রাজস্ব আয়ের মাইলফলকে গ্রামীণফোন
দেশে বৃহত্তর মোবাইল কোম্পানি গ্রামীণফোনের ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব আয় হয়েছে ১০ হাজার ২৭০ কোটি টাকা। সেবা থেকে অর্জিত রাজস্ব বেড়েছে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ এবং গ্রাহকদের ব্যবহার্য ডিভাইস এবং অন্যান্য খাতে রাজস্ব বেড়েছে ১৪ দশমিক ১ শতাংশ।
সোমবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক বিবরণী প্রকাশ করেন গ্রামীণফোনের নব নিযুক্ত প্রধান নির্বাহী রাজিব শেঠি।
রাজিব শেঠি বলেন, ২০১৩ সালে আমরা ৫ কোটি গ্রাহক এবং ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের ঐতিহাসিক মাইল ফলক অতিক্রম করেছি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আয়কর প্রদানের পর ২০১৪ সালে নিট মুনাফা হয়েছে শতকরা ১৯ দশমিক ৩ ভাগ মার্জিনসহ এক হাজার ৯২০ কোটি টাকা। আগের বছর এ অঙ্ক ছিল শতকরা ১৫ দশমিক ২ ভাগ মার্জিনসহ এক হাজার ৪৭০ কোটি টাকা।
আরো জানানো হয়, ২০১৪ সালে শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১৪ দশমিক ৬৭ টাকা যা ২০১৩ তে ছিল ১০ দশমিক ৮৯ টাকা। এর ফলে শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ৩৪ দশমিক ৭ শতাংশ।
তবে ২০১৩ এর ১ সেপ্টেম্বর জিপিআইটির বিক্রয় থেকে আয় এবং কর্পোরেট ট্যাক্স ৫ শতাংশ বাদ দিলে প্রকৃত আয় বৃদ্ধি ১২ শতাংশ।
গত বছর প্রতিষ্ঠানটি ৪৪ লাখ নতুন গ্রাহক পেয়েছে বলেও জানান রাজিব শেঠী। এ হিসেবে বছর শেষে গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৫০ লাখ।
তিনি আরো জানান, জাতীয় গ্রাহক প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৮ শতাংশ হলেও গ্রামীণফোনের প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ দশমিক ৩ শতাংশ। ফলে কোম্পানির মার্কেট শেয়ার ১ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪২ দশমিক ৮ শতাংশ হয়েছে।
রাজীব শেঠি আরও জানান, ২০১৩ এসালে থ্রিজি নেটওয়ার্ক স্থাপন, টুজি নেটওয়ার্কের মানোন্নয়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিনেয়োগ করা হয়েছে এক হাজার ৫২০ কোটি টাকা।
এছাড়া ২০১৩ সালে সরকারি কোষাগারে কর, ভ্যাট, শুল্ক ও লাইসেন্স ফি হিসেবে পাঁচহাজার ৮৯০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, যা কোম্পানির মোট রাজস্ব আয়ের ৫৭ দশমিক ৪ শতাংশ।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১৪ সালের জন্য পরিশোধিত মূলধনের ৬৫ শতাংশ (প্রতিটি ১০ টাকার শেয়ারের জন্য ৬ দশমিক ৫ টাকা) নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে।
এর ফলে ২০১৪ সালের জন্য মোট নগদ লভ্যাংশের পরিমান দাঁড়ালো পরিশোধিত মূলধনের ১৬০ শতাংশ (প্রতিটি ১০ টাকার শেয়ারের জন্য ১৬ টাকা)।
১৮ ফেব্রুয়ারি বার্ষিক সাধারণ সভার পর এই লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের দেওয়া হবে।
এসআই/আরএস/পিআর