এসএমই শিল্প বিকাশে সমন্বয় বাড়াতে হবে
ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্প (এসএমই) বিকাশে শিল্প মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একইসঙ্গে এসএমই খাতে সরকারের সরাসরি অর্থায়ন সহায়তা বাড়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে। শনিবার রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমিতে (বিবিটিএ)‘বাংলাদেশে এসএমই শিল্প বিকাশে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এ অনুষ্ঠানে এ গুরুত্বারোপ করা হয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নপুষ্ট প্রকল্প বাংলাদেশ ইন্সপায়ারড প্রোগ্রাম-কমপোনেন্ট ৩, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বিবিটিএ যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালায় কেন্দ্রিয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবুল কাশেম, বাংলাদেশ ইন্সপায়ারড প্রোগ্রাম-কমপোনেন্ট ৩-প্রকল্পের টিম লিডার আলী সাবেত, বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই পরামর্শক সুকোমল সিংহ চৌধুরী ও এসএমই এন্ড স্পেশ্যাল প্রোগ্রামস্ বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. আশ্রাফুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে আবুল কাশেম বলেন, দেশে অন্তর্ভূক্তিমূলক অর্থনীতির বিকাশে এসএমই খাতে অর্থায়ন বাড়াতে কেন্দ্রিয় ব্যাংক কাজ করছে। এর ফলে গত কয়েক বছরে সাধারণ মানুষের ব্যাংকিং প্রবেশাধিকার অনেক বেড়েছে।
এছাড়া এসএমই খাতে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং এই শিল্পের উন্নয়নে গণমাধ্যমের গঠনমূলক পরামর্শ কামনা করেন তিনি।
আলী সাবেত বলেন, উন্নয়নশীল অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ এসএমই শিল্পে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়েছে। এরপরও প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নয়ন এখনও হয়নি। এর মূল কারণ হলো- বাস্তবভিত্তিক এসএমই নীতি প্রণয়ন না হওয়া, এসএমই কর্মকাণ্ডে মনিটারিংয়ের অভাব, ব্যাংক সুদহার বেশি এবং এসএমই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব।
এছাড়া ব্যাংক সুদহার কমাতে সরকারি বন্ড এবং সঞ্চয়পত্রের বিদ্যমান সুদহার কমানোর পরামর্শ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে কেন্দ্রিয় ব্যাংকের এসএমই পরামর্শক সুকোমল সিংহ চৌধুরী বলেন, এসএমই শিল্প বিকাশের ক্ষেত্রে বড় অন্তরায় হলো এর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে সমন্বয় না থাকা। যেমন শিল্প মন্ত্রণালয়সহ এসএমই সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান বিসিক, এসএমই ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআরের মধ্যে স্পষ্টত সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। এই শিল্পের বিকাশে এই সমন্বয়হীনতা আগে দূর করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই এন্ড স্পেশ্যাল প্রোগ্রামস্ বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, দেশের মোট উদ্যোক্তার ৯৫ শতাংশ হলো এসএমই উদ্যোক্তা। অথচ বাজেটে এদের প্রনোদনা বা সরাসরি আর্থিক সহায়তার পরিমাণ একেবারে নগণ্য। কেন্দ্রিয় ব্যাংক তহবিল থেকে যে পুনঃঅর্থায়ন সহায়তা দেওয়া হয়, তা এসএমই খাতের মোট ঋণের মাত্র শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। জাপানে এর পরিমাণ ৩ শতাংশ।
উল্লেখ্য, দেশে প্রাতিষ্ঠানিক এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক মিলে মোট এক কোটি ৬০ লাখ এসএমই উদ্যোক্তা রয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংক হিসাবধারী উদ্যোক্তা সংখ্যা ৭ লাখ ৪৫ হাজার। আর চলতি অর্থবছরে এসএমই ঋণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে এক লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা।
আরএস/আরআইপি