আনুমানিক ১৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের জ্বালানি পণ্য ক্রয়।

আরও পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সই, শুল্ক কমেছে ১ শতাংশ
রপ্তানি খাত বৈচিত্র্যকরণে কাজ করছে সরকার: বাণিজ্য উপদেষ্টা

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, উভয় দেশ নিজ নিজ অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দ্রুত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করবে এবং চুক্তি কার্যকর হওয়ার আগে প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবে।

সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভার্চুয়ালি এ চুক্তি সই হয়। এতে বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার স্বাক্ষর করেন।

অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোক্যাল ট্রেড এর আওতায় বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শিল্প ও কৃষিপণ্যের জন্য উল্লেখযোগ্য অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা দিতে সম্মত হয়েছে।
এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে—রাসায়নিক দ্রব্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি, মোটরযান ও যন্ত্রাংশ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সরঞ্জাম, জ্বালানি পণ্য, সয়াবিন, দুগ্ধজাত পণ্য, গরুর মাংস, পোলট্রি, বাদাম ও ফল।

এছাড়া বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানিকারকদের জন্য দীর্ঘদিনের কিছু অশুল্ক বাধা দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর আওতায় বাংলাদেশ মার্কিন নিরাপত্তা ও পরিবেশগত মান অনুযায়ী তৈরি গাড়ি গ্রহণ করবে, মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অনুমোদিত ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম গ্রহণ করবে এবং পুনর্নির্মিত (রিম্যানুফ্যাকচারড) পণ্যের ওপর আমদানি নিষেধাজ্ঞা ও লাইসেন্সিং বাধা তুলে নেবে।

ডিজিটাল বাণিজ্য সহজ করতে বাংলাদেশ সীমান্তপারের তথ্য প্রবাহের অনুমতি দেবে এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় ইলেকট্রনিক ট্রান্সমিশনের ওপর শুল্কমুক্ত নীতি বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নেবে। পাশাপাশি কাস্টমস প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজেশন এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আইএইচও/ইএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।