টেক্সটাইল খাত নিয়ে ১৮ জুন শুরু হচ্ছে ‘ইনটেক্স বাংলাদেশ’ প্রদর্শনী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:০০ পিএম, ১১ মে ২০২৬
তিন দিনব্যাপী চলবে ইনটেক্স বাংলাদেশ প্রদর্শনী/ছবি: সংগৃহীত

ইনটেক্স সাউথ এশিয়ার টেক্সটাইল সোর্সিং সিরিজের দেশীয় সংস্করণ ‘ইনটেক্স বাংলাদেশ-২০২৬’ প্রদর্শনী শুরু হচ্ছে আগামী ১৮ জুন। তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনে অংশ নেবেন বৈশ্বিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। এতে গুরুত্ব আরোপ করা হবে টেকসই ও উদ্ভাবনী সোর্সিং সমাধানের ওপর।

রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) ২০ জুন পর্যন্ত প্রদর্শনীটি অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার (১১ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আয়োজকরা জানান, গত ১১ বছরে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও ভারতে ইনটেক্স সাউথ এশিয়া সিরিজের ১৭টি প্রদর্শনী হয়েছে। এবারের প্রদর্শনী বৈশ্বিক টেক্সটাইল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের পোশাক ও টেক্সটাইল প্রস্তুতকারকদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এ আয়োজন বৈশ্বিক পোশাক উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।

প্রদর্শনীতে ভারত, চীন, থাইল্যান্ড, হংকং, তাইওয়ান, উজবেকিস্তান, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের সংশ্লিষ্ট খাতের অগ্রণী প্রতিষ্ঠান ও খাত-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

ভারতের শীর্ষ টেক্সটাইল রপ্তানি উন্নয়ন সংস্থা দ্য কটন টেক্সটাইলস এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিল (টেক্সপ্রসিল), পাওয়ারলুম ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিল (পেডেক্সিল), ম্যানমেড অ্যান্ড টেকনিক্যাল টেক্সটাইলস এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিল (ম্যাটেক্সিল) ও ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনসের (এফআইইও) সহায়তায় প্রদর্শনীতে অংশ নেবে ভারতের শতাধিক প্রতিষ্ঠান। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ফাইবার, সুতা, কাপড় ও মূল্য সংযোজিত টেক্সটাইল পণ্য প্রদর্শন করবে।

আরও পড়ুন
শিপবিল্ডিং খাতে প্রবৃদ্ধি অর্জনে নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ
কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের রাষ্ট্রীয় মজুত গড়ে তোলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

বেসিক কেমিক্যালস ও কসমেটিকস অ্যান্ড ডাইজ এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিলের (কেমেক্সসিল) সহযোগিতায় এবারের আয়োজনে ‘ইনডাইকেম’ নামে রং, রাসায়নিক ও ফিনিশিং সল্যুশনের জন্য বিশেষ প্যাভিলিয়নও থাকছে। এ প্যাভিলিয়নে দক্ষতা বৃদ্ধি ও দায়িত্বশীল উৎপাদন ব্যবস্থাকে সহায়তা করতে টেকসই ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন রাসায়নিক উদ্ভাবন সবার সামনে তুলে ধরা হবে।

টেক্সপ্রসিলের নির্বাহী পরিচালক ড. সিদ্ধার্থ রাজাগোপাল বলেন, ওয়ার্ল্ডেক্স ইন্ডিয়া আয়োজিত ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য ইনটেক্স সাউথ এশিয়া শো আঞ্চলিক টেক্সটাইলের ক্ষেত্রে অংশীদারত্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে টেক্সপ্রসিল ও ওয়ার্ল্ডেক্স ইন্ডিয়ার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায় আয়োজিত ইনটেক্স প্রদর্শনীতে আমরা নিয়মিত বড় প্রতিনিধিদল নিয়ে অংশগ্রহণ করেছি।

ওয়ার্ল্ডেক্স ইন্ডিয়ার নির্বাহী পরিচালক আরতি ভগত বলেন, বিশ্বের পোশাক উৎপাদন খাতে বাংলাদেশ এখন অন্যতম শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। সোর্সিংয়ের ক্ষেত্রে যোগাযোগ এবং শিল্পখাতে সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে এই অগ্রযাত্রায় অবদান রাখতে পেরে ইনটেক্স গর্বিত।

তিনদিনের এ আয়োজনে প্রদর্শনীর পাশাপাশি বিজনেস-টু-বিজনেস ম্যাচমেকিং সেশন, ইন্টারঅ্যাকটিভ বিজনেস ফোরাম ও বিদেশি প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ থাকবে। বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব ও নেটওয়ার্কিং জোরদার করতেই এসব আয়োজন করা হচ্ছে। আয়োজনের পুরো ভেন্যু চারটি হলে ভাগ করা হবে। সেখানে আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল প্যাভিলিয়ন, ভারতের টেক্সটাইল কাউন্সিল প্যাভিলিয়ন, চায়না প্যাভিলিয়ন এবং প্রিমিয়াম ফাইবার ও সুতা প্রদর্শিত হবে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ), বাংলাদেশ-জার্মান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিজিসিসিআই), ইউএস-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ইউএসবিসিসিআই), কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি (সিআইটিআই), তিরুপুর এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ (টিইএ) বিভিন্ন শিল্পসংগঠন ও ব্যবসায়িক চেম্বার এ আয়োজনে সহযোগিতা দিচ্ছে।

ইএইচটি/একিউএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।