পৃথিবীর প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে যাবে প্রাণ পণ্য : আহসান খান চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৫৪ পিএম, ১৬ মার্চ ২০২১

পৃথিবীর প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ-এর পণ্য পৌঁছে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহসান খান চৌধুরী।

মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় প্রাণ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে নৌ-প্রটোকল চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ থেকে ভারতে নৌপথে খাদ্যপণ্যের পরিবহনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রথম চালান হিসেবে প্রাণ গ্রুপ-এর ৪০ হাজার কার্টন লিচি ড্রিংকস নিয়ে ভারতে গেছে একটি জাহাজ।

পণ্যবোঝাই জাহাজটি নরসিংদীর শীতলক্ষ্যা থেকে যাত্রা শুরু করে দুপুর ১টায়। জাহাজটি নারায়ণগঞ্জ, খুলনার শেখবাড়িয়া হয়ে ভারতে প্রবেশ করবে এবং কলকাতা বন্দরে গিয়ে পৌঁছাবে। ৭১০ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে জাহাজটির গন্তব্যে পৌঁছাতে ৩-৪ দিন সময় লাগবে।

আহসান খান চৌধুরী বলেন, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী আগামী দিনের বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। আজকের দিনটি আমাদের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। প্রধানমন্ত্রী সবসময় চান আমরা যেন নদীপথটাকে ব্যবহার করে পৃথিবীর প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে যেতে পারি। আমার সঙ্গে যখনই তার কথা হয় এবং দিকনির্দেশনা প্রদান করেন, প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলেন, আমরা ভারতে কেমন করছি। তাই আজকের দিন প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই, উনি বাংলাদেশের জন্য স্বপ্ন দেখছেন। আমরা যারা ব্যবসায়ী রয়েছি, উত্তরোত্তর আমরা তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছি।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, নৌপথে কানেক্টিভিটির জন্য নতুন যুগের উন্মোচন হয়েছে আজ। বেনাপোলে ১৫-২০ দিন ধরে ট্রাক আটকে থেকেছে। আমরা আশা করি দুইদিনের মধ্যেই কলকাতায় আমাদের জাহাজটি পৌঁছে যাবে। সামনের দিনগুলোতে প্রাণ যেন আরও সাশ্রয়ী মূল্যে বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষের মাঝে স্থান করে নিতে পারে। প্রাণ ভালো মানের পণ্য বানায়, আশা করি সামনের দিনগুলোতে আরও ভালো করবে। পণ্য রফতানির যোগসূত্রেই প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ পৃথিবীর বুকে আত্মপ্রকাশ করবে এবং বাংলাদেশের পণ্য নিয়ে পৃথিবীর প্রত্যন্ত অঞ্চলে চলে যাবে।

তিনি বলেন, আমরা সবসময় চেষ্টা করছি পৃথিবীকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার জন্য এবং বাংলাদেশের পণ্য যেন পৃথিবীর সব দেশে পৌঁছাতে পারি। পৃথিবীর ১৪৫টিরও বেশি দেশে আমরা পৌঁছে গেছি। আশা করি পৃথিবীর প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রাণ-আরএফএলের পণ্য আগামীতে পৌঁছে যাবে। আমি সবসময় আশাবাদী বাংলাদেশের ব্যাপারে। আমি সবসময় দেখছি নতুন এক বাংলাদেশ।

‘কাশ্মীর থেকে কণ্যাকুমারী অর্থাৎ ভারতের উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত সব জায়গায় কিন্তু আমরা প্রাণ-আরএফএলের পণ্য পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি। আশা করি নৌপরিবহনের মাধ্যমে আমরা আরও প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে আমাদের পণ্য পৌঁছে দিতে সক্ষম হব। প্রধানমন্ত্রী আমাদের উৎসাহিত করেছেন। আমরা আসামে যেতে চাই, আমরা মেঘালয় যেতে চাই। সেখানে আমরা নৌপথে যেতে চাই। আমরা ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেতে চাই। আজ আমাদের যে পণ্য যাচ্ছে সেটি যদি সড়কপথে যেত তাহলে ৪০ কার্টন লাগত। অথচ যে জাহাজে যাচ্ছে সেখানে এখনও সব পণ্য ওঠানোর পরও কিছুটা খালি আছে। আমাদের ব্যবসায়ীদের উৎসাহ দিলে আগামী দিনের স্বপ্নের বাংলাদেশ হবে।’

নিজের ব্যবসায়ী জীবনের কথা তুলে ধরে আহসান খান চৌধুরী বলেন, আমার বাড়ি রাজশাহীর নাটোর। আমি উত্তরবঙ্গের মানুষ। উত্তরবঙ্গে প্রচুর ফল হয়, চাল হয়। আমাদের নাটোরের উৎপাদিত আম ঘোড়াশালে এনে বাংলাদেশ তথা পৃথিবীর প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছি। আমার বাবা প্রথম এসে ঘোড়াশালে ফ্যাক্টরি করেছিলেন। সবাই তখন সহায়তা করেছেন। আমরা এই আম নিয়ে, দিনাজপুরের চাল নিয়ে পৃথিবীর প্রায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে গেছি। আশা করি সামনের দিনগুলোতে আমরা আরও ভালো করব। ভারতে প্রাণের উপস্থিতি ভালো। এই ভালো হলে হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত প্রাণ পৃথিবীতে সর্বশ্রেষ্ঠ কোম্পানি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে না পারে, ততক্ষণ পর্যন্ত ঘোড়াশালবাসীকে প্রাণের জন্য দোয়া করতে হবে।

প্রাণের ফ্যাক্টরিতে এক শিফটে প্রায় ১৫ হাজার ঘোড়াশালের মানুষ কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, বিশেষ অতিথি হিসেবে বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন, নৌপরিবহন সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন, নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আনোয়ারুল আশরাফ খান বক্তব্য রাখেন। 

অনুষ্ঠানে ভিডিওবার্তার মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী।

বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার) এনামুল হক সাগর, নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কমল কুমার ঘোষ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

আইএইচআর/বিএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]