প্রাইজবন্ডে কত পুরস্কার, মেয়াদ কত দিন—জেনে নিন
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৪১ পিএম, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
প্রাইজবন্ড অনেকটা লটারির মতো মনে হলেও আসলে তা লটারি নয়। লটারিতে একবার ড্র হয়ে গেলে টিকিটের আর কোনো মূল্য থাকে না, মেয়াদও শেষ হয়ে যায়। জিততে না পারলে পুরো টাকাই হারাতে হয়। কিন্তু প্রাইজবন্ডের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। একবার ড্র হওয়ার পরও এর মেয়াদ শেষ হয় না; পরবর্তী ড্রগুলোতেও এটি কার্যকর থাকে। অর্থাৎ প্রাইজবন্ডের নির্দিষ্ট কোনো মেয়াদ নেই।
একই প্রাইজবন্ড একাধিকবার ড্রতে অংশ নিতে পারে এবং চাইলে নির্দিষ্ট সময় পর তা ভাঙানোও যায়। তবে এতে কোনো সুদ বা লভ্যাংশ পাওয়া যায় না। মূলত প্রাইজবন্ডের মাধ্যমে সরকার জনগণের কাছ থেকে সরাসরি ঋণ গ্রহণ করে এবং গ্রাহক যখন প্রাইজবন্ড নগদায়ন করেন, তখন সেই ঋণ পরিশোধ করা হয়।
অর্থাৎ প্রাইজবন্ডের কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ বা মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ নেই, এটি আজীবন বৈধ এবং মূল টাকা ফেরতযোগ্য। প্রতি ৩ মাস অন্তর (৩১ জানুয়ারি, ৩০ এপ্রিল, ৩১ জুলাই এবং ৩১ অক্টোবর) ড্র অনুষ্ঠিত হয়। পুরস্কার জেতার পর তা দাবির জন্য পুরস্কার বিজয়ী ২ বছরের মধ্যে বন্ডসহ ব্যাংক বা পোস্ট অফিসে আবেদন করার নিয়ম রয়েছে।
প্রাইজবন্ডের মেয়াদ ও ড্র
মেয়াদ: প্রাইজবন্ড আজীবন ভ্যালিড থাকে, অর্থাৎ আপনি যখন খুশি এটি ভাঙাতে পারেন। ড্রয়ে পুরস্কার না জিতলেও মূল টাকা নিরাপদ থাকে এবং যেকোনো সময় ফেরত পাওয়া যায়। তবে ড্রয়ের তারিখ থেকে ২ বছরের মধ্যে পুরস্কারের অর্থ দাবি করতে হয়। আর এ সময়ের মধ্যে দাবি না করলে পুরস্কারের অধিকার বাতিল হয়ে যেতে পারে।
ড্রয়ের তারিখের পূর্বে অন্তত ২ মাস আগে কেনা প্রাইজবন্ড ড্রয়ে অংশগ্রহণের যোগ্য হয়। যেকোনো সময় আপনার বন্ডের নম্বরগুলো মিলিয়ে দেখা যায়। যদি কোনো ড্র-তে ব্যক্তি না জেতেন, তবে পরবর্তী ড্র-তে একই বন্ডে পুরস্কার জেতার সুযোগ থাকে।
এদিকে আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১২৩তম ড্র। এতে প্রথম পুরস্কার বিজয়ী পাবেন ৬ লাখ টাকা। এছাড়া দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে প্রতিজন পাবেন ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা। তৃতীয় পুরস্কার এক লাখ টাকা, চতুর্থ পুরস্কার ৫০ হাজার টাকা এবং পঞ্চম পুরস্কার হিসেবে প্রতিজন পাবেন ১০ হাজার টাকা করে।
প্রাইজবন্ডের ক্ষেত্রে ঘোষিত নম্বরের প্রতিটি সিরিজ একই পুরস্কারের জন্য প্রযোজ্য হয়। অর্থাৎ নির্দিষ্ট নম্বরের সব বন্ডই পুরস্কারের আওতায় আসে। ড্রয়ে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা অনুসরণ করা হয়। ড্রয়ের তারিখ থেকে ৬০ দিন আগে পর্যন্ত বিক্রি হওয়া প্রাইজবন্ডগুলোই এ ড্রয়ের জন্য বিবেচিত হয়। এখানে বিক্রির তারিখ গণনায় ড্রয়ের দিনটি অন্তর্ভুক্ত করা হয় না।
আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী প্রাইজবন্ডে প্রাপ্ত পুরস্কারের ওপর ২০ শতাংশ হারে উৎসে কর কেটে নেওয়া হয়। প্রতিবছর নির্ধারিত চারটি তারিখে ৩১ জানুয়ারি, ৩০ এপ্রিল, ৩১ জুলাই ও ৩১ অক্টোবর প্রাইজবন্ডের ড্র অনুষ্ঠিত হয়। তবে এসব তারিখ সাপ্তাহিক ছুটি বা সরকারি ছুটির দিনে পড়লে পরবর্তী কার্যদিবসে ড্র অনুষ্ঠিত হয়।
কেন কিনবেন প্রাইজবন্ড
প্রাইজবন্ডের ক্ষেত্রে ড্র শেষ হলেও এর মেয়াদ থাকে এবং পরবর্তী ড্রগুলোতেও অংশ নেয়। অর্থাৎ এটি বারবার সুযোগ দেয় এবং চাইলে যেকোনো সময় ভাঙানো যায়। তবে এতে কোনো সুদ বা লভ্যাংশ পাওয়া যায় না। মূলত প্রাইজবন্ডের মাধ্যমে সরকার জনগণের কাছ থেকে ঋণ নেয়, যা পরে বন্ড ভাঙানোর সময় পরিশোধ করা হয়।
উপহার হিসেবেও প্রাইজবন্ড বেশ জনপ্রিয়। নগদ অর্থ দেওয়ার পরিবর্তে এটি একটি ভদ্র ও কার্যকর বিকল্প। বিয়ে, জন্মদিন, মুখে ভাত বা খতনার মতো বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এটি দেওয়া যায়। প্রাপক চাইলে সঙ্গে সঙ্গে ভাঙাতে পারেন বা ভবিষ্যতের ড্রয়ের জন্য রেখে দিতে পারেন।
কোথা থেকে কিনবেন ও ভাঙাবেন
বাংলাদেশ ব্যাংকের অধিকাংশ কার্যালয় (ময়মনসিংহ ছাড়া), শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ব্যতীত অন্যান্য তফসিলি ব্যাংক, সঞ্চয় ব্যুরো অফিস এবং ডাকঘর থেকে প্রাইজবন্ড কেনা ও ভাঙানো যায়। কোনো আবেদন ছাড়াই সরাসরি নগদ অর্থ দিয়ে এটি কেনা সম্ভব।
বিজয়ী হলে নির্ধারিত ফরম (পিবি-২৩) পূরণ করে মূল বন্ডসহ সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে জমা দিতে হয়। সাধারণত দুই মাসের মধ্যে পুরস্কারের অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা হয়ে যায়। এছাড়াও একই স্থানগুলো থেকে প্রাইজবন্ড ভাঙানো যায়।
ইএআর/এমএমকে