এসবিএসি ব্যাংকের আমানত ১১ হাজার কোটি টাকার ক্লাবে: এমডি মঈনুল কবীর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৫২ পিএম, ০১ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন এসবিএসি ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মঈনুল কবীর/ছবি: জাগো নিউজ

সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স (এসবিএসি) ব্যাংক পিএলসির আমানত ১১ হাজার কোটি টাকার ক্লাবে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মঈনুল কবীর।

বুধবার (১ এপ্রিল) রাজধানীতে এসবিএসি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

এস এম মঈনুল কবীর বলেন, ২০১৩ সালের এপ্রিলে ‘সাউথ বাংলা এগ্রিকালচারাল ব্যাংক’ নামে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলেছে ব্যাংকটি। বর্তমানে ব্যাংকটি এসবিএসি ব্যাংক পিএলসি নামে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

তিনি জানান, বর্তমানে ব্যাংকটির ৯০টি শাখা, ৩২টি উপশাখা, এজেন্ট আউটলেট এবং ৭৭টি এটিএমের মাধ্যমে সারাদেশে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি ১০টি শাখার মাধ্যমে গ্রাহকদের ইসলামী ব্যাংকিং সেবাও দেওয়া হচ্ছে।

ব্যাংকটির আর্থিক সূচক প্রসঙ্গে এমডি বলেন, আমানত, ঋণ ও অগ্রিম, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য, রেমিট্যান্স প্রবাহ, মূলধন, মোট সম্পদসহ অধিকাংশ সূচকেই ব্যাংকটির ইতিবাচক ও স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি রয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকটির মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৮২৪ কোটি টাকা।

এস এম মঈনুল কবীর বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর ব্যাংকটির আমানত প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ। যেখানে পুরো ব্যাংকিং খাতে আমানত ও ঋণের প্রবৃদ্ধি প্রায় ৬ শতাংশের মতো, সেখানে এসবিএসি ব্যাংকের ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।

তারল্য পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, অনেক ব্যাংক বর্তমানে তারল্য সংকটে থাকলেও এসবিএসি ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতি সন্তোষজনক। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর) সীমা ৮৭ শতাংশ হলেও ব্যাংকটি তা ৮১ থেকে ৮৩ শতাংশের মধ্যে রাখছে। এছাড়া ব্যাংকটির অতিরিক্ত তারল্য এক হাজার কোটিরও বেশি। তিনি আরও বলেন, ব্যাংকটি আগ্রাসী বিনিয়োগে না গিয়ে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভালো গ্রাহক নির্বাচন করে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এসবিএসি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সম্পর্কে এমডি বলেন, বোর্ডে দেশের স্বনামধন্য ব্যবসায়ী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ অভিজ্ঞ ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিরা রয়েছেন। তাদের দিকনির্দেশনায় ব্যাংকটি এগিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বিনিয়োগ নীতির বিষয়ে তিনি বলেন, কৃষি, কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ব্যাংকটির মোট বিনিয়োগের প্রায় ৩৪ থেকে ৩৫ শতাংশ এসএমই ও মাঝারি শিল্প খাতে বিনিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া বৈদেশিক বাণিজ্য, কমিশনভিত্তিক আয় এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সেও ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে ব্যাংকটি।

এস এম মঈনুল কবীর বলেন, ব্যাংকটির লক্ষ্য শুধু মুনাফা অর্জন নয়, বরং টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দায়িত্বশীল ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এজন্য গ্রাহকের প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সুশাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য অর্জনের চেষ্টা চলছে।

খেলাপি ঋণের বিষয়ে তিনি বলেন, কোভিড-পরবর্তী বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও বিভিন্ন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণে অনেক গ্রাহক সমস্যায় পড়েছেন। তবে গ্রাহকদের ব্যবসা সচল রেখে কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যাংকটি সহযোগিতা করছে এবং একই সঙ্গে খেলাপি ঋণ আদায়ে কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

ডিজিটাল ব্যাংকিং প্রসঙ্গে মঈনুল কবীর বলেন, গ্রাহকের চাহিদা বিবেচনায় ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গ্রাহকের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অনলাইন লেনদেনে প্রতারণা প্রতিরোধে ব্যাংকটি সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্যাশলেস অর্থনীতির উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যাংকটির ডিজিটাল সেবা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

ইএআর/এমএমকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।