প্রতি কেজি চালে মিলারদের লাভ সাড়ে ৪ থেকে সাড়ে ৯ টাকা!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:১৭ পিএম, ২৬ জানুয়ারি ২০২১

গত তিন বছরে (২০১৭ থেকে ২০১৯) আমন মৌসুমে প্রতি কেজি চালে মিলাররা লাভ করেছেন চার টাকা ৬০ পয়সা থেকে সাড়ে ৯ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের তিন বছর বোরোর চাল প্রক্রিয়া করে এসব মিল মালিকরা লাভ করেছেন চার টাকা ৭০ পয়সা থেকে আট টাকা ২০ পয়সা পর্যন্ত।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) গবেষণায় উদ্বেগজনক এমন তথ্য উঠে এসেছে। চাল, আলু ও পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধির কারণ উদঘাটনের জন্য মাঠ পর্যায়ে এ গবেষণা চালায় বিএআরসি। মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।

গবেষণা বলা হয়েছে, চালের উপজাতসূমহ (বাই প্রডাক্ট) থেকে প্রচুর আয় হচ্ছে মিল মালিকদের। কিন্তু তারা কোনও হিসাবে তা বিবেচনায় আনছেন না। এসব বিবেচনায় নিয়ে এ মুনাফা লক্ষ্য করা গেছে।

গবেষণায় জানানো হয়, প্রতি বছর ধানের প্রকৃত মূল্য কমছে। ফলে সার্বিকভাবে কৃষকদেরই লোকসান হচ্ছে। ১৯৭২ থেকে ২০২০ পর্যন্ত ধানের বাজার মূল্য ৪ থেকে ৫ শতাংশ হারে বাড়লেও এর প্রকৃত মূল্য প্রতি বছর হ্রাস পেয়েছে তিন শতাংশ হারে। এদিকে, ২০০৯ থেকে ২০২০ সময়কালে কেজি প্রতি ধান চাষের ব্যয় তিন শতাংশ হারে বেড়েছে। সবমিলে কৃষকের নিট মুনাফা কমেছে আট শতাংশ হারে।

বিএআরসি বলছে, গত বছর দেশে তিন কোটি ৮৭ লাখ ২২ হাজার টন চাল উৎপাদন হয়েছে। বর্তমানে ধান উৎপাদনের বৃদ্ধির হার ২ দশমিক ৮ শতাংশ, যা জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ২ দশমিক ৪ শতাংশের থেকে বেশি। ফলে প্রতি বছর ৩০ লাখ টন চাল উদ্বৃত্ত থেকে যাচ্ছে।

তারপরও এ বছর চালের অস্বভাবিক দামের কারণ মজুদ প্রবণতা। করোনায় খাদ্য ঘাটতির শঙ্কায় ব্যবসায়ী ও মিল মালিকরা প্রচুর চাল মজুদ করেছিলেন। এ বিষয়ে সরকার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

গবেষণায় আরও বলা হয়, করোনার কারণে কৃষকরাও ধীরে ধীরে চাল বিক্রি করেছেন। তবে তারা ধান ওঠার এক মাসের মধ্যে নিজেদের প্রয়োজনের উদ্বৃত্ত চাল বিক্রি করে দেন। এরপর ব্যবসায়ী ও মিল মালিকরা চাল মজুদ করেন।

এতে বলা হয়, সরকার চাল সংগ্রহ ও যথাসময়ে চাল আমদানি করতে পারেনি। পাশাপাশি যথাযথ হস্তক্ষেপ করতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। এসবের সুযোগ নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। চালে মধ্যস্বত্বভোগী হিসেবে মিলার, আরতদার এবং পাইকাররা অতি মুনাফা করেন।

এছাড়াও মিল মালিক ও ব্যবসায়ীদের আধিপত্য এবং অসম প্রতিযোগিতা, আমনের উৎপাদন ঘাটতি, চাল আমদানি বন্ধ, মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কারণে বেশি পরিমাণে দাম বেড়েছে বলে জানানো হয়েছে গবেষণায়।

এ গবেষণায় দাম নিয়ন্ত্রণে সর্বদা সরকারকে কমপক্ষে সাড়ে ১২ লাখ টন চাল মজুদ ও সর্বনিম্ন প্রতি বছর ২৫ লাখ টন চাল বাজার থেকে সংগ্রহ করার সুপারিশ করা হয়।

এনএইচ/ইএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]