চাঁদাবাজি রোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান ডিসিসিআই সভাপতির

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৪৮ পিএম, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অডিটরিয়ামে আয়োজিত মতবিনিময় সভা/ছবি: সংগৃহীত

দেশে চাঁদাবাজি প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার মিলনায়তনে সংগঠনটির আয়োজনে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণে নির্বাচন-পরবর্তী উন্নত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার অত্যাবশ্যকীয়তা বিষয়ে এ সভা হয়।

স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, চাঁদাবাজি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও যানজট শুধু ব্যবসায়ী এবং বেসরকারি খাতের সমস্যা নয়। এগুলো সামগ্রিকভাবে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিককে প্রভাবিত করছে। সরকারি কর্মকর্তা, এমনকি পুলিশ বাহিনীর সদস্যরাও দৈনন্দিন জীবনে এসব সমস্যার প্রভাব থেকে মুক্ত নন। তাদের পরিবারের সদস্যরাও চাঁদাবাজি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

‘শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওপর দায় চাপিয়ে দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সম্ভবত এখন সময় এসেছে একটি সামাজিক আন্দোলন তৈরির। পুলিশ কিংবা কোনো একটি দপ্তর একা এই সংকট মোকাবিলা করতে পারবে না। আমাদের নিজেদের মধ্যেও দায়িত্ববোধ তৈরি করতে হবে। সামাজিকভাবে চাঁদাবাজি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।

নিজেদের আশাবাদী হিসেবে উল্লেখ করে তাসকীন আহমেদ বলেন, ‘নিরাশাবাদী হলে তো হবে না। একটা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে খুব শক্তিশালী সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। জনপ্রতিনিধিরা থাকায় আমাদের আশাও বেড়ে গেছে। আমরা এবার বোধহয় সামনের দিকে ভালো কিছু দেখবো- চাঁদাবাজমুক্ত এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের মাধ্যমে।’

চাঁদাবাজি রোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান ডিসিসিআই সভাপতির

এই ব্যবসায়ী নেতা জানান, ব্যবসায়িক আস্থা গড়ে ওঠে বিশ্বাস, আইনের শাসন ও স্থিতিশীল পরিবেশের ওপর। বিগত কয়েক বছরে নানা কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ধীর হয়ে গিয়েছিল। কঠোর মুদ্রানীতি ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উদ্বেগ বেসরকারি খাতের সম্প্রসারণকে প্রভাবিত করেছে।

ডিসিসিআই সভাপতির মতে, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ব্যবসার জন্য নিরাপদ ও অনুমানযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করাও অপরিহার্য। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল ও সরবরাহ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখা জাতীয় অর্থনীতি, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা- সবার স্বার্থেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, অবৈধ চাঁদাবাজি, অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রশাসনিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা ব্যবসা পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এসব সমস্যা ব্যবসার ব্যয় বাড়ায় এবং দেশীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করে। তাই সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, নীতিনির্ধারক প্রতিষ্ঠান ও অর্থনৈতিক মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসন এ এইচ এম আহসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান।

আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ-কমিশনার (মতিঝিল বিভাগ) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) আব্দুল জলিল ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আইআইটি অধিশাখার অতিরিক্ত সচিব শিবির বিচিত্র বড়ুয়া।

ইএইচটি/একিউএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।