কমেছে গরুর মাংসের বিক্রি


প্রকাশিত: ০৯:২৪ পিএম, ২৭ জুন ২০১৭

এবার ঈদে অন্যবাদের চেয়ে গরুর মাংস কম বিক্রি হয়েছে। আর ঈদের ও পরের দিন গরুর মাংস বিক্রি আরও কম হয়েছে। যা অন্যবারের চেয়ে  অনেক কম।

মঙ্গলবার সকাল ও বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মগবাজার, কাটাবন, উত্তর বাড্ডাসহ কয়েকটি মার্কেট এবং কয়েকটি অঞ্চলের পাড়া-মহল্লার দোকান ঘুরে গরুর মাংস বিক্রি কম হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। গরুর মাংস কেজিপ্রতি সাড়ে পাঁচশ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারে যেখানে নিয়মিত ৩৫ থেকে ৪৫টি গরু জবাই হয় সেখানে ঈদের দিন তার চেয়ে অনেক কম গরু জবাই হয়েছে। ঈদের পরের দিন মঙ্গলবার কারওয়ান বাজারে সব মাংসের দোকানই বন্ধ ছিল। সোম ও মঙ্গলবার দুইদিন গরু কম জবাই করলেও মাংসের দাম বাড়েনি।

একই চিত্র দেখা গেছে, মগবাজার চারুলতা মার্কেটের সামনের ছয়টি মাংসের দোকানেও। চারুলতার পাশের পাঁচটি মাংসের দোকান বন্ধ থাকলেও ‘জুটুন মিট’ নামের অপর এক দোকান খোলা ছিল।

‘জুটন মিট’-এর কর্মচারী জলিল মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ঈদের আগের দিন (চাঁদ রাতে) চারটি গরু জবাই হলেও ঈদের দিন কোনো গরু জবাই করা হয়নি। তবে, মঙ্গলবার সকালে একটি গরু জবাই করা হয়েছে।

গরু কম জবাই করার কারণ কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, এবার সবাই মনে করেছিল ঈদের সময় গরুর মাংসের দাম বাড়তে পারে। তাই রমজান মাসের তুলনায় ঈদের পরে গরুর মাংসের কাস্টমার কমে গেছে।

চারুলতা মার্কেট থেকে একটু দূরে গলির ভেতরে ‘মেসার্স ইমন মিট শপ’-এর রফিকুল ইসলাম জানান, আমরা মাংসের দাম বাড়াইনি। আগে পাঁচশ’ ৫০ টাকা ছিল, তার পরে ঈদের দিন এবং আজও একই দামে মাংস বিক্রি করছি।

পূর্ব তেজতুরী বাজারের তেজগাঁও মহিলা কলেজের গলিতে মাংস বিক্রেতা আমীর আলী জাগো নিউজকে জানান, রমজান মাসে গরুর মাংস বেশি বিক্রি হয়েছে। গত বছর রোজার ঈদের দিনেও আটটি গরু জবাই করেছিলাম। গেল বছর ঈদ ও তার পরের দিনে ১৭টি গরুর মাংস বিক্রি করেছিলাম। তবে, এবার সেই ঈদের তুলনায় গরুর মাংস বিক্রি নেই বললেই চলে।

রমজান মাসে রাজধানীজুড়ে মাংসের দাম পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচশ’ টাকা, কোথাও বা তার থেকে কম-বেশি দরে বিক্রি হয়েছে। রাজধানীর শপিং মল ‘সপ্ন’ ও ‘আগোরাতে’ ঘুরেও দেখা গেছে, গরুর মাংসের বিক্রি কম। ‘সপ্ন’ ও ‘আগোরা’ তে পাঁচশ’ ১০ টাকা কেজি গরুর মাংস।

কারওয়ান বাজারের মুরগির দোকানদার আল আমিন জাগো নিউজকে জানান, অন্য বছর ঈদের দিন বা তার পরের দিন মুরগির দাম বাড়লেও এবার দাম একটু কমেছে।

তিনি বলেন, চাঁদরাতের আগের বিকেলে মুরগি আমদানি কম হওয়াই পাইকারি আড়ৎদাররা দাম হাকিয়েছেন বেশি। আমরাও বেশিতে কিনে ধরা খাইছি। কিন্তু ঈদের দিন সকালে হঠাৎ মুরগির আমদানি বেড়ে যাওয়াই দাম কিছুটা কমে গেছে। তিনি জানান, মুরগি এখন অল্প লাভে বিক্রি করতে হচ্ছে।

নিউ ইস্কাটনের দিলু রোডের মাংস দোকানদার মেহেদী হাসান রিপন জাগো নিউজকে জানান, গরুর মাংস সাড়ে পাঁশ টাকা কেজিতে বিক্রি করছি। ঈদের আগের দিন আটটি গরু জবাই করেছিলাম। ঈদের দিন কোকো গরু জবাই করিনি। ভিন্ন খবর মিলছে এই দোকানদারের কাছে। ঈদের পরের দিন (মঙ্গলবার) চারটি গরু জবাই করেছেন তিনি। তবে, মাংক বিক্রি শেষ হয়নি।

বাড্ডা হোসেন মার্কেটের পেছনে ‘হালাল গোস্ত বিতান’ এর কর্ণদার মেহের হোসেন জাগো নিউজকে জানান, ঈদের আগের দিন আটটি গরু জবাই করেছিলাম। ঈদের দিন কোনো গরু জবাই দেইনি। তবে, মঙ্গলবার চারটি গরু জবাই করেছেন। বিকেল পর্যন্ত মাংস বিক্রি শেষ হয়নি। তিনি বলেন, আমার মনে হয় এবারের ঈদে মানুষ গরুর মাংস একটু কম খেয়েছে।

এফএইচ/জেডএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।