একদিনের ব্যবধানে বিমার বিপরীত চিত্র, বড় পতনে শেয়ারবাজার
দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখানোর পরের কার্যদিবসেই দেশের শেয়ারবাজারে বিমা কোম্পানিগুলোর বিপরীত চিত্র দেখা গেছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রায় সবকটি বিমা কোম্পানির শেয়ার দামে কমেছে। এতে সার্বিকভাবে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচকের বড় পতন হয়েছে। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জও (সিএসই)ও দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচক কমেছে।
এর আগে রোববার দেশের শেয়ারবাজারে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে বড় দাপট দেখায় বিমা কোম্পানিগুলো। ডিএসইতে ৫৬টি বিমা কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে মাত্র দুটির দাম কমে। এতে সার্বিক শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি লেনদেনের গতিও বাড়ে।
এমন পরিস্থিতিতে সোমবার শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ বিমা কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুর দিকে শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু প্রথম ঘণ্টার লেনদেন শেষ হতেই বাজারের চিত্র বদলে যায়। দাম বাড়ার তালিকা থেকে একের পর এক বিমা কোম্পানি দাম কমার তালিকায় নাম লেখায়। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকে। ফলে বিমাখাতের ঢালাও দরপতনের সঙ্গে দাম কমার তালিকা বড় হয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
আরও পড়ুন
বিমার দাপটে বাড়লো সূচক-লেনদেন
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১২৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২১৩টির। আর ৫৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অপরদিকে বিমাখাতের ৬টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ৫০টির দাম কমেছে এবং দুটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৫২টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১২৯টির দাম কমেছে এবং ২২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৩১টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৪১টির এবং ৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪০টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৪৩টির এবং ২৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ২৫টির দাম বেড়েছে এবং ৩টির দাম কমেছে ও ৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৪১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৩০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ২১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৮১ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৫৭ পয়েন্টে নেমে গেছে।
মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৭৯৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৮৩৭ কোটি ১০ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৪৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগের শেয়ার। কোম্পানিটির ৩৫ কোটি ১৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা একমি পেস্টিসাইড’র শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৭ কোটি ১৫ লাখ টাকার। ২৪ কোটি ৯০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সিটি ব্যাংক।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- মনোস্পুল বাংলাদেশ, কেডিএস এক্সসরিজ, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, লাভেলো আইসক্রিম, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, ওরিয়ন ইনফিউশন এবং পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৪১ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৯২ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৪টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৯০টির এবং ১৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৪০ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫৪ কোটি টাকা।
এমএএস/ইএ