‘দেইখ্যা লন, বাইছা লন, একদাম দেড়শ’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:০৯ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০১৯

‘দেইখ্যা লন, বাইছা লন একদাম…’ বিক্রেতারা তালে তাল মিলিয়ে এমন হাঁকডাক দেন আর উৎসুক ক্রেতা-দর্শনার্থীরা তাদের চারপাশ ঘিরে তা উপভোগ করেন, রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চলের ফুটপাতে এমন চিত্র হরহামেশাই দেখা যায়।

এবারের ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলাতেও দেখা মিলছে এমন দৃশ্যের। তবে মেলার কোনো ফুটপাতে নয়, স্টল ভাড়া নিয়েই এভাবে পণ্য বিক্রি করছেন চকবাজারের এক ব্যবসায়ী। পণ্যের দিক থেকেও ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কিছুটা পার্থক্য আছে এ ব্যবসায়ীর।

ফুটপাত ব্যবসায়ীরা সাধারণত পোশাক, অথবা খেলনা সামগ্রীর যে কোনো একটি এমন হাঁকডাক দিয়ে বিক্রি করেন। তবে বাণিজ্য মেলায় স্টল ভাড়া নেয়া এই ব্যবসায়ী খেলনা, শো-পিস, রান্নার করার সমগ্রীসহ বিভিন্ন ধরণের পণ্য বিক্রি করছেন। ক্রেতারা যে পণ্যটিই নেন না কেন প্রতিটির জন্য দাম দিতে হবে ১৫০ টাকা।

বাণিজ্য মেলার প্রধান গেট দিয়ে প্রবেশ করে উত্তরদিক ঘেঁষে পূর্বদিকে সামান্য এগিয়ে গেলে দেখা মিলবে ‘মা ইন্টারন্যাশনাল’নামে একটি স্টল। স্টলটির কাছে গেলেই কানে ভেসে আসবে এক যুবক অবিরাম মাইকে বলে যাচ্ছেন- ‘দেইখ্যা লন, বাইছা লন একদাম দেড়শ টাকা।’

DITF-2

স্টলটিতে কথা হয় বিক্রয়কর্মী মো. শরিফের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমাদের স্টলে খেলনা গাড়ি, ট্রেন, বিল্ডিং, পিস্তলের পাশাপাশি রান্না করার ফ্রাইপ্যান, কারিকুকার, পিঠা বানানোর সাচ, পানির বোতলসহ রান্না করার বিভিন্ন সামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে। এর সঙ্গে আছে দেয়াল ঘড়িসহ ঘর সাজানোর বিভিন্ন শোপিচ।

তিনি বলেন, আমরা এখানে যেসব পণ্য ১৫০ টাকায় বিক্রি করছি, এসব পণ্যই বাহির থেকে নিতে গেলে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা লাগবে। চকবাজারে আমাদের পাইকারি দোকান আছে, তাই কম লাভে আমরা মেলাতে পণ্য বিক্রি করছি।

বিক্রি কেমন- জানতে চাইলে শরিফ বলেন, মেলার প্রথমদিকে ক্রেতা-দর্শনার্থী তুলনামূলক কম। এরপরও আমরা ক্রেতা-দর্শনার্থীদের পর্যাপ্ত সাড়া পাচ্ছি। প্রতিদিনই মোটামুটি ভালো বিক্রি হচ্ছে। আশা করছি মেলার আর কিছুদিন গেলে বিক্রি আরও কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।

স্টলটি থেকে খেলনা গাড়ি কেনা ফাতেমা নামে একজন বলেন, ‘যে কোনো পণ্য ১৫০ টাকা, এটা আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। আগে ফুটপাতে এভাবে দাম নির্ধারণ করে পোশাক বিক্রি করতে দেখতাম। কিন্তু বাণিজ্য মেলাতে আগে কখনও এমন দৃশ্য দেখিনি, এবারই প্রথম দেখছি।’

এমএএস/এমএমজেড/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :