টক্সিক মানুষ আমাদের দ্রুত বুড়ো বানিয়ে দেয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:০৪ এএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছবি: এআই

জীবনে এমন কিছু মানুষ থাকেন, যাদের উপস্থিতি আমাদের মানসিক শান্তি নষ্ট করে দেয়। সবসময় নেতিবাচক মন্তব্য, অযথা সমালোচনা, হেয় করা বা অকারণ চাপ তৈরি করা-এই আচরণগুলোকে আমরা সাধারণত ‘টক্সিক’ বলে থাকি। বিষয়টি কেবল মানসিক অস্বস্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, দীর্ঘদিন টক্সিক সম্পর্কের মধ্যে থাকলে তা শরীরের শরীরের বার্ধক্যকেও ত্বরান্বিত করতে পারে।

বয়স যেভাবে বাড়ে
বয়স বাড়া একটি স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া। তবে শুধু জন্মসনদে লেখা বয়সই সবকিছু নয়, রয়েছে ‘শরীরের বয়স’, যা নির্ধারিত হয় কোষের স্বাস্থ্য, প্রদাহের মাত্রা এবং ডিএনএ-র পরিবর্তনের মাধ্যমে। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ এই শরীরের বয়স বাড়িয়ে দিতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, টক্সিক ব্যক্তির উপস্থিতি আমাদের শরীরে এমন চাপ সৃষ্টি করে, যা বার্ধক্যের গতি বাড়াতে পারে।

প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস আমেরিকা জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী বাইংকিউ লি-এর নেতৃত্বে একটি দল টক্সিক সামাজিক সম্পর্ক ও শরীরে বার্ধক্যের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করেন। গবেষণায় ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ২৩০০-এর বেশি স্বেচ্ছাসেবকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের সামাজিক নেটওয়ার্কে ‘সমস্যাকারী’ বা টক্সিক ব্যক্তির উপস্থিতি চিহ্নিত করা হয়-যারা নিয়মিত চাপ ও মানসিক অস্বস্তির কারণ হন।

tyu

গবেষকরা শরীরের প্রকৃত বয়স বোঝার জন্য ডিএনএ মিথাইলেশনভিত্তিক একটি বিশেষ জৈবিক ঘড়ি ব্যবহার করেন। এই পদ্ধতিতে বোঝা যায়, একজন মানুষের শরীর আসলে কতটা দ্রুত বার্ধক্যের দিকে এগোচ্ছে।গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, কারো সামাজিক পরিসরে প্রতিটি টক্সিক ব্যক্তির উপস্থিতি তার বার্ধক্যের গতি গড়ে প্রায় ১.৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। অর্থাৎ এমন নেতিবাচক সম্পর্ক যত বেশি, শরীরের বয়স তত দ্রুত বাড়তে পারে।

এছাড়া যাদের আশপাশে টক্সিক মানুষ ছিলেন, তাদের জৈবিক বয়স গড়ে প্রায় ৯ মাস বেশি পাওয়া গেছে- তুলনায় তাদের, যাদের জীবনে এমন চাপসৃষ্টিকারী সম্পর্ক ছিল না।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ২৮.৮% সামাজিক নেটওয়ার্কে অন্তত একজন টক্সিক ব্যক্তির উপস্থিতি স্বীকার করেছেন। প্রায় ১০% মানুষের নেটওয়ার্কে দুই বা তার বেশি টক্সিক ব্যক্তি ছিল। মজার বিষয় হলো, টক্সিক বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের প্রভাব টক্সিক জীবনসঙ্গীর তুলনায় বেশি পড়েছে। গবেষকদের মতে, বিবাহের ইতিবাচক দিক-যেমন একাকীত্ব কমানোর মতো কিছু নেতিবাচক প্রভাবকে আংশিকভাবে সামাল দিতে পারে।

uyt

শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব
দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ শরীরে প্রদাহ বাড়ায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমায় এবং হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে। ফলে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। টক্সিক সম্পর্কের কারণে তৈরি হওয়া ক্রনিক স্ট্রেস শরীরকে সবসময় সতর্ক অবস্থায় রাখে, যা কোষের স্বাভাবিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে।

সমাধান কী?
সুস্থ সামাজিক সম্পর্ক আমাদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। তাই যেসব সম্পর্ক নিয়মিত কষ্ট, চাপ বা অবমূল্যায়নের জন্ম দেয়, সেগুলো থেকে দূরত্ব তৈরি করা জরুরি। প্রয়োজন হলে সীমারেখা টানুন, খোলামেলা কথা বলুন অথবা পেশাদার কাউন্সেলিংয়ের সহায়তা নিন।
টক্সিক মানুষ শুধু আমাদের মনই নয়, শরীরকেও দ্রুত ক্লান্ত ও বয়স্ক করে তোলে। সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন চাইলে ইতিবাচক সম্পর্ক বেছে নেওয়াই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর বিনিয়োগ।

সূত্র: সাইকোলজি টুডে

আরও পড়ুন:
আলো জ্বালিয়ে নাকি পুরো অন্ধকার, কীভাবে ঘুমানো স্বাস্থ্যকর? 
জীবনে যেসব সময় চুপ থাকা জরুরি 

এসএকেওয়াই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।