২৬শ’ কোটি টাকার সুদমুক্ত বন্ড পাচ্ছে বেসিক ব্যাংক


প্রকাশিত: ০৮:০৫ পিএম, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৬
২৬শ’ কোটি টাকার সুদমুক্ত বন্ড পাচ্ছে বেসিক ব্যাংক

মূলধন ঘাটতি পূরণে রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংক ২ হাজার ৬শ’ কোটি টাকার বন্ড ইস্যু করার সুযোগ পাচ্ছে। ব্যাংকের চাহিদা মতো সুদমুক্ত বন্ড ইস্যু করার এ সুযোগ দিচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিবাচক মতামতের পর অর্থ মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, মূলধন ঘাটতি মেটাতে বেসিক ব্যাংককে বন্ড দেবে সরকার। তবে কি পরিমাণ দেয়া হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

সূত্রে জানা গেছে, এখনো পরিমাণ চূড়ান্ত না হলেও ২৬০০ কোটি টাকার সুদমুক্ত বন্ড ইস্যুর সুযোগ পাচ্ছে বেসিক ব্যাংক। এমনকি খুব শিগগিরই এ বন্ড ইস্যুর অনুমোদন দেয়া হবে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এটাকে (বেসিক ব্যাংক) যখন রেখেছি, টিকিয়ে রাখতে হবে। ব্যাংকটি আর্থিকভাবে দুরবস্থার মধ্যে রয়েছে। বর্তমানে মূলধন ঘাটতি বেড়ে গেছে। মূলধন ঘাটতি কমানোর জন্য কিছু একটা করতে হবে, তাই আমরা বন্ড দেব। কতটা দেব তা এখনো ঠিক করেনি। তবে মূলধন ঘাটতির পুরোটা মেটানো সম্ভব হবে না।’

সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে এ বিষয়ে একটি সার-সংক্ষেপ তৈরি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। অর্থমন্ত্রী অনুমোদন দিলেই পরবর্তী উদ্যোগ নেবে অর্থ বিভাগ।

প্রবল মূলধন সংকটের কারণ দেখিয়ে সম্প্রতি ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকার বন্ড ইস্যু চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করে বেসিক ব্যাংক। বলা হয়, ব্যাংকের মূলধন ঘাটতির কারণে বৈদেশিক বাণিজ্যে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাই মূলধন ঘাটতি পূরণ জরুরি।

বেসিক ব্যাংকের আবেদন আমলে নিয়ে দুই দফা বৈঠক করে মন্ত্রণালয়। বন্ড ছাড়ার ব্যাপারে নেয়া হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের মতামত। মতামতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, মূলধন ঘাটতি পূরণে ব্যাংককে এ ধরণের সুযোগ দিলে কোনো সমস্যা হবে না। এছাড়া বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনও (বিএসইসি) এ ব্যাপারে আপত্তি করবে না বলে আগাম সম্মতি দিয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতামতের পর বন্ড ছাড়ার ব্যাপারে আপত্তি দেখছে না ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

বেসিক ব্যাংকের প্রস্তাবিত বন্ডে নাম হবে- ‘বেসিক ব্যাংক রি-ক্যাপিটালাইজেন বন্ড’। বন্ডের মেয়াদকাল হবে ১০ থেকে ২০ বছর। এর মধ্যে ১০ ও ১৫ বছর মেয়াদি বন্ডগুলোর মূল্য হবে ৮০০ কোটি টাকা করে। আর ২০ বছর মেয়াদি বন্ড হবে ১ হাজার কোটি টাকার।

শুধু এবারই প্রথম নয়, এর আগেও বেসিক ব্যাংকের আর্থিক সংকট মোকাবেলায় সরকারের পক্ষ থেকে তিন দফায় ২ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা দেয়া হয়। প্রথমবার ২০১৪ সালে দুই দফায় ৭৯০ কোটি ও ৪০০ কোটি টাকা এবং গত বছর আরও ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা দিয়েছিল সরকার।

এমইউএইচ/আরএস/জেআইএম