ইলেকট্রনিক ও গৃহস্থালি সরঞ্জাম খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী তুরস্ক
ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ও গৃহস্থালি সরঞ্জাম (হোম অ্যাপ্লায়েন্স) খাতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে তুরস্ক।নিয়োগ
বুধবার (১৩ মে) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) গুলশান কার্যালয়ে এক আলোচনায় দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধিরা এ আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ সফররত তুর্কিশ ইলেক্ট্রো টেকনোলজি এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (টিইটি) সহ-সভাপতি বুরাক বাসেগমেজলারের নেতৃত্বে সাত সদস্যের বাণিজ্য প্রতিনিধিদল ডিসিসিআইয়ের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেয়। এতে ঢাকায় নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস শেন যোগ দেন।
এসময় ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, দুদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এবং তুরস্কের প্রতিনিধিদলের এ ধরনের সফরের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আগামীতে আরও সম্প্রসারিত হবে।
তিনি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১ দশমিক ০৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যেখানে বাংলাদেশের আমদানি ও রপ্তানির পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৪১৬ দশমিক ৭৬ মিলিয়ন ও ৬৩৪ দশমিক ৫৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
আরও পড়ুন
বিনিয়োগবান্ধব দেশ গড়তে বৃহৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার
মার্চের তুলনায় এপ্রিলে অর্থনীতিতে গতি ফিরেছে
বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে এরই মধ্যে তুরস্কের উদ্যোক্তারা ৭৪ দশমিক ০৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছেন বলে জানান ডিসিসিআই সভাপতি। সেই সঙ্গে তিনি তৈরি পোশাক, চামড়া ও পাদুকা শিল্প, পাটজাত পণ্য, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত পণ্য, ওষুধশিল্প, হালকা প্রকৌশল পণ্য, তথ্যপ্রযুক্তি সেবা ও সফটওয়্যার, হোম টেক্সটাইল এবং ভোগ্যপণ্য প্রভৃতি সম্ভাবনাময় খাতে একক এবং যৌথ বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
আলোচনায় টিইটির সহ-সভাপতি বুরাক বাসেগমেজলার বলেন, ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, জেনারেটরসহ এ ধরনের পণ্যের বাংলাদেশে বেশ চাহিদা রয়েছে। তার দেশের বিনিয়োগকারীরা এখাতে একক ও যৌথ বিনিয়োগে আগ্রহী।
তিনি জানান, চলতি বছরের নভেম্বরে তুরস্কের ইলেকট্রনিক খাতের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে দুদেশের বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ও বিটুবি (বিজনেস টু বিজনেস) সেশনে অংশ নিতে পারবেন, যার মাধ্যমে এ খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে। যা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস শেন বলেন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, যা কাজে লাগাতে দুদেশের উদ্যোক্তাদের সম্পর্ক আরও নিবিড় করতে হবে। দুদেশের উদ্যোক্তাদের বাণিজ্য সহযোগিতা সম্প্রসারণে ঢাকা চেম্বার একটি কার্যকর সেতুবন্ধনের ভূমিকা পালন করতে পারে বলে রাষ্ট্রদূত মত প্রকাশ করেন।
ঢাকা চেম্বারের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী, সহ-সভাপতি মো. সালিম সোলায়মান প্রমুখ এসময় উপস্থিত ছিলেন।
ইএইচটি/একিউএফ