ঈদের পরের দিন বেশিরভাগ কাঁচা বাজারই বন্ধ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৩:২২ পিএম, ২৭ জুন ২০১৭

এ যেনো এক অচেনা ঢাকা শহর। রাস্তাঘাটে নেই সারা বছরের মতো যানজট। বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে মানুষের সমাগম হলেও যান চলাচলে নেই তেমন কোনো ভীড়। ঈদের দিনের মতো পরের দিন মঙ্গলবারও ঢাকার অলি-গলি একেবারে ফাঁকা অবস্থায় দেখা গেছে। শহরে লোকজন তুলনামূলকভাবে কম থাকায় বিভিন্ন কাঁচা বাজারে দোকান পাটও রয়েছে বন্ধ।

তবে, মগবাজার, নিউ ইস্কাটন ও তেজতুরী বাজার মহল্লার অলি-গলিতে ভ্যান গাড়ীতে করে এবং খুচরা বাজারে হাতেগোনা কিছু দোকানিকে সবজি বিক্রি করতে দেখা গেছে।

ঈদের আগের দিন অর্থাৎ চাঁদ রাতেই রাজধানীর শপিংমলগুলোসহ বেশিরভাগ দোকান বন্ধ দেখা গেছে। রাজধানীর সবচেয়ে বড় কাঁচা পণ্যের আড়ৎ কারওয়ান বাজারেও ক্রেতা বিক্রেতা শূন্য। যে বাজারের রাস্তায় ট্রাক, পিকআপ, ভ্যান, ঠেলাগাড়ি ও রিক্সার ভীড়ে চলাচল করা দায় হয়ে পড়ে; সেই জায়গা এখন জনমানব শূন্য।

bazer

একই চিত্র চোখে পড়েছে মগবাজারের কলমিলতা মার্কেট ও এলিফ্যান্ট রোড সংলগ্ন কাঁটাবন কাঁচা বাজারেও। ব্যস্ততম এই এলাকায় ঈদের আগের রাতেও ১২টার দিকে দেখা গেছে, ডাব, আনারস, শসা, কাঁচা মরিচ, মিষ্টি কুমড়া, লেবু, পটল, ঢেঁড়শ ও বরবটি বোঝাই ট্রাক থেকে সেগুলো আড়তে নামানো হয়েছে। ওই রাতেই সবজিগুলো সেখান থেকে বিক্রি হয়ে গেছে।

কিন্তু ঈদের দিন রাতে সারাদেশ থেকে তেমন কোনো কাঁচা মালের ট্রাক রাজধানীতে আসেনি। ঈদের আগে নিয়ে আসা সবজি দিয়েই চলছে হাতেগোনা ওইসব দোকানের বিক্রি।

কারওয়ান বাজারের ডাবের দোকানির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের দিন সকাল থেকে রোদের উত্তাপ থাকায় ডাবের চাহিদা ছিল অনেক বেশি। মঙ্গলবারও পাইকারী ও খুচরা ডাব বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। কয়েকজন ডাব বিক্রেতা জানান, তাদের কাছে যে পরিমাণ ডাব আছে, তা বিক্রি করতে তাদের সারা দিন লাগবে না। সোমবার রাতে কোনো ডাব না আসলেও রোববার রাতে নিয়ে আসা ডাব কিনে রেখে বিক্রি করছেন তারা। তবে, ডাবের আকার অনুযায়ী আগের থেকে পাঁচ-দশ টাকা বেশি রাখছেন তারা। অথচ ক্রেতাদের খেতে হচ্ছে বেশ কয়েকদিনের বাসি ডাব।

bazer2

কারওয়ান বাজারের আড়ৎদারের কাছে কাঁচা মরিচের দাম জানতে চাইলে ময়মনসিংহ অধিবাসী সারোয়ার হোসেন জাগো নিউজকে জানান, কাঁচা মরিচ, পাইকারি ৮০ টাকা কেজি, ৫ কেজী পটল একশ ২৫ টাকা, বরবটির কেজি ৪০ টাকা। লেবু ১৫ টাকা থেকে ২০ টাকা হালি; তবে, আকার অনুযায়ী দামের তারতম্যের কথাও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, কাঁচা মরিচ এক দাম নিতে চাইলে ৭২ টাকা পর্যন্ত রাখা যাবে। কিন্তু কাঁচা মরিচের দাম এতো বাড়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোনো কারণ দেখাতে পারেননি।

অপরদিকে ৫ কেজি শসা বিক্রি করা হচ্ছে দেড়শ থেকে দুইশ টাকার মধ্যে। সোমবার রাতে ট্রাক থেকে নামানোর সময় যেমন শসা ছিল তার চেয়ে অনেক ভালো শসা মঙ্গলবার সকালে একশ ৩০ টাকা দর হয়েছে। তবে, খুচরা বাজারে সেই তুলনায় দাম একটু কম। তার পরেও কাঁচা মরিচ ও শসা কিনছেন ক্রেতারা।

bazer

দোকানিরা বলছেন, শসা সব থেকে বেশি বিক্রি হয়েছে। তবে, ডাব এবং আনারসও বিক্রি হয়েছে চোখে পড়ার মতো। পাইকারী শসা বিক্রেতা বরিশাল অধিবাসী জসিম উদ্দিন জাগো নিউজকে জানান, মানুষ ঈদে খাবে কী? শসা, কাঁচা মরিচ, ধনিয়া আর লেবু? আমার কাছে ২৫ বস্তা শসা ছিল; এখন এই কয় বস্তা (শসার বস্তা দেখিয়ে) রয়েছে।

ওই আড়ৎ থেকে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থানার হোসেন্দী বাজারের ব্যবসায়ি আমির আলী ৫ মন শসা কিনেছেন। শসার পাল্লা কতো, জানতে চাইলে আমীর আলী জাগো নিউজকে জানান, ঈদের জন্য এক সঙ্গে ৫ মন শসাসহ আরও কয়েক রকমের কাঁচা সবজি নিতে এসেছি। পিকআপে করে গজারিয়ার হোসেন্দী বাজারে নেয়া হবে এসব সবজি।

এদিকে মাছের বাজারের খবর জানা না গেলেও মাংসের বাজারে আগের ঠিকই রয়েছে। মাছের বাজারে কোনো দোকানি নেই। ঈদের আগের তুলনায় পোল্ট্রি মুরগির দামে খুব বেশি হেরফের হয়নি। কেজি প্রতি ১০ টাকা কমবেশি করে পোল্ট্রি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা থেকে ১৭০ টাকা দরে।

অন্যদিকে প্রতিটি দেশি মুরগি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়, পাকিস্তানি (কক) মুরগি ২২০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরু ও খাসির মাংসের দামও স্থিতিশীল।

এফএইচ/কেএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।