পতনের বাজারে চমক দেখালো মুন্নু সিরামিক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:২৬ পিএম, ০৯ মে ২০২৬

গত সপ্তাহজুড়ে দেশের শেয়ারবাজারে দরপতন হলেও, দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখিয়েছে মুন্নু সিরামিক। সপ্তাহের প্রতিটি কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ার দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। এতে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দাম বাড়ার শীর্ষ স্থানটি দখল করেছে এই প্রতিষ্ঠানটি। সপ্তাহের ব্যবধানে শেয়ার দাম ৩২ শতাংশের ওপরে বেড়ে গেছে।

শেয়ার দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়লেও মুন্নু সিরামিকের আর্থিক ভিত্তি খুব বেশি শক্তিশালী নয়। শেষ দুই বছরে কোম্পানিটি নামমাত্র লভ্যাংশ দিয়েছে বিনিয়োগকারীদের। কোম্পানিটির সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে মাত্র ২৪ পয়সা।

এমন আয়ের বিপরীতে বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী মূল্য আয় অনুপাত (পিই) দাঁড়িয়েছে ৩৩৫, যা বাস্তবতার বিচারে অত্যন্ত অস্বাভাবিক। সহজভাবে বলতে গেলে, বর্তমান আয়ের ধারা অপরিবর্তিত থাকলে একজন বিনিয়োগকারীর তার বিনিয়োগ করা মূলধন ফেরত পেতে সময় লাগবে ৩৩৫ বছর।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে ‘বিশেষ চক্র’ বা সংগঠিত গোষ্ঠীর ভূমিকা থাকতে পারে। বিশেষ চক্রের ভূমিকা ছাড়া শেয়ারের এমন দাম বাড়া সম্ভব না। কারণ কোম্পানিটির আর্থিক ভিত্তি খুব বেশি শক্তিশালী নয়। কোম্পানিটি মুনাফায় থাকলেও তার পরিমাণ খুবই সামান্য। আবার লভ্যাংশের ইতিহাসও খুব একটা ভালো না। এমন একটি কোম্পানির শেয়ার দাম ১০০ টাকার ওপরে চলে যাওয়া কিছুতেই স্বভাবিক ঘটনা না।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস লেনদেন শুরু হওয়ার আগে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ৮১ টাকা। সেখান থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে সপ্তাহে শেষে দাঁড়িয়েছে ১০৭ টাকা ২০ পয়সা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে প্রতিটি শেয়ারের দাম বেড়েছে ২৬ টাকা ২০ পয়সা বা ৩২ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

শুধু গত এক মাস নয়, গত ১৩ নভেম্বরের পর থেকেই কোম্পানিটির শেয়ার দাম বাড়ছে। ১৩ নভেম্বর কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিলো ৬৯ টাকা ৯০ পয়সা। অর্থাৎ প্রায় ছয় মাসের ব্যবধানে প্রতিটি শেয়ারের দাম বেড়েছে ৩৭ টাকা ৩০ পয়সা বা ৫৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

শেয়ার এমন দাম এবাবে বাড়া কোম্পানিটির সর্বশেষ প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত নয় মাসের ব্যবসায় শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে মাত্র ২৪ পয়সা। এমনকি সর্বশেষ প্রান্তিকে কোম্পানিটি লোকসানও করেছে। চলতি বছরের জানয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ের ব্যবসায় শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৭ পয়সা।

এদিকে, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত বছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের ২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। তার আগে ২০২৪ সালে ১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি। তবে ২০২৩, ২০২২, ২০২১, ২০২০, ও ২০১৯ সালে ১০ শতাংশ করে নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিলো কোম্পানিটি।

ডিএসইর এক সদস্য বলেন, এক সময় মুন্নু সিরামিক ভালো লভ্যাংশ দিতো। তবে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে কোম্পানিটি নামমাত্র লাভ্যাংশ দিয়েছে। আবার শেষ প্রান্তিকে লোকসান করেছে। এমন কোম্পানির শেয়ার দাম যেভাবে বাড়ছে তা কিছুতেই স্বাভাবিক হতে পারে না। এর পেছনে কোনো বিশেষ চক্র রয়েছে, এটা অনুমান করা যায়। এ ধরনের কোম্পানিটির শেয়ারে বিনিয়োগের আগে বিনিয়োগকারীদের সবর্তকা অবলম্বন করা উচিত।

১৯৮৩ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৩৭ কোটি ৭২ লাখ টাকা। আর শেয়ার সংখ্যা ৩ কোটি ৭৭ লাখ ২৪ হাজার ৩১৭টি। এর মধ্যে ৩০ দশমিক ৫৪ শতাংশ শেয়ার আছে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে। বাকি শেয়ারের মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৫৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং বিদেশিদের কাছে দশমিক ১৩ শতাংশ শেয়ার আছে।

মুন্নু সিরামিকের পরেই গত সপ্তাহে দাম বাড়ার তালিকায় ছিল শিকদার ইন্স্যুরেন্স। সপ্তাহজুড়ে এই কোম্পানিটির শেয়ার দাম বেড়েছে ৩১ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। ২৭ দশমিক ২৭ শতাংশ দাম বাড়ার মাধ্যমে পরের স্থানে রয়েছে মোজাফ্ফর হোসেন স্পিনিং মিলস।

এছাড়া গত সপ্তাহে দাম বাড়ার শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় থাকা-কপারটেকের ১৯ দশমিক ২৮ শতাংশ, রিজেন্ট টেক্সটাইলের ১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ, ন্যাশনাল ফিড মিলসের ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ, এশিয়া প্যাসেফিক ইন্স্যুরেন্সের ১৪ দশমিক ৮১ শতাংশ, অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের ১৪ শতাংশ, টেকনো ড্রাগসের ১২ দশমিক ৯৯ শতাংশ এবং ড্যাফোডিল কম্পিউটারের ১২ দশমিক ৮২ শতাংশ দাম বেড়েছে।

এমএএস/এসএনআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।