রিহ্যাব সভাপতির বিরুদ্ধে এক কোটি টাকা অর্থ তছরুপের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:২০ পিএম, ১৫ নভেম্বর ২০১৯

আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিনের (কাজল) বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ তুলে পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে নতুন কমিটি নির্বাচনের দাবি জানানো হয়েছে।

রিহ্যাব সদস্য ও হ্যাবেলি প্রপার্টি ভেডেলপমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক সংসদ সদস্য লায়ন এম এ আউয়াল গত ১৩ নভেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন পরিচালকের কাছে একটি চিঠি দেন। চিঠিতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

চিঠিতে বলা হয়, রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীদের একমাত্র সংগঠন। কিন্তু রিহ্যাবের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ প্রহসনমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণ করে বিভিন্ন অনিয়ম ও বেআইনি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। টিঠিতে রিহ্যাব সভাপতির কিছু অনিয়ম ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরেছেন এম এ আউয়াল। তার অভিযোগ-

বর্তমান রিহ্যাব পরিচালনা পর্ষদের বোর্ড মিটিং রিহ্যাব সংঘবিধি অনুযায়ী হচ্ছে না। অথচ রিহ্যাবের সংঘবিধির সেভেন এ বিধি অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে বোর্ড মিটিং করা বাধ্যতামূলক।

সম্প্রতি রিহ্যাবের সভাপতি কর্তৃক হিসাব থেকে এক কোটি টাকা নিয়মবহির্ভূতভাবে উত্তোলন করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে রিহ্যাব পরিচালনা পর্ষদের কোনো পূর্বানুমতি নেয়া হয়নি।

ওই পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে রিহ্যাব সদস্য চিঠি দিলেও রিহ্যাব থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি বলে চিঠিতে জানানো হয়েছে।

রিহ্যাব সদস্যের অভিযোগ, রিহ্যাব সংঘবিধি অনুযায়ী, রিহ্যাব সভাপতি পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত রিহ্যাবের স্বার্থে জরুরি প্রয়োজনে ব্যয় করতে পারবেন। কিন্তু এক্ষেত্রে রিহ্যাবের সংঘবিধি নিয়ম মানা হয়নি। বিধায় এটি একটি সাংঘাতিক অনিয়ম বটে।

চিঠিতে বলা হয়, বাণিজ্য সংগঠন কর্তৃক সুষ্ঠু তদন্ত করলে রিহ্যাবের বর্তমান নেতৃবৃন্দের আরও অনেক অনিয়ম ও কুকীর্তি উদ্ঘাটিত হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন কাজল জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমার কাছে এ ধরনের কোনো চিঠির খবর নেই। আমার কাছে কোনো চিঠি দেয়া হয়নি। উনি (লায়ন এম এ আউয়াল) আমাকে দেখাক কীভাবে নিয়মবহির্ভূতভাবে এক কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘উনি (লায়ন এম এ আউয়াল) আসলে কী বুঝাতে চেয়েছেন সেটা আমি টেলিফোনে বলতে পারব না। টাকা উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চেয়ে আমার কাছে কোনো চিঠি আসেনি।’

এ বিষয়ে রিহ্যাব সদস্য ও হ্যাবেলি প্রপার্টি ভেডেলপমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঐশী প্রার্টিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও রিহ্যাব সদস্য মো. আইয়ুব আলী লিখিতভাবে নিয়মবহির্ভূতভাবে এক কোটি টাকা উত্তোলনে বিষয়ে গত ফেব্রুয়ারিতে রিহ্যাব পরিচালনা পর্ষদের কাছে জানতে চিয়েছিলেন। কিন্তু কমিটি কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। এটা আরও অনেক সদস্য মৌখিকভাবে জানতে চেয়েছেন। এটা সবাই জানে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাজউকে না কি এক কোটি টাকা ঘুষ লাগবে, তাই তিনি (আলমগীর শামসুল আলামিন কাজল) ওই টাকা উঠিয়েছেন বলে শুনেছি। কিন্তু কোনো জায়গায় যদি টাকা লাগে আর সেটি যদি পাঁচ লাখ টাকার বেশি হয়, তাহলে সেটা পরিচালনা পর্ষদে আলোচনা করে বোর্ড অনুমোদন দিলে উনি (আলমগীর শামসুল আলামিন) টাকাটা তুলবেন। কিন্তু তিনি কোনো অনুমোদন না নিয়েই বহুদিন আগে এ টাকাটা তুলেছেন।’

এ বিষয়ে বিভিন্ন সদস্য ব্যক্তিগতভাবে চেয়েছেন কিন্তু তিনি কোনো সদুত্তর দেননি বলেও জানান রিহ্যাবের এই সদস্য। তিনি বলেন, ‘বাধ্য হয়ে আমি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের কারণে আমরা এ কমিটি ভেঙে দিয়ে, একটা শুদ্ধ ভোট দিতে চাই। ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন করতে চাই।’

২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর শিল্পপতি আলমগীর শামসুল আলামিন (কাজল) রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনে প্রয়োজনীয় পদের বেশি বৈধ প্রার্থী না থাকায় মনোনয়নপত্র জমা দেয়া প্রার্থীদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে, চট্টগ্রাম রিজিয়নের ছয়জন সদস্য নির্বাচিত হন।

এই কমিটি আগামী দুই বছরের জন্য (২০১৮-২০২০) দায়িত্ব পালন করবেন। কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচিত ২৬ জন পরিচালক এবং চট্টগ্রাম রিজিয়ন থেকে নির্বাচিত তিনজন পরিচালকের মধ্য থেকে অফিস বেয়ারার পদে সাতজনকে চূড়ান্তভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হন আলমগীর শামসুল আলামিন।

এমইউএইচ/এসআর/পিআর