ট্যানারির চামড়া কেনা শুরু, লক্ষ্য ৮০ লাখ

আড়তদারদের কাছ থেকে কোরবানির পশুর লবণযুক্ত চামড়া কেনা শুরু করেছে ট্যানারিগুলো। এবার ৮০ লাখ পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হবে। নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতি বর্গফুটে অতিরিক্ত ৫-১০ টাকা দিয়ে চামড়া কিনছেন ট্যানারি মালিকরা।

শনিবার থেকে চামড়া সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এ কার্যক্রম আগামী দেড় মাস চলবে। ট্যানারি মালিক ও আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

দেশব্যাপী বন্যা ও অর্থনৈতিক নানা সমস্যার করণে এবার আগের বছরের চেয়ে ২০ শতাংশ পশু কম কোরবানি হয়েছে। এ বছর এক কোটি পিস কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষমাত্রা থাকলেও ৮০ লাখ সংগ্রহ হবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে ৫০ লাখ গরুর, মহিষ সাড়ে চার থেকে পাঁচ লাখ এবং ২৫ লাখের মতো ছাগল ও ভেড়ার চামড়া রয়েছে।

এ বিষয়ে ট্যানারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ জাগো নিউজকে বলেন, শনিবার থেকে আমরা লবণযুক্ত চামড়া সংগ্রহ শুরু করেছি। নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতি বর্গফুটে অতিরিক্ত পাঁচ থেকে ১০ টাকা বেশি দেয়া হচ্ছে। যেসব কাঁচা চামড়ায় লবণ ভালোভাবে লাগানো হয়েছে এবং মান ভালো সেগুলোতে বেশি দাম দেয়া হবে।

রাজধানীর সবচেয়ে বড় কাঁচা চামড়ার আড়ত পোস্তাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এ চামড়া সংগ্রহ করা হবে। তবে নিয়ম অনুসারে প্রতি বছর কোরবানির চামড়া ১০ শতাংশ বাড়ে কিন্তু এবার কোরবানি কম হওয়ায় তা বাড়েনি। এবার ৮০ লাখ পিস কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করার লক্ষমাত্রা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সব সময় আমরা কোরবানি ঈদের পর ১৫ থেকে এক মাসের মধ্যে কাঁচা লবণযুক্ত চামড়া সংগ্রহ করি। সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের কারণে এবার এক থেকে দেড় মাস সময় লাগবে। এ সময়ের মধ্যে লক্ষমাত্রা অনুযায়ী চামড়া সংগ্রহ করব।

কাঁচা আড়তদারদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিনস মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএইচএসএমএ) সাধারণ সম্পাদক হাজি মো. টিপু সুলতান জাগো নিউজকে বলেন, এবার কোরবানি ২০ শতাংশ কম হয়েছে, তাই ব্যবসা কম। এছাড়া এবার অর্থ সঙ্কটের কারণে কাঁচা চামড়া কিনতে পারিনি। অনেক বেপারি ও মহাজন নিজেরাই চামড়া সংরক্ষণ করেছেন। গত বছর যেখানে ১০ লাখ কাঁচা চামড়া পোস্তায় লবণ দেয়া হয়েছিল, এবার তা নেমে এসেছে সাড়ে চার থেকে সাড়ে পাঁচ লাখে।

তিনি বলেন, শনিবার থেকে ট্যানারি মালিকরা চামড়া কেনা শুরু করেছেন। নির্ধারিত দামের চেয়ে একটু বেশি দিচ্ছেন। তবে গতবারের তুলনায় এবার চামড়ার দাম কম বলে জানান তিনি।

জানা গেছে, সিন্ডিকেটের কারসাজি এবং মৌসুমি ব্যবসায়ী ও ফড়িয়াদের দৌরাত্ম্যে এবার সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কম মূল্যে চামড়া বেঁচাকেনা হয়েছে। কোরবানি পশুর চামড়ার প্রকৃত হকদার এতিম, মিসকিন ও গরিবদের ঠকিয়ে মুনাফা নিচ্ছে ট্যানারি মালিক ও আড়তদাররা।

এবার সরকারিভাবে কোরবানির গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ঢাকায় ৫০-৫৫ এবং ঢাকার বাইরে ৪০-৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া সারাদেশে খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ২০-২২ এবং বকরির ১৫-১৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

কিন্তু নির্ধারিত দামের চেয়ে অর্ধেক দামে কাঁচা চামড়া কিনেছেন বেপারি, ফড়িয়া, মৌসুমি ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা।

বিটিএ’র তথ্য অনুযায়ী, বছরে বাংলাদেশ থেকে ২২ কোটি বর্গফুট চামড়া পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৬৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ গরুর চামড়া, ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ ছাগলের, ২ দশমিক ২৫ শতাংশ মহিষের এবং ১ দশমিক ২ শতাংশ ভেড়ার। এর অর্ধেকের বেশি আসে কোরবানির ঈদের সময়।

এসআই/এএইচ/এমএআর/এআরএস