দুগ্ধশিল্পের বিকাশে খামারিদের ভর্তুকি দাবি

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:১২ পিএম, ২৩ এপ্রিল ২০১৯

দেশে দুগ্ধশিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দুধের উৎপাদন ব্যয় কমানো, খামারিকে ভর্তুকি প্রদান এবং মানুষকে দুধের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে অবহিত করে দুধ খাওয়ার অভ্যাস বাড়াতে হবে।

খামারিদের প্রশিক্ষণ, স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান, উন্নত জাতের গাভি পালনের মাধ্যমে দুধের উৎপাদন বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তাছাড়া দেশে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে।

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো’র কার্যালয়ে ‘দেশীয় দুগ্ধশিল্পের বর্তমান ও ভবিষ্যত’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে আলোচকরা এসব কথা বলেন। প্রাণ ডেইরি লিমিটেডের সহযোগিতায় এই বৈঠকের আয়োজন করে প্রথম আলো। বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম।

বৈঠকে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. হীরেশ রঞ্জন ভৌমিক বলেন, আমাদের দেশে দুগ্ধশিল্পের বড় অন্তরায় লিটার প্রতি দুধের উৎপাদন ব্যয় বেশি। আরেকটি সমস্যা হচ্ছে গুণগত মান। গুণগত মান প্রশ্নে আপোষ করার সুযোগ নেই। এছাড়া পণ্য বিপণনের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক বাজারের ভূমিকা কম। দেশে প্রাতিষ্ঠানিক বাজারের বিকাশ ঘটলে খামারিরা মানসম্পন্ন দুধ উৎপাদনের ব্যাপারে সচেতন হবেন।

তিনি আরও বলেন, পশুখাদ্য ও দুগ্ধশিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানিরর শুল্ক আরও কমানো ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে শূন্যে নামানোর জন্য প্রতিনিয়ত প্রাণিসম্পদ অধিদফতর কাজ করে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. নাথুরাম সরকার বলেন, দেশের দুগ্ধশিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বিগত দিনগুলোতে পোলট্রিশিল্প উন্নতি করলেও ডেইরি শিল্প সেভাবে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। দেশীয় উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসলে দেশে ডেইরিশিল্প এগিয়ে যাবে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, আমাদের দেশে মাথাপিছু দুধ গ্রহণের পরিমাণ কম। দুধের চাহিদা বাড়বে যদি দুধের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো যায়।

অনুষ্ঠানে প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াস মৃধা বলেন, বাংলাদেশ এক সময় খাদ্য ঘাটতির দেশ ছিল। সমন্বিত উদ্যোগের ফলে খাদ্যে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পেরেছি। দুগ্ধ খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে হলে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি সাইন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. রায়হান হাবীব বলেন, কোল্ড চেইন, সাপ্লাই চেইন ও ভ্যালু চেইনের মধ্যে সমন্বয় করতে পারলে দেশে দুগ্ধশিল্পের বিকাশ ঘটবে এবং দুগ্ধশিল্পের বিদ্যমান সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ এমরান হোসেন বলেন, ভারতে দুধ উৎপাদনে কৃষককে ভর্তুকি দেয়া হয়। কিন্তু বাংলাদেশের কৃষক ভর্তুকি পাচ্ছে না। দেশের মানুষের প্রোট্রিনের চাহিদা পূরণে খামারিরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দুধের উৎপাদন বাড়াতে গরুর জাত উন্নয়নের উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। গরু প্রতি দুধের উৎপাদন বাড়লে এর উৎপাদন ব্যয় কমে যাবে। ফলে ভোক্তারা কম দামে দুধ কিনতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম লস্কর, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) পরিচালক এস এম ইসহাক আলী, জাতীয় দুগ্ধ উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি উম্মে কুলসুম স্মৃতি এবং প্রাণ ডেইরি’র নির্বাহী পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান।

এমবিআর/জেআইএম