প্রস্তাব সিপিডির
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভ্যাট অব্যাহতি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর কমাতে হবে
ইংরেজি মাধ্যমসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টিউশন ফি-এর ওপর আরোপিত ভ্যাট অব্যাহতির পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোর ওপর আরোপিত করপোরেট আয়কর ৫ শতাংশ কমিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
এছাড়া আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রণয়নে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সমন্বিত মুদ্রানীতি ও রাজস্ব নীতি গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছে সিপিডি।
সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দেওয়া বাজেট প্রস্তাবনায় সংস্থাটি আরও বলেছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ কমানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করতে বাস্তবসম্মত বাজেট কাঠামো নির্ধারণ জরুরি।
প্রস্তাবে সিপিডি জানায়, বাজারে প্রতিযোগিতা তদারকি জোরদার ও সরবরাহ ব্যবস্থার নজরদারি বাড়িয়ে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে হবে। একই সঙ্গে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকি, নগদ সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কার্যকারিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
পোস্ট-এলডিসি বাস্তবতায় প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শুল্ক ও প্যারাট্যারিফ যৌক্তিকীকরণ, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বাধ্যবাধকতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শুল্কহার নির্ধারণ এবং প্রত্যক্ষ ভর্তুকি ধীরে ধীরে কমানোর সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। পাশাপাশি অ্যান্টি-ডাম্পিং ও কাউন্টারভেইলিং ব্যবস্থা মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।
বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে ব্যবসা নিবন্ধন, লাইসেন্সিং, কর ও নিয়ন্ত্রক সেবাকে একীভূত করে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ওয়ান-স্টপ সার্ভিস প্ল্যাটফর্ম চালুর জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছে সিপিডি। এছাড়া আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ কমানো এবং ঘাটতি অর্থায়নে ভারসাম্যপূর্ণ উৎস ব্যবহারের ওপর করতে বলা হয়েছে সিপিডির প্রস্তাবে।
এছাড়া জ্বালানি খাতে বড় আকারের নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প, বিশেষত জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক প্রকল্প এড়িয়ে সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ ও সংশ্লিষ্ট উপকরণে কর কমানোর কথা বলা হয়েছে। জলবায়ু মোকাবিলায় জিডিপির অন্তত ১ শতাংশ এবং মোট বাজেটের ১০ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করার প্রস্তাব করেছে সিপিডি। কৃষিখাতে সমন্বিত ডিজিটাল কৃষক ডাটাবেজ ও স্মার্ট কার্ড চালুর মাধ্যমে ভর্তুকি ও সহায়তা কার্যক্রম এক প্ল্যাটফর্মে আনার সুপারিশ করা হয়েছে।
পাশাপাশি ৬০ হাজার কোটি টাকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি টেকসইভাবে অর্থায়নের ওপর গুরুত্বারোপ, স্বাস্থ্যখাতে জনবল বৃদ্ধি ও গ্রামাঞ্চলে নিয়োগ জোরদার এবং শিক্ষা খাতে সব ধরনের উপবৃত্তি বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি।
এসএম/এমকেআর