দেশে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে : এফবিসিসিআই


প্রকাশিত: ১২:১৫ পিএম, ১০ জানুয়ারি ২০১৫

টানা অবরোধের কারণে দেশে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যবসায়িদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। তাই দেশের অর্থনীতির স্বার্থে হরতাল-অবরোধ কর্মসূচীর মত নেতিবাচক রাজনৈতিক কর্মসূচী থেকে বিরত থাকতে আইনের আশ্রয় নেওয়া হবে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

শনিবার দুপুরে সংগঠনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি কাজি আকরাম উদ্দিন এ কথা জানান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সামগ্রিকভাবে হরতাল বা অবরোধ কর্মসূচী দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক ক্ষতি ডেকে আনে। বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা যায়, একদিনের হরতাল বা অবরোধে প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়, যার সিংহভাগই হয়ে থাকে ব্যবসায়ীদের। এছাড়া দেশকে মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে উন্নীত করতে হলে অবশ্যই সংঘাত ও নেতিবাচক রাজনৈতিক কর্মসূচী বিশেষ করে হরতাল-অবরোধের মত কর্মসূচী পরিহার করা উচিত। হরতাল-অবরোধ চলাকালীন সময়ে ব্যবসা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক সুদ মওকুফ করার জন্য এফবিসিসিআই এর পক্ষ থেকেও আহবান জানানো হয়।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়,  কাজী আকরাম বলেন, ৫ জানুয়ারি কেন্দ্রিক রাজনৈতিক কর্মসূচী পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত ৯ ব্যক্তির প্রাণহানি, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর, রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত করাসহ বিভিন্ন ধরনের নাশকতার ঘটায় আমরা ব্যবসায়ী সমাজ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। সহিংসতামূলক এ ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতায় সমগ্র দেশে অনিশ্চিয়তা ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা ও উপর্যুপরি অবরোধ কর্মসূচীর জন্য সংকটাপন্ন অর্থনীতি নিয়ে সংগঠনটির পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে দেশব্যাপী ব্যাপক রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রাণহানী ও হতাহতের ঘটনায় গভীর দুঃখ ও সমবেদনা প্রকাশ করা হয়।

কাজী আকরাম জানান, দেশের কাঙ্খিত ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য প্রয়োজন প্রভূত অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী জাতীয় প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য যেখানে আমাদের মোট জিডিপি’র ৩০ শতাংশ বিনিয়োগ নিশ্চিত করা জরুরী সেখানে বর্তমানে বিনিয়োগ মাত্র প্রায় ২৬ শতাংশ। প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ২ হাজার ৮০০কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রয়োজন। এজন্য দেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি জোর দিতে হবে বৈদেশিক বিনিয়োগের উপর। অপ্রতুল অবকাঠামো এবং গ্যাস ও বিদ্যুৎসহ নানাবিধ সীমাবদ্ধতার কারনে এমনিতেই দেশে সন্তোষজনকভাবে বিনিয়োগ আসছে না সেখানে এ ধরনের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বিনিয়োগকে আরো বাধাগ্রস্ত করবে। এই অবস্থায় স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহিত এবং বিদেশী বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনেয়োগ অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।

সংগঠনটির নেতারা আরও জানায়, অবরোধের ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবহন, উৎপাদন এবং পর্যটন  খাত। পরিবহন চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ২ লক্ষেরও বেশী বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান অলস পড়ে রয়েছে। ২০ লাখেরও বেশী পরিবহন শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়ছে। সব মিলিয়ে পরিবহন খাতে দৈনিক প্রায় ২০০ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে।

পরিবহন চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় শুধুমাত্র যাত্রীদেরই ভোগান্তি হচ্ছে না এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে উৎপাদন এবং পণ্য পরিবহন ব্যবস্থায়। পরিবহন না থাকায় কৃষি পণ্য সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে যার কারনে কৃষকবৃন্দ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। কাঁচামাল সরবরাহ না হওয়ায় উৎপাদন কর্মকান্ডও ব্যাহত হচ্ছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্প পুঁজিহারা হচ্ছে। বৃহৎসহ অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থায় ব্যাঘাত ঘটছে। পরিবহন ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে যার প্রভাব পণ্যমূল্যের উপর পড়ছে। জীবন-জীবিকার জন্য সাধারণ জনগণ স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না - তাদের দূর্ভোগ বেড়েই চলছে আশংকাজনকভাবে।  এছাড়া চলমান অবরোধ কর্মসূচীর জন্য দেশের পর্যটন খাতে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

সংবাদ সম্মেলন অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের প্রথম সভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলী, সহসভাপতি হেলাল উদ্দীনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।