ব্যাংকিং খাতে সুদ হার কমছে


প্রকাশিত: ১০:২৪ এএম, ১৯ মে ২০১৫

বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরদারিতে ব্যাংক খাতে ঋণের সুদ হার কমতে শুরু করেছে। মার্চ মাস শেষে ব্যাংক খাতে সার্বিক সুদ হার দাড়িয়েছে ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। গত ডিসেম্বর মাসে ছিল ১২ দশমিক ৪৬ শতাংশ। আগের বছরের মার্চে সুদ হার ছিল ১৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ স্বীয় বিবেচনায় সুদের হার নির্ধারণ করে থাকে। সুদ হার নীতিমালা বাজারভিত্তিক হলেও জাতীয় অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন অগ্রাধিকার খাতে ঋণের উচ্চসীমা নির্ধারণ করে থাকে। বর্তমানে প্রি-শিপমেন্ট রপ্তানি ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ ও কৃষি ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১১ শতাংশ সুদহার নির্ধারণের নির্দেশনা বজায় রয়েছে। রফতানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) ঋণের সুদ হার কার্যত ৩ শতাংশের কম। ইডিএফ থেকে রফতানিমুখী প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে এ পর্যন্ত ২৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা অর্থায়ন করা হয়েছে।

এছাড়া বায়ার্স ক্রেডিট খাতে ৬ শতাংশ সুদ হারে প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১৬ হাজার কোটি টাকার কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, প্রথম নয় মাসে যার ৭২ শতাংশ বিতরণ করা সম্ভব হয়েছে।

জানা যায়, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং নারী উদ্যেক্তা খাতে পুনঃঅর্থায়ন ঋণের জন্য সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ (বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ৯ শতাংশ) এবং কৃষি খাতে ডাল, তৈলবীজ ও মসলা জাতীয় ফসল চাষে ৪ শতাংশ রেয়াতি সুদ হারে ঋণ প্রদান করা হচ্ছে। গবাদি পশু লালন-পালনের জন্যে অনুরূপ রেয়াতি সুদে এসএমই ঋণ প্রদানের একটি প্রস্তাব বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থমন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছে।

এসএমই খাতে এ পর্যন্ত ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন করা হয়েছে। বৈদেশিক উৎস থেকে ব্যবসায়ীগণ এখন সাশ্রয়ী সুদ হারে (লন্ডন ইন্টারব্যাংক অফার রেট বা লাইবর প্লাস ৩/৪ শতাংশ, কার্যত যা ৫ শতাংশের কম) ঋণ সুবিধা গ্রহণ করতে পারছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক গত পাঁচ বছরে (২০১০-২০১৪) বৈদেশিক উৎস থেকে পাওয়া প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করেছে। এই স্বল্প সুদের ইডিএফ, বায়ার্স ক্রেডিট, কৃষি ঋণ, এসএমই পুনঃঅর্থায়ন ও বৈদেশিক উৎসের ঋণ দেশের আর্থিক বাজারের ঋণের সুদ হার কমাতে সহায়তা করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে আমানতের সুদ হার কমে আসলেও ঋণের সুদ হার সে হারে কমছিলো না। ঋণের সুদ হার ও স্প্রেড কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিবিড় নজরদারি এবং ব্যাংকগুলোর ওপর নৈতিক চাপ অব্যাহত রাখায় এ দুটো সূচকই ধীরে ধীরে কমে বর্তমানে যথাক্রমে ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং ৪ দশমিক ৮৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।


এসএ/আরএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।