আবাসন মেলা
এবারের দামে আগামী বছর ফ্ল্যাট মিলবে না
ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) সংক্রান্ত রাজউকের নতুন নীতিমালার কারণে নতুন ভবনগুলোর আয়তন সংকুচিত হয়ে আসছে। এতে ভবনে ফ্ল্যাটের সংখ্যা আগের চেয়ে কমছে। একইসঙ্গে নির্মাণসামগ্রীর চড়া দামের কারণে আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা আগের মতো নতুন প্রকল্প শুরু করতেও পারছেন না। সবমিলিয়ে সামনের বছরে আরও বাড়তে পারে ফ্ল্যাটের দাম।
এজন্য আবাসন মেলায় বিক্রেতারা ক্রেতাদের সবার আগের জানাচ্ছেন, ‘এবারের দামে আগামী বছর আর ফ্ল্যাট মিলবে না।’

বুধবার (২১ ডিসেম্বর) শুরু হওয়া ‘রিহ্যাব ফেয়ার ২০২২’-এ আবাসন খাতের বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হওয়া পাঁচ দিনব্যাপী এ মেলা চলবে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এবারের মেলায় ১৮০টি স্টল রয়েছে। দেশসেরা আবাসন কোম্পানি ছাড়াও মেলায় নির্মাণসামগ্রী বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ও অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানের স্টল রয়েছে।
প্রথম দিনে মেলা ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। কোম্পানিগুলোর নানা অফার ও মূল্যছাড় মেলায় আসাদের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন দামের অ্যাপার্টমেন্ট ও প্লট নিয়ে এসেছেন আবাসন খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো। মেলায় কেউ কিনছেন। কেউ আবার ঘুরে-ফিরে দেখছেন। মেলায় রয়েছে মান ও আয়তন যাচাই-বাছাই করে বুকিং দেওয়ার সুবিধা।
মেলায় আসা দর্শনার্থী হোসেন সাব্বির জাগো নিউজকে বলেন, সংখ্যা বাড়লেও এখনো মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে প্লট ও ফ্ল্যাট। তবে মেলার কারণে প্লট বা ফ্ল্যাটে মূল্যছাড় রয়েছে। সেসব সুবিধায় কিছু মিলে গেলে নেওয়া যাবে। আবার ঋণের ক্ষেত্রেও বিশেষ সুবিধা মিলছে। সেজন্য দেখছি, কিছু হয় কি না।
এদিকে, মেলায় কথা হয় শেলটেক-এর হেড অব অপারেশন শাহজানের সঙ্গে। তিনি জানান, এ মেলা উপলক্ষে শেলটেকের যেকোনো ফ্ল্যাটে ১০ লাখ টাকা ছাড় দিচ্ছে।
বর্তমানে ফ্ল্যাটের দাম কেমন এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন যেটুকু বেড়েছে, ড্যাপ-সংক্রান্ত রাজউকের নতুন নীতিমালার কারণে আগামী বছর আরও বাড়বে। কারণ মোহাম্মদপুরেই আগে যে জমিতে ১০ তলা বাড়ি হতো, এখন সেখানে পাঁচতলা করতে হবে। তাতে ভবনে ফ্ল্যাট কমবে। খরচ হবে দ্বিগুণ।

পাশাপাশি নির্মাণসামগ্রীর চড়া দামের কথা বলেছেন মেলায় আসা অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, বর্তমানে যে ফ্ল্যাটগুলো বিক্রি হচ্ছে, সেগুলো যদি এক বছর আগের হয় তবে সেসময় রড়ের দাম আরও ২০ হাজার টাকা কম ছিল। এখন ৯০ হাজার টাকা হয়েছে। আগামীতে কত হবে সেটা বোঝার উপায় নেই। সিমেন্টসহ অন্যান্য সামগ্রীর দামও একইভাবে বাড়ছে। সেজন্য কিনতে ইচ্ছুক ক্রেতারা যত আগে কিনবেন, ততই কমে কিনতে পারবেন।
ফ্ল্যাটের মতো বাণিজ্যিক ভবনের বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোও এসেছে মেলায়। সেখানে ১০টি বাণিজ্যিক প্রকল্পের প্রচারণা করছে প্রসাদ নির্মাণ লিমিটেড।
কোম্পানির পরিচালক (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং) জাবির আবদুল্লাহ জাগো নিউজকে বলেন, গত তিন বছরে নির্মাণসামগ্রীর দামের কারণে আমাদের প্রকল্পগুলোর নির্মাণ খরচ প্রায় ৭০ শতাংশ বেড়েছে। সারা দেশে আমাদের কমার্শিয়াল ভবন, হোটেল রিসোর্টের মতো ১০টি বাণিজ্যিক প্রকল্পেরই একই অবস্থা।
তিনি বলেন, তারপরেও আমাদের বাণিজ্যিক প্রকল্পগুলো অত্যন্ত আকর্ষণীয় বলে ক্রেতা আসছেন। তাদের চাহিদা ও সামর্থ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চেষ্টা করা হচ্ছে বিক্রির।
এদিকে, মেলায় রয়েছে বেশকিছু অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান। তারা জানায়, সাড়ে ৮ শতাংশ সুদে প্রায় দুই কোটি টাকা পর্যন্ত লোন দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

মেলায় এসেছে বেশকিছু নির্মাণসামগ্রী বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানও। আরএকে সিরামিকের ব্র্যান্ড অ্যান্ড প্রোডাক্ট ডেভলপমেন্ট ম্যানেজার মাহমুদুর রহমান বলেন, নিজস্ব শো-রুমের বাইরে আমাদের পণ্যগুলো ডিসপ্লের সুযোগ খুব কম। কিন্তু এ মেলায় যারা এসেছেন, তাদের অধিকাংশই আমাদের ক্রেতা। সেজন্য নতুন নতুন সামগ্রীগুলো প্রদর্শন করা হচ্ছে।
অ্যান্ট্রি টিকিট ও র্যাফেল ড্র
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলছে মেলা। প্রতি বছরের মতো এ বছরও মেলায় দুই ধরনের টিকিট থাকছে। একটি সিঙ্গেল অ্যান্ট্রি এবং অন্যটি মাল্টিপল অ্যান্ট্রি। সিঙ্গেল টিকিটের প্রবেশমূল্য ৫০ টাকা। আর মাল্টিপল অ্যান্ট্রি টিকিটের প্রবেশমূল্য ১০০ টাকা।
মাল্টিপল অ্যান্ট্রি টিকিট দিয়ে একজন দর্শনার্থী মেলায় পাঁচবার প্রবেশ করতে পারবেন। অ্যান্ট্রি টিকিটে পাওয়া সম্পূর্ণ অর্থ দুস্থদের সাহায্যার্থে ব্যয় করা হবে। অ্যান্ট্রি টিকিটের রাফেল ড্রতে থাকছে আকর্ষণীয় পুরস্কার। প্রতিদিন মেলা শেষে রাত ৯টায় রাফেল ড্র হবে। পাঁচদিনেই রাফেল ড্রতে থাকবে আকর্ষণীয় পুরস্কার।
এনএইচ/এএএইচ/জিকেএস