ব্যাংক-বিমার ঢালাও দরপতনে কমেছে সূচক, বেড়েছে লেনদেন
সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার (২৯ মার্চ) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ব্যাংক ও বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ার দামে ঢালাও দরপতন হয়েছে। এতে সার্বিক বাজারে দরপতনের পাল্লা ভারী হয়েছে এবং সবকটি মূল্যসূচকের পতন হয়েছে। তবে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।
অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশিসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। ফলে এ বাজারটিতেও মূল্যসূচক কমেছে। সূচকের পতন হলেও ডিএসইর মতো এ বাজারটিতেও লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে।
এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। তবে লেনদেন শুরুর অল্প সময়ের মধ্যে বেশিরভাগ ব্যাংক ও বিমা কোম্পানির শেয়ার দাম কমে যায়। যা অব্যাহত থাকে লেনদেনের শেষ পর্যন্ত।
বেশিরভাগ ব্যাংক ও বিমা কোম্পানির শেয়ার দাম কমার প্রবণতা অন্য খাতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১১৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২৫০টির। আর ৩০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে, ব্যাংক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটিরও শেয়ার দাম বাড়েনি। বিপরীতে দাম কমেছে ২৮টির এবং ৩টির শেয়ার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর বিমা খাতের ৯টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ৪৫টির শেয়ার দাম কমেছে এবং ৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৩৭টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৫৩টির দাম কমেছে এবং ১৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৪০টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৪টির এবং ৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩৭টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬৩টির এবং ৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত ৯টি মিউচুয়াল ফান্ডেরই দাম বাড়ার বিপরীতে ৯টির দাম কমেছে এবং ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম কমায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৪৪ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৭২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৬৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ২১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৯৮ পয়েন্টে নেমে গেছে।
সবকটি মূল্যসূচক কমলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৬৪৬ কোটি ৪২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৬০৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৪২ কোটি ৬১ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে একমি পেস্টিসাইডের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৩ কোটি ২২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৩ কোটি ৫ লাখ টাকার। ১৭ কোটি ৩২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বিডি থাই ফুড।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- টেকনো ড্রাগস, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, ফাইন ফুডস, সিটি ব্যাংক, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ এবং শাইনপুকুর সিরামিক।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ১১২ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৯৯ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮২টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৯৮টির এবং ১৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৩২ কোটি ৩১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২০ কোটি ৬ লাখ টাকা।
এমএএস/এমকেআর