অবৈধ মোটরসাইকেল আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে অভিযানে পুলিশ
অবৈধ মোটরসাইকেল আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে পুলিশ। গত জানুয়ারি মাসে ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল আমদানি ও বাজারজাতকরণের জন্য এসিআই লিমিটেডকে বৈধ প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা করেন আদালত। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। আদালতের এ নির্দেশের ফলে রাজধানীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অভিযান শুরু করে পুলিশ। গত দুইদিনে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করে রমনা থানা।
এ বিষয়ে রমনা থানার এডিসি আজিমুল হক বলেন, অবৈধ আমদানিকৃত মোটরসাইকেল দিয়ে অপরাধমূলক কাজে বেশি ব্যবহার করা হয়। আর পরবর্তীতে অপরাধমূলক কার্যক্রম হলে চিহ্নিত করতে অসুবিধায় পড়তে হয়। এ জন্য আমরা প্রতিনিয়তই অবৈধ আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছি। গত কয়েকদিনও থানা এলাকায় বেশকিছু অভিযান পরিচালনা করেছি। সামনের দিনে আরও অভিযান পরিচলালনা করা হবে।
জানা গেছে, এসিআই লিমিটেডের প্রচলিত মডেলের বাইরে এফজেডএস এফআই ভি ২.০ এবং ফেজার এফআই ভি ২.০ মডেলের মোটরসাইকেল দেশের বাজারে বিপণন করা হচ্ছে। এসব মডেলের মোটরসাইকেলের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আমদানি করছে, যারা বৈধ আমদানিকারক নয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে এসিআই লিমিটেড আদালতে আবেদন করেন। প্রতিষ্ঠানটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে যাচাই-বাছাই করে আদালত পাঁচটি প্রতিষ্ঠান পুশ ইন্টারন্যাশনাল, নিউ সোনারগাঁ মোটরস, আরএন এন্টারপ্রাইজ, পোলারিস টেক লিমিটেড, পাওয়ারপ্যাক ইন্টারন্যাশনালকে ইয়ামাহা মোটরসাইকেল আমদানি ও বিপণনের ক্ষেত্রে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সকল অবৈধ আমদানিকারক কর্তৃক আমদানিকৃত ইয়ামাহা মোটরসাইকেল বাজারজাত, রেজিস্ট্রেশন, মেকার্স কোড ও টাইপ অনুমোদন বাতিল ঘোষণা করে বিজ্ঞ আদালত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
এ বিষয়ে রমনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, আদালত কর্তৃক নিষেধাজ্ঞাকৃত যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার মধ্যে রমনা থানা এলাকায় তিনটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আমরা এসব প্রতিষ্ঠানে যাওয়া শুরু করেছি। আদালতের মাধ্যমে বিষয়টি মেটানো হবে বলে এসব প্রতিষ্ঠান আমাদেরকে জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, বৈধ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সঠিক মূল্য প্রদর্শন করে দেড়শ শতাংশের বেশি শুল্ক প্রদান করে মোটরসাইকেল আমদানি করে। কিন্তু অবৈধ আমদানিকারকরা কম মূল্য দেখিয়ে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ভোক্তাদের প্রতারিত করে। আবার ক্রেতারা কেনার পর সার্ভিস নেয়ার সময় সঠিক সার্ভিসটি পায় না। এমনকি প্রচলিত মডেল না হওয়ার কারণে সঠিক যন্ত্রাংশও পাওয়া যায় না। অনেক সময় অনুমোদিতের চেয়ে বেশি সিসি ও গতির মোটরসাইকেলও আনা হয়।
এমএ/বিএ