সমঝোতা স্মারক সই

দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সক্ষমতা বিশ্বে তুলে ধরবে ওপেন সাপ্লাই হাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:১৫ পিএম, ১১ মে ২০২৬
বিজিএমইএ ও ওপেন সাপ্লাই হাবের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর/ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সক্ষমতা ও তথ্যের স্বচ্ছতা বিশ্বদরবারে তুলে ধরবে আন্তর্জাতিক সংস্থা ওপেন সাপ্লাই হাব (ওএস হাব)।

এজন্য সংস্থাটির সঙ্গে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ তার উৎপাদন খাতের তথ্য একটি ওপেন-সোর্স বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে উন্মুক্ত করতে যাচ্ছে।

বিজিএমইএ কার্যালয়ে এক অনলাইন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রোববার (১০ মে) এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। বিজিএমইএয়ের পক্ষে সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান এবং ওপেন সাপ্লাই হাবের পক্ষে সিনিয়র ডাইরেক্টর অব প্রোগ্রামস হান্নাহ লেনেট স্বাক্ষর করেন। 

অনুষ্ঠানে বিজিএমইএয়ের পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, ট্রেড ফেয়ার কমিটির চেয়ারম্যান এম সাজেদুল করিমসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সমঝোতা স্মারকের মূল লক্ষ্য- একটি সমন্বিত ডিজিটাল ডাটাবেস প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিটি পোশাক কারখানার অবস্থান, উৎপাদিত পণ্য তালিকা ও বিশেষ সক্ষমতা আন্তর্জাতিক বাজারে সরাসরি প্রদর্শন করা সম্ভব হবে। এই উদ্যোগ বৈশ্বিক সোর্সিং এবং ব্যবসায়িক সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সমঝোতা স্মারকের আওতায় বিজিএমইএয়ের সদস্য কারখানাগুলোর তথ্য ও অবস্থান ওএস হাবের গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন ম্যাপিং প্ল্যাটফর্মে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড, ক্রেতা ও গবেষকরা সহজেই কারখানাগুলোর সঠিক তথ্য খুঁজে পেতে পারবেন।

এছাড়া, প্রতিটি কারখানাকে ওএস হাবের অ্যালগরিদমের মাধ্যমে একটি ‘ইউনিভার্সাল ওএস আইডি’ দেওয়া হবে। এই ইউনিক আইডির মাধ্যমে বৈশ্বিক পর্যায়ে কারখানাগুলোকে নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা সহজ হবে এবং তথ্যের স্বচ্ছতা ও মানসম্মত উপস্থাপন নিশ্চিত হবে।

আরও পড়ুন
টেক্সটাইল খাত নিয়ে ১৮ জুন শুরু হচ্ছে ‘ইনটেক্স বাংলাদেশ’ প্রদর্শনী
শিপবিল্ডিং খাতে প্রবৃদ্ধি অর্জনে নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ

পাশাপাশি, কারখানার মালিক ও ব্যবস্থাপকদের ডিজিটাল দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে অনলাইন কর্মশালা ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে। এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা নিজেদের ডিজিটাল প্রোফাইল আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হবেন।

চুক্তির অধীনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান বা ইন্টারঅপারেবিলিটি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে একই তথ্য বারবার বিভিন্ন সংস্থাকে দেওয়ার প্রয়োজন কমে যায়। এর ফলে নিরীক্ষা প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর হবে।

বিজিএমইএয়ের সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান বলেন, ‘স্বচ্ছ ও ট্রেসেবল সাপ্লাই চেইন তৈরিতে ওপেন সাপ্লাই হাবের সঙ্গে বিজিএমইএয়ের এই অংশীদারত্ব একটি মাইলফলক। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাসটেইনেবিলিটি-বিষয়ক কঠোর আইনি বাধ্যবাধকতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিবর্তিত শর্তাবলীর প্রেক্ষাপটে নির্ভরযোগ্য ডাটা এখন আর ঐচ্ছিক নয়, বরং অপরিহার্য ব্যবসায়িক প্রয়োজন। এই সমঝোতা স্মারকটি বিশ্ববাজারে আমাদের সদস্য কারখানাগুলোর দৃশ্যমানতা বাড়াবে এবং বাংলাদেশকে একটি টেকসই সোর্সিং গন্তব্য হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করবে।’

অনুষ্ঠানে ওপেন সাপ্লাই হাবের সিনিয়র ডাইরেক্টর অব প্রোগ্রামস হান্নাহ লেনেট বলেন, ‘বিজিএমইএয়ের সঙ্গে এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে আমরা প্রতিটি কারখানাকে একটি ইউনিক ডিজিটাল প্রোফাইল দিচ্ছি, যা কেবল তথ্যের সঠিকতাই নিশ্চিত করবে না, বরং কারখানাগুলোর সামাজিক ও পরিবেশগত উন্নয়নের চিত্র বিশ্বদরবারে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরবে। আমরা বিশ্বাস করি, এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড এবং রিটেইলারদের জন্য সঠিক সোর্সিং সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক হবে এবং বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে আরও আধুনিক ও দায়িত্বশীল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।’

বিজিএমইএয়ের পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী বলেন, ‘সাপ্লাই চেইনের স্বচ্ছতাই টেকসই বাণিজ্যের মূল ভিত্তি। ওপেন সাপ্লাই হাবের সঙ্গে এই উদ্যোগ আমাদের উৎপাদন খাতের সঠিক তথ্য বিশ্বজুড়ে সহজে পৌঁছে দেবে। সিএসথ্রিডির মতো আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো যে ধরনের স্বচ্ছতা ও তথ্যের নিশ্চয়তা দাবি করে, বাংলাদেশ তা পূরণে পুরোপুরি প্রস্তুত।’

এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে একটি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সরবরাহকারী দেশ হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করার সুযোগ পাবে বলে উভয়পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

আইএইচও/একিউএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।