দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২৩ মে চিটাগাং চেম্বার নির্বাচন, ব্যবসায়ীদের সন্তোষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৫৯ এএম, ১৮ মে ২০২৬
ফাইল ছবি

দীর্ঘ জটিলতা, মামলা-পাল্টা মামলা ও একাধিকবার স্থগিত হওয়ার পর অবশেষে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের শতবর্ষী প্রাচীন ব্যবসায়ী সংগঠন দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন। আগামী ২৩ মে (শনিবার) এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সোমবার (১৮ মে) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সাধারণ শাখা বিভাগের পরিচালক (স্থানীয় সরকার) ও নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান মনোয়ারা বেগমের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন-২০২৫ উপলক্ষে অর্ডিনারি ও অ্যাসোসিয়েট গ্রুপের ১৮ জন পরিচালক নির্বাচনে ভোটগ্রহণ আগামী ২৩ মে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আগ্রাবাদ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে নিরবচ্ছিন্নভাবে অনুষ্ঠিত হবে।

চিটাগাং চেম্বারের সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৩ সালের ৩০ মার্চ। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচন ছাড়াই সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর একই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম চেম্বারের প্রশাসকের দায়িত্ব পান তৎকালীন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা। তার এক বছরের মেয়াদ শেষে ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর নতুন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় চট্টগ্রামের অতিরিক্ত কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ নূরুল্লাহ নূরীকে।

পরবর্তীতে তার মেয়াদ শেষ হলে চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি থেকে নির্বাচন কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. মোতাহের হোসেন। ফলে গত ২০ মাসেরও বেশি সময় ধরে প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে চট্টগ্রাম চেম্বারের কার্যক্রম।

এর মধ্যে নির্বাচন নিয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশে পাঁচবার ভোট স্থগিত হয়। এতে সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়। তবে সব বাধা কাটিয়ে নতুন করে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।

তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন একক আধিপত্যের কারণে সাধারণ ব্যবসায়ীরা কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। একই সঙ্গে স্বাধীনভাবে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রেও নানা সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে হয়েছে। তাই ব্যবসায়ীদের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারে এ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করছেন।

নির্বাচনের তারিখ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বার্থ অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন ও শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরস অ্যান্ড টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন।

চট্টগ্রাম চেম্বারের আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন অনুযায়ী, অর্ডিনারি গ্রুপ থেকে ১২ জন এবং অ্যাসোসিয়েট গ্রুপ থেকে ৬ জন পরিচালক সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন। এছাড়া, টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ থেকে সমঝোতার ভিত্তিতে ৬ জন পরিচালক বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

পরে ২৪ জন পরিচালকের ভোটে সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন।

বর্তমানে সংগঠনটিতে সাধারণ সদস্য চার হাজার ১ জন, সহযোগী সদস্য দুই হাজার ৭৬৪ জন, শহর সমিতির সদস্য ৫ জন এবং ট্রেড গ্রুপের সদস্য ১০ জনসহ মোট সদস্য সংখ্যা ৬ হাজার ৭৮০।

এবারের নির্বাচনে দুটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। একটি এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক আমিরুল হকের নেতৃত্বাধীন ‘ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম’। অন্যটি চেম্বারের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম নুরুল হকের নেতৃত্বাধীন ‘সমমনা পরিষদ’।

এমআরএএইচ/এএমএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।