শেয়ারবাজারে পতন ঠেকালো বিমা, কমেছে লেনদেন
সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার (১৩ মে) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেশিসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। এরপরও ডিএসইতে বেড়েছে মূল্যসূচক। মূলত বিমা কোম্পানির ওপর ভর করে মূল্যসূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলেছে। মূল্যসূচক বাড়লেও লেনদেনের পরিমাণ কমেছে।
এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলে। লেনদেনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বেশিরভাগ বিমা কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। তবে লেনদেনের শেষদিকে অন্য খাতের বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম কমে যায়। এতে বড় হয় দাম কমার তালিকা।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৫২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১৮৬টির। আর ৫৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অপরদিকে ৪১টি বিমা কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে কমেছে ১৬টার।
এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৮৩টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৯৭টির দাম কমেছে এবং ১৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৩০টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৪১টির এবং ৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩৮টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৪৮টির এবং ৩৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ৩টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ২৪টির দাম কমেছে এবং ৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পরও ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৩ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২৪৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৯০ পয়েন্টে উঠে এসেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৬৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
মূল্যসূচক বাড়লেও পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৮৫৬ কোটি ৯ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ১০১ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ২৪৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিংয়ের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আরডি ফুডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৮ কোটি ৬ লাখ টাকার। ২৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে মুন্নু সিরামিক।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- লাভেলো আইসক্রিম, নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস, এনসিসি ব্যাংক, মেঘনা ইন্স্যুরেন্স, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরি, অ্যাকমি পেস্টিসাইড এবং ভিএফএস থ্রেড ডাইং।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ১৩ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২২৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৫টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১০৫টির এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৩৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২১ কোটি ৫ লাখ টাকা।
এমএএস/এমএএইচ