১৩৫৯৯ অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ-প্রধান শিক্ষক নিয়োগে আবেদন পেছালো
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার, সহকারী সুপার পদে নিয়োগের আবেদন শুরুর সময় পেছানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) থেকে এ আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা শুরু হয়নি। আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে এ আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)।
এনটিআরসিএর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে মাদরাসা অধিদপ্তর এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬ প্রকাশ করা হয়েছে। জারি করা নীতিমালা, ২০২৬ অনুযায়ী এনটিআরসিএর অষ্টম এনটিআরসিএ নিয়োগ (প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান) পরীক্ষা-২০২৬-এর আবেদন অনলাইনে গ্রহণের প্ল্যাটফর্মটি হালনাগাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে অনিবার্য কারণে প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের আবেদন গ্রহণ কার্যক্রম আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে।
গত ২৯ জানুয়ারি রাতে প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এনটিআরসিএ। এতে মাউশি, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধিভুক্ত বিভিন্ন বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট ১৩ হাজার ৫৯৯টি শূন্যপদে নিয়োগে আবেদন চাওয়া হয়।
ওইদিন প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীরা ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন বলে জানানো হয়। আবেদন গ্রহণ চলবে ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। আবেদন ফি জমা দেওয়া যাবে ২০ জানুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। তবে অনিবার্য কারণে তা পিছিয়ে যাওয়ায় আবেদন শুরু ও শেষের তারিখ পুনরায় জানাবে এনটিআরসিএ।
কোন প্রতিষ্ঠানে কত পদ শূন্য
মাউশির স্কুল ও কলেজে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে মোট শূন্যপদ ১০ হাজার ২৭৮টি। এরমধ্যে স্নাতক (পাস) কলেজে অধ্যক্ষ ৫৮৪, উপাধ্যক্ষ ৬২৭টি। উচ্চমাধ্যমিক কলেজে অধ্যক্ষ পদে শূন্যপদ রয়েছে ৭৬৮টি। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ ৩ হাজার ৯২৩টি এবং সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ ৩ হাজার ৮৭২টি। এছাড়া নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদ ৫০৪টি।
মাদরাসা অধিদপ্তরের আওতাধীন কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষের শূন্যপদ ৩৪টি এবং উপাধ্যক্ষ পদে শূন্য রয়েছে ৫৩টি। ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ পদ ২০২টি, ফাজিলের উপাধ্যক্ষ পদ ৩৪৩টি, আলিমের অধ্যক্ষ পদ শূন্য ২১৯টি, উপাধ্যক্ষ পদ ৩৭৭টি। এছাড়া দাখিল মাদরাসায় সুপার পদ শূন্য ৮৯১টি এবং সহকরী সুপারের ১ হাজার ৪টি শূন্যপদ রয়েছে। সবমিলিয়ে মাদরাসায় অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার ও সহকারী সুপারের শূন্যপদ ৩ হাজার ১৩১টি।
অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্য অধ্যক্ষ পদ ১১০টি, ভোকেশনালে শূন্য সুপার পদ ৪০টি এবং সহকারী সুপার ৪০টি। সবমিলিয়ে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠানপ্রধান পদ শূন্য ১৯০টি।
আবেদনের প্রক্রিয়া
যোগ্য ও আগ্রহী প্রার্থীদের http://ngi.teletalk.com.bd ওয়েবসাইটে নির্ধারিত ফরম পূরণ করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যাবে এনটিআরসিএর ওয়েবসাইট https://ntrca.gov.bd এবং টেলিটকের ওয়েবসাইটে।
এনটিআরসিএ সূত্র জানায়, সর্বশেষ জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকলেই প্রার্থীরা এ পরীক্ষায় আবেদন করতে পারবেন।
পরীক্ষার নম্বর বণ্টন যেভাবে
নিয়োগ পরীক্ষা হবে মোট ১০০ নম্বরের ওপর। এর মধ্যে এমসিকিউ পরীক্ষায় ৮০ নম্বর (সময় এক ঘণ্টা), শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের জন্য ১২ নম্বর এবং মৌখিক পরীক্ষায় ৮ নম্বর নির্ধারিত রয়েছে।
এমসিকিউ পরীক্ষায় মোট ৮০টি প্রশ্ন থাকবে। প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর এবং প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে। এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। প্রতিটি ধাপে পাস নম্বর ৪০ শতাংশ।
নিয়োগ পরীক্ষার বিষয় কী হবে
এমসিকিউ পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, আইসিটি, মানসিক দক্ষতা ও গাণিতিক যুক্তি, সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক), প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং অধিদপ্তরভিত্তিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। অধিদপ্তরভেদে সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থাপনা, কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থাপনা এবং মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থাপনা, আল-কুরআন, হাদিস, ফিকাহ, আরবি ভাষা ও ইসলামি শিক্ষা থেকে প্রশ্ন আসবে।
নিয়োগের সুপারিশ যেভাবে
এমসিকিউ ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে প্রার্থীদের মোট প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম ও প্রতিষ্ঠান পছন্দক্রম অনুসারে শতভাগ স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে নিয়োগ সুপারিশ করা হবে। এ প্রক্রিয়া টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের তত্ত্বাবধানে সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।
এএএইচ/বিএ