‘দেশের উন্নয়ন বুঝতে চাইলে ভাঙ্গায় চক্কর দিয়ে আসেন’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:১৩ পিএম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২
বক্তৃতা করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম

‘দেশের উন্নয়ন বুঝতে চাইলে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় চক্কর দিয়ে আসতে হবে’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।

তিনি বলেন, ‘মাওয়ায় একটা চক্কর দিয়ে আসেন, মনে হবে যে বিদেশে আছেন। তবে একজন আমাকে বললেন, কিসের মাওয়া? ভাঙ্গার (ফরিদপুরের) মোড় দিয়ে ঘুরে আসেন। কোনো এক কারণে আমি ফরিদপুর গেলাম। ভাঙ্গা যাওয়ার কোনো কারণই ছিল না, তবুও গেলাম। ভাঙ্গায় গেলে মনের ভেতর চেঞ্জ আসবেই। আপনি ভাঙ্গায় একটা চক্কর মারবেন, দেশের উন্নয়ন বুঝতে পারবেন। দেখতে পাবেন দেশ কীভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।’

বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।

আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, ‘মাথার ওপর দিয়ে মেট্রোরেল যাবে, তখন দেশের চেহারাটা কেমন হবে। দেশের সব জায়গাকে এ অবস্থানে নিয়ে যেতে চাই। যাতে ইউরোপের মতো চেহারা চলে আসে দেশের। সে জন্য যদি একটু স্যাক্রিফাইস করতে হয়, সেটা মেনে নিতে হবে।’

তবে করফাঁকি দিয়ে উন্নত দেশ বিনির্মাণ সম্ভব নয় উল্লেখ করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘সবাই কর-মূসক ফাঁকি দিতে চান, আবার উন্নত দেশও চান। কেউ কর দিতে চাচ্ছেন না। ট্যাক্স কেউ দেন না, ভ্যাট কেউ দেন না। দুই মাস ধরে প্রাক-বাজেট আলোচনা হবে। আগেও মিটিং হয়েছে, সেখানে একই দাবি উঠেছে। সামনে যে মিটিং হবে, ওই একই দাবি উঠবে। ট্যাক্স দিতে চাই না, দিতে পারবো না। কিন্তু চাইছেন, দেশটা চকচকে সুন্দর হোক। সেটা তো সম্ভব নয়।’

এদিন ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) ও পুস্তক বিক্রেতা সমিতির সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন এনবিআর চেয়ারম্যান। সংগঠনগুলো বিভিন্ন খাতে কর ছাড়ের প্রস্তাব দেন।

জবাবে রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, করের টাকায় দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে। এজন্য সবাইকে সামান্য ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।

বিভিন্ন দাবি জানিয়ে পুস্তক বিক্রেতা সমিতির উপদেষ্টা ওসমান গনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রণোদনা দিয়েছেন। কিন্তু নানা জটিলতায় প্রকাশনা ব্যবসায়ীরা পাননি। আমদানি করা কাগজের দাম বাড়ছেই। আমদানিতে কর অব্যাহতি দেওয়া হলে কাগজের দাম কমবে।

সংগঠনের সহ-সভাপতি মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘কাগজের দাম লাগামহীনভাবে বাড়ছে। এটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে জানি না। বিদেশি কাগজ আমরা ব্যবহার করতে পারি না। কারণ ওটার ওপর বেশি ট্যাক্স থাকায় দাম বেশি। দেশে উৎপাদিত কাগজের দাম কীভাবে কমানো যায় এবং বিদেশি কাগজ আমদানিতে ট্যাক্স ফ্রি অথবা ন্যূনতম ট্যাক্সে আনা যায়, সেই বিষয়টি এনবিআর চিন্তা-ভাবনা করছে।’

ই-ক্যাব সভাপতি শমী কায়সার বলেন, ই-কমার্সে পাঁচ লাখ মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান হচ্ছে। এ খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আসছে। প্রতি বছরই এনবিআর ই-ক্যাবকে সাহায্য করছে। কিছু উদ্যোক্তার নেতিবাচক প্র্যাকটিসের কারণে এ খাতে ক্ষত তৈরি হয়েছে। তবে ৯৮ শতাংশ উদ্যোক্তা সততার সঙ্গে এ সেক্টরে ব্যবসা করছেন।’

এসময় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের অফিস, গোডাউন, সর্টিং হাউজ ভাড়ার ওপর ভ্যাট রহিত করা, ই-কমার্স থেকে পণ্য কেনার ক্ষেত্রে মার্চেন্ট-ভেন্ডরকে পাওনা পরিশোধের ক্ষেত্রে আয়কর কর্তনের বিধান রহিত করার প্রস্তাব করে ই-ক্যাব।

আলোচনায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনবিআর কাস্টমস সদস্য (শুল্কনীতি) মাসুদ সাদিক, সদস্য (আয়করনীতি) সামস উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

এসএম/এএএইচ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।