করের চাপে পাদুকা শিল্পের ৫০% কারখানা বন্ধ, দাবি প্রস্তুতকারক সমিতির
বাংলাদেশ পাদুকা প্রস্তুতকারক সমিতির সহ-সভাপতি আশরাফ উদ্দিন বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বল্পমূল্যের রিসাইকেল পাদুকা খাতে ভ্যাট অব্যাহতি থাকলেও হঠাৎ ভ্যাট আরোপে শিল্পটি চরম চাপে পড়েছে। সমিতির আওতায় ৫৫০টির বেশি কারখানা রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ এরইমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে বা বন্ধ হওয়ার অবস্থায়।
তিনি বলেন, ২০১৬ সাল থেকে ২০২৫ সালের ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৫০ টাকা বা তার নিচের হাওয়াই চপ্পল ও রিসাইকেল পাদুকার ওপর ভ্যাট অব্যাহতি ছিল। কিন্তু ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি থেকে এই সুবিধা তুলে নেওয়া হয়। বর্তমান বাস্তবতায় ১৫০ টাকার সীমা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন বলেও তিনি মত দেন।
রোববার (৩ মে) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সভাপতি হাজী ফজলু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস আশরাফ উদ্দিন, সাবেক সভাপতি শাখাওয়াত এবং লিগ্যাল অ্যাডভাইজার অ্যাডভোকেট এনামুল হক সুমনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আশরাফ উদ্দিন বলেন, ২০১৬ সালে ডলারের যে মূল্য ছিল, এখন তা অনেক বেড়েছে। একইভাবে ব্যাংক ঋণের সুদের হারও বেড়েছে। আমরা যদিও রিসাইকেল পণ্য তৈরি করি, তবুও কিছু কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। ফলে উৎপাদন খরচ স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে।
তিনি জানান, সমিতির আওতায় ৫৫০টির বেশি কারখানা রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ এরইমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে বা বন্ধ হওয়ার অবস্থায় আছে। এসব কারখানার বেশিরভাগই মাইক্রো ও ক্ষুদ্র পর্যায়ের, যেখানে মালিক নিজেই ব্যবস্থাপনা, হিসাবরক্ষণসহ সব কাজ পরিচালনা করেন। ভ্যাট ব্যবস্থাপনা চালু রাখতে প্রয়োজনীয় জনবল বা সক্ষমতা অনেকের নেই, ফলে চাপের মুখে অনেকেই ব্যবসা বন্ধ করে দিচ্ছেন।
ভ্যাট আরোপের ফলে পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ১০০ টাকার জুতায় ভ্যাট যুক্ত হলে ১১৫ টাকা হয়ে যাবে এটা স্বাভাবিক। এতে নিম্নআয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে এসব পণ্য।
তিনি আরও বলেন, এই শিল্প শুধু ব্যবসা নয়, একটি বড় সামাজিক ও পরিবেশগত ইকোসিস্টেম। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবহৃত প্লাস্টিক ও পুরনো পাদুকা সংগ্রহ করে তা পুনর্ব্যবহার করা হয়। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ রক্ষা হয়, অন্যদিকে নিম্নআয়ের মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়। আজ যদি এই রিসাইকেল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে দেশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কোটি কোটি মানুষের ব্যবহৃত জুতা ও প্লাস্টিক বর্জ্য ডাস্টবিন ও রাস্তায় জমে থাকবে।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আশরাফ উদ্দিন বলেন, আমাদের মূল দাবি ১৫০ টাকা পর্যন্ত রিসাইকেল পাদুকার ওপর ভ্যাট অব্যাহতি পুনর্বহাল করা। এতে লক্ষাধিক শ্রমিকের কর্মসংস্থান রক্ষা পাবে। আর যদি তা না করা হয়, তাহলে এসব শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বে।
তিনি আরও বলেন, উচ্চমূল্যের পাদুকার ওপর সরকার পর্যাপ্ত ভ্যাট পায়, তাই নিম্নমূল্যের পণ্যে ভ্যাট ছাড় দিলে রাজস্বে বড় প্রভাব পড়বে না। বরং এতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা টিকে থাকবে।
ইএআর/এএমএ