সিন্ডিকেট করে মুরগির বাজার লুটকারীদের শাস্তি দাবি ক্যাবের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৩১ পিএম, ৩০ মার্চ ২০২৩

যেসব অসাধু ব্যবসায়ী ব্রয়লার মুরগির বাজারে সিন্ডিকেট তৈরি করে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। অন্যথায় সারাদেশে মানববন্ধন এবং প্রতিবাদ সভা করা হবে বলেও জানিয়েছে তারা।

বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ব্রয়লার মুরগিসহ নিত্যপণ্যের কারসাজিতে দায়ীদের শাস্তির দাবিতে এক মানববন্ধনে সরকারের প্রতি এ দাবি জানায় ভোক্তার অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনটির নেতারা।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংগঠনটির সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ।

ক্যাবের সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ব্রয়লার মুরগির বাজারে সিন্ডিকেট তৈরি করে অসাধু ব্যবসায়ীরা ভোক্তাদের পকেট কেটে হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। শুনেছি প্রতিযোগিতা কমিশনে সিন্ডিকেট তৈরিকারী করপোরেট কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তবে মামলার মেরিট কোন দিকে যাচ্ছে, ভবিষ্যৎ কী হবে তা নিয়ে আমরা সন্দিহান। আমার চাই প্রতিযোগিতা কমিশনের এ বিষয়ে পরিষ্কার করা দরকার।

তিনি আরও বলেন, ব্রয়লার মুরগির সিন্ডিকেট যারা করেছে তাদের নাম সরকারের কাছে পৌঁছেছে। এখন সরকারের উচিৎ তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া। আমাদের দাবি একটাই, যারা ব্রয়লার মুরগিসহ নিত্যপণ্যের কারসাজিতে দায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের শাস্তির আওতায় আনা হোক। প্রতীকী মামলা দিয়ে যেন পার পাইয়ে দেওয়া না হয়।

সিন্ডিকেট করে মুরগির বাজার লুটকারীদের শাস্তি দাবি ক্যাবের

তিনি বলেন, এ মানববন্ধনের পর যদি সরকার ব্যবস্থা না নেয় তবে ক্যাবের পক্ষ থেকে সারাদেশে প্রতিবাদ সমাবেশ, মানববন্ধন করা হবে।

ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া বলেন, পণ্যের দাম বাড়িয়ে ভোক্তার কষ্টের টাকা লুণ্ঠন করেছে তাদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ব্রয়লার মুরগি বাংলাদেশের বাজারে অনেকের চেহারা উন্মোচন করে দিয়েছে। জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এর আগে প্রমাণ করে দিয়েছে একটি ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন করতে কত টাকা খরচ হয় এবং বাজারে কতো টাকা বিক্রি হয়। এ একটা ঘটনার মধ্যে দিয়ে কী পরিমাণ টাকা লুটপাট হয়েছে তা আমরা বুঝলাম। সরকারের সংস্থায়ই এটা প্রমাণ করেছে।

তিনি বলেন, ব্রয়লার মুরগির আড়ালে চিনি সিন্ডিকেট আড়াল হয়ে গেল, ব্রয়লার মুরগির আড়ালে বড় বড় ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট আড়াল হয়ে গেলো। তাদের অনেকেই ব্রয়লার মুরগি নিয়ে আজ কথা বলছেন, কিন্তু নিজের লুটপাটের কথা বলছেন না। আমি বলতে চাই-রমজান মাসে মানুষকে কষ্ট দেবেন না। নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

এনএইচ/এমআইএইচএস/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।