নির্বাচনের মাসে অনুমোদন পেল বেঙ্গল ব্যাংক, পিপলস-সিটিজেনকে ‘না’

মো. শফিকুল ইসলাম
মো. শফিকুল ইসলাম মো. শফিকুল ইসলাম , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৩০ পিএম, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮

বিভিন্ন মহলের লবিং ও সরকারের চাপে এই নির্বাচনের মাসে রাজনৈতিক বিবেচনায় বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংককে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মঙ্গলবার রাতে গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় ব্যাংকটির কাগজপত্র যাচই-বাছাই শেষে সন্তুষ্ট হয়ে নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়।

বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম।

পর্ষদে তিনটি ব্যাংকের আবেদনের বিষয়ে এজেন্ডা থাকলেও বাকি দুটি ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার পবিবর্তন ও কর-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ফিরিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দুই ব্যাংক হলো- পিপলস ব্যাংক ও সিটিজেন ব্যাংক।

জানা গেছে, ব্যাংক দুটির প্রস্তাবে ও নথিপত্রে কিছু ঘাটতি ও ত্রুটি রয়েছে। সেগুলো সংশোধন করে দিলেই পর্ষদ অনুমোদন দেবে।

‘বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের’ প্রধান উদ্যোক্তা হলেন বেঙ্গল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন। যদিও শুরুতে ‘বাংলা ব্যাংক’ নামেই অনুমোদনের আবেদন জমা দেয়া হয়েছিল। দেশে তাদের প্লাস্টিক শিল্পসহ বিভিন্ন ব্যবসা রয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মোরশেদ আলমের ভাই।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সভায় তিনটি ব্যাংকের বিষয়ে প্রস্তাব তুলা হয়। এর মধ্যে বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের দেয়া সবগুলো কাগজপত্র দেখে পর্ষদ সন্তুষ্ট হয়েছে। এ ব্যাংকের চূড়ান্ত অনুমোদন (লেটার অব ইনট্যান্ট) আগামী বোর্ড সভায় দেয়া যেতে পরে। অর্থাৎ বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের লাইসেন্স দেয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রস্তাবিত পিপলস ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার পরিবর্তন হয়েছে। নতুন শেয়ারহোল্ডারদের তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করার জন্য সময় দেয়া হয়েছে। আর সিটিজেন ব্যাংকের কয়েকজন উদ্যোক্তার কর বকেয়া আছে। তাদের কর পরিশোধ করে এনবিআর (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) থেকে ছাড়পত্র পেলেই তবে বিষয়টি বিবেচনা করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্ষদ।

দ্য সিটিজেন ব্যাংকের মালিক হলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের মা জাহানারা হক। সিটিজেন ব্যাংকের প্রস্তাবে কিছু ঘাটতি রয়েছে। সেগুলা ঠিকঠাক করে উপস্থাপন করতে নির্দেশনা দেয়া হয় আগের বোর্ড সভায়।

পিপলস ব্যাংকের উদ্যোক্ত চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের বাসিন্দা যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা এম এ কাশেম। শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের জন্য ব্যাংকটির আবেদন করা হয়েছে।

বিধি মোতাবেক, ১০ লাখ টাকা আবেদন ফি দিয়ে নতুন ব্যাংকের জন্য পরিশোধিত মূলধন লাগে ৪০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ উদ্যোক্তাদের ৪০০ কোটি টাকা জোগান দিয়ে নতুন ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে হয়।

আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম মেয়াদে ৯টি ব্যাংকের লাইসেন্স দেয়া হয়। সেগুলোর বেশির ভাগই খারাপ অবস্থার মধ্যে আছে। এরপর সীমান্ত ব্যাংক অনুমোদন দেয়া হয়। সর্বশেষ বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের (বিপিডব্লিউটি) কমিউনিটি ব্যাংক চালুর চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বর্তমানে দেশে ব্যাংকের সংখ্যা ৫৯। এর মধ্যে ৪১টি বেসরকারি খাতের, ৯টি রাষ্ট্রায়ত্ত এবং ৯টি বিদেশি মালিকানার ব্যাংক ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।মঙ্গলবার নীতিগত অনুমোদন পাওয়া বেঙ্গল ব্যাংক কার্যক্রম শুরু করলে বাংলাদেশে মোট ব্যাংকের সংখ্যা দাঁড়াবে ৬০টিতে।

এর আগে ব্যাংকগুলোকে লাইসেন্স দেয়ার জন্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নিজেও কয়েকবার বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে চিঠি লেখেন। অর্থমন্ত্রী সর্বশেষ গত ২৫ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দেন।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। পর্ষদের অন্য সদস্যরা হলেন— জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, অর্থ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক ড. রুশিদান ইসলাম রহমান, ইসলাম আফতাব কামরুল অ্যান্ড কোং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের এ কে এম আফতাব উল ইসলাম এফসিএ এবং বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামালউদ্দিন আহমেদ।

এসআই/জেডএ/এমএস