সিএমএসএফে অর্থ-শেয়ার জমা নিয়ে অডিট কমিটির অসন্তোষ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:৩৯ এএম, ১৪ মে ২০২২

ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে (সিএমএসএফ) অর্থ ও শেয়ার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমা না হওয়ায় ফান্ডের অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস ম্যানেজমেন্ট কমিটি (এএএমসি) ইস্যুয়ার কোম্পানিগুলোর প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। ফান্ডের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর দীর্ঘদিনের অবণ্টিত লভ্যাংশের বিপুল পরিমাণ অর্থ ও শেয়ার এ ফান্ডে আসার কথা থাকলেও এখনও পর্যন্ত ৪৬০ কোটি টাকা এবং বর্তমান মার্কেট ভ্যালুতে ৩৩৮ কোটি টাকার সমপরিমাণ শেয়ার এই ফান্ডে জমা হয়েছে যা খুবই নগণ্য।

নিরপেক্ষ অডিট কমিটির এক সভায় কমিটির প্রধান অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রউফ বলেন, ২০২২ সালের ৩১ মে পর্যন্ত বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে ইস্যুয়ার কোম্পানিগুলো সিএসএফের ফান্ডে অর্থ ও শেয়ার ট্রান্সফার না করলে, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে নিয়ম অনুযায়ী যে অর্থ ও শেয়ার এই ফান্ডে আসার কথা তা কিভাবে আনা যায় সে বিষয়ে মনিটরিংসহ সার্বিক তত্ত্বাবধান করা হবে।

অডিট কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হচ্ছেন- ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) এর সদস্য এ কে এম দেলোয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম এ মহি, বাংলাদেশ নৌবাহিনী (অবসরপ্রাপ্ত) সিনিয়র ফিন্যান্স কন্ট্রোলার শাহেদা খানম, সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিসিবিএল) পরিচালক মুহাম্মদ তাজদিকুল ইসলাম। সভায় এদের সবাই আবদুর রউফের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর দীর্ঘদিনের অবণ্টিত লভ্যাংশের বিপুল পরিমাণ অর্থ রয়েছে। এই অর্থ একসঙ্গে করে বাজারের উন্নয়নকাজে লাগাতে বিএসইসি ‘ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড’ নামে বিশেষ এই তহবিল গঠন করে। সেই সঙ্গে ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড রুলস, ২০২১ গ্রেজেট আকারে প্রকাশ করে।

ফান্ডটির রুলস অনুসারে তা পরিচালনার জন্য ১০ সদস্যের একটি শক্তিশালী কমিটি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বর্তমানে এই ফান্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।

সিএমএসএফ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থরক্ষা ও একটি দক্ষ পুঁজিবাজার গঠনে কাজ করে যাচ্ছে। সিএমএসএফ তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ ইস্যুকারীর কাছ থেকে অদাবি করা ও অবণ্টিত নগদ বা স্টক ডিভিডেন্ড (লভ্যাংশ), অফেরত পাবলিক সাবস্ক্রিপশনের অর্থ ও অ-বরাদ্দ করা রাইট শেয়ার স্থানান্তর করার মাধ্যমে প্রাপ্ত বিনিয়োগকারীদের পক্ষে নগদ এবং স্টকের অভিভাবক হিসেবে কাজ করছে।

পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নির্দেশে দেশের সরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) এর মাধ্যমে স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। পুঁজিবাজারের সেকেন্ডারি মার্কেটে তারল্য প্রবাহ নিশ্চিত করতেই এই অর্থ বিনিয়োগ করা হয়।

বাজার স্থিতিশীলতায় সিএমএসএফ ‘আইসিবি এএমসিএল সিএমএসএফ গোল্ডেন জুবিলি মিউচুয়াল ফান্ড’ নামে একটি ক্লোজড অ্যান্ড মিউচুয়াল ফান্ড গঠন করেছে। এই ফান্ডের আকার ১০০ কোটি টাকা, যার ইউনিট প্রতি অভিহিত মূল্য ১০ টাকা। সিএমএসএফ এখানে স্পন্সর হিসেবে ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে।

এছাড়াও বিনিয়োগকারীদের দাবি নিষ্পত্তি এই ফান্ডের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সিএমএসএফ কার্যক্রম শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে মোট ২২ লাখ ৯৬ হাজার ৮৮০ টাকার অমীমাংসিত দাবি নিষ্পত্তির আবেদন গ্রহণ করেছে এবং ২১ লাখ ৩৩ হাজার ২২৬ টাকার দাবি নিষ্পত্তি করেছে যা মোট দাবির ৯৩ শতাংশ।

সিএমএসএফ চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেন, আমরা পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতায় কাজ করছি। পাশাপাশি ক্যাডার ও বিনিয়োগকারীদের বৃহত্তর স্বার্থ নিশ্চিত করার নিমিত্তে যথাযথ যাচাই সাপেক্ষে অবিলম্বে দাবি নিষ্পত্তির জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমরা দৃঢ় বিশ্বাস রাখি, সিএমএসএফর কার্যক্রমের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

এমএএস/এমপি/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]