বোর্ডেই সীমাবদ্ধ দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মূল্য তালিকা
রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে রাজধানীর বাজারগুলোতে মূল্য তালিকার বোর্ড লাগিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। তবে কর্পোরেশনের ঝুলানো বোর্ডে উল্লেখ করা মূল্যের সঙ্গে মিল নেই সিংহভাগ পণ্যের দামের। রাজধানীর হাতিরপুল বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
৫৫ টাকার ছোলা বিক্র হচ্ছে ৬৫ টাকায়, ৪০ টাকার বেগুন ৫০ টাকা, আর কেজিতে ২০ টাকা অতিরিক্ত গুনতে হচ্ছে আদা ক্রয়ে।
বিক্রেতারা নিজেদের মতো করে পণ্যের দাম হাকানোর চিত্র দেখা গেলো এই বাজারে। তবে রমজান মাসে যেসকল পণ্যের চাহিদা বেশি, দাম বেড়েছে শুধুমাত্র সেসব পণ্যেরই।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ডিএনসিসির তালিকায় উল্লেখিত ৩২-৩৬ টাকার ময়দার কেজি বাজারে ৪২ টাকা, ৯৬- ১০৫ টাকার মশুরের ডাল ১১৫ টাকা, ৬৪-৬৮ টাকার মটরের ডাল ৭৪ টাকা, ৩০-৪০ টাকার কাচা মরিচ ৫০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।
ডিএনসিসির মূল্য তালিকার চেয়ে অতিরিক্ত দাম আদায়ের কারণ হিসেবে পাইকারি বাজারকে দায়ী করছেন খুচরা বিক্রেতারা।
হাকিম ব্রাদার্সের মালিক শফিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘রমজানের কারণে এসব পণ্যের চাহিদা অনেক বেশি। এই তুলনায় যোগান কয়েকগুন কম। বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে অতিরিক্ত দাম নিতে হচ্ছে।’
রমজান মাস শুরুর আগে কেন পণ্যের দাম বাড়ছে জানতে চাইলে রশিদ নামে আরেক বিক্রেতা জানান, মজুতদাররা দাম বাড়িয়ে দিয়েছে তাই আমরা মূল্য তালিকা অনুসরণ করতে পারছি না।
যেসব পণ্যের নাম ডিএনসিসির তালিকায় নেই, সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে সেসব পণ্যের দামও। কেজিতে ৫-১০ টাকা বেড়েছে শশা, লেবু, ডাবলী, বেশন ও সকল প্রকার ডালের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। হাতিরপুল বাজারে শশা ৩০ টাকা, লেবু ২০ টাকা, ডাবলী ৬৫ টাকা, বেশন পাওয়া যাচ্ছে ৮০ টাকায়।
এ দিকে স্থিতিশীল রয়েছে আলু, পিয়াজ আর চিনির বাজার। কেজিপ্রতি দেশি পিয়াজের দাম ৪৫ টাকা, ভারতীয় পিয়াজ ৪০ টাকা, আলু ২০ টাকা ও চিনি ৪০ টাকা, মুগ ডাল ১১০, ডিম ৩০ টাকা, পোলাও চাল ৭০ টাকা, দেশি রসুন ৭০ টাকা ও ভারতীয় রসুন ৯০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া হাতিরপুল বাজারে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৪০০ টাকা, বয়লার মুরগি ১৭৫ টাকা, দেশি মুরগির পিস ৪২০ টাকা, পাকিস্তানি মুরগির পিস ৩০০ টাকা। কেজি প্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা করে বেড়েছে জিরা, এলাচসহ প্রায় সব গরম মসলার দাম।
মঙ্গলবার হাতিরপুলের এই বাজার পরিদর্শন করেন ডিএনসিসির মেয়র সাঈদ খোকন। তবে তার পরিদর্শনের পর থেকেই বিক্রেতারা তালিকা মানছেন না বলে অভিযোগ করলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ও হাতিরপুলের স্থানীয় বাসিন্দা জান্নাত আরা।
তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রতিবছর রমজানে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যায়। সরকার লোক দেখানো পদক্ষেপ নিলেও এর ফলোআপ করে না। এবারো ঠিক তাই ঘটেছে।’
এআর/এসকেডি/এআরএস/এমএস