ঘোষণার তিন বছরেও ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ জোটেনি ১৭৮ শিক্ষার্থীর
তিন বছর আগে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক শেষ করা মারুফাতুন নাহার। অথচ এখনো তার গলায় ওঠেনি সেই পদক, হাতে পাননি কোনো সনদও। শুধু মারুফাতুন নাহার নয়, একইভাবে মনোনীত হয়েও স্বর্ণপদক-বঞ্চিত দেশের ৩৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭৮ জন কৃতী শিক্ষার্থী।
ঘোষণার দীর্ঘদিন পার হলেও পদক হাতে না পেয়ে ক্ষুব্ধ অনেকে। কেউ কেউ আবার স্বর্ণপদক পাওয়ার আশাও ছেড়ে দিয়েছেন। অনেকে পাড়ি জমিয়েছেন বিদেশে। উচ্চশিক্ষা নিয়ে সেখানে স্থায়ীও হয়েছেন কয়েকজন। শিক্ষাক্ষেত্রে দেশের সর্বোচ্চ পুরস্কার ও সম্মাননা ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকে’ মনোনীত হয়েও তাদের কোনো কাজে আসেনি। পাশাপাশি ২০২০ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ছয় বছরে আরও অন্তত ১২শ জনের এ পদক পাওয়ার কথা থাকলেও তা ঘোষণা দেওয়া হয়নি। জটে পড়ে আটকে গেছে তাদের পদকপ্রাপ্তি। এ নিয়ে হতাশ মেধাবী গ্র্যাজুয়েটরা।
শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘোষণা দিয়েও পদক না দেওয়ার এ ঘটনা দেশের শিক্ষা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার দৈন্যদশার দৃষ্টান্ত। এ ঘটনা জাতি ও রাষ্ট্রের জন্য লজ্জার। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের প্রতি অবিচার ও নিরুৎসাহিত করার শামিল। শিক্ষাব্যবস্থার স্বার্থে পদকজট কাটানো জরুরি।
নাম ঘোষণার পরও পদক পাননি ১৭৮ শিক্ষার্থী
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মনোযোগ বৃদ্ধি ও ভালো ফলাফল অর্জনে উৎসাহিত করতে ২০০৫ সালে ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ চালু করা হয়। স্নাতক স্তরে বিভিন্ন অনুষদে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করা শিক্ষার্থীদের এ পদক দিতে প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) অনুষ্ঠানের আয়োজন করার কথা। তবে নিয়মিত এ অনুষ্ঠান আয়োজনে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে ইউজিসি।
২০২১ সালে মাস্টার্স শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে এসেছি। ভালো ফল করায় প্রত্যাশা ছিল স্বর্ণপদক পাবো। অবশেষে ২০২৩ সালে নাম ঘোষণা দিলো। কিন্তু পদকটা আর দিলো না।-চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বর্ণপদক প্রাপ্ত তাসফিকা খানম
ইউজিসি সূত্র জানায়, সবশেষ ২০২০ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৮’ পাওয়া শিক্ষার্থীদের হাতে পদক ও সনদ তুলে দেন। তিন বছর ২০২৩ সালের ৩০ এপ্রিল ইউজিসি ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৯’ প্রাপ্তদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করে। তালিকায় দেশের ৩৭টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১৭৮ জন শিক্ষার্থী মনোনীত হন।
এর মধ্যে ৩২টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭৩ জন শিক্ষার্থী স্থান পান। এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একজন করে মোট তিনজন শিক্ষার্থী এ স্বর্ণপদকের জন্য প্রাথমিকভাবে মনোনীত হন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও দুজন শিক্ষার্থী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন। এ পদক প্রদান অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য তারিখ ২০২৩ সালের ২১ মে নির্ধারণ করা হলেও বিভিন্ন জটিলতায় অনুষ্ঠানটি আটকে যায়। এরপর তা আর করা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন
কুরিয়ারে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক ফেরত পাঠালেন সেই নূরুল হুদা
‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ পেলেন ১৭২ শিক্ষার্থী
নূরুল হুদার স্বর্ণপদক ফেরত/‘ইউজিসি দুর্নীতি করেনি, অনিয়ম হলেও করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন’
জানতে চাইলে ইউজিসির সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘এটা দুঃখজনক। ২০১৯ সালের পদক ২০২৩ সালে ঘোষণা করে সেটা এখনো দিতে না পারার কোনো ব্যাখ্যা থাকতে পারে না। ৫ আগস্টের পর আমরা দায়িত্বে আসার পর এ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল। নানা প্রতিকূলতায় এ পদক দেওয়া সম্ভব হয়নি। আশা করছি, বিষয়টির দ্রুত সমাধান হবে। আমরা সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করে কীভাবে, কবে এ পদক দেওয়া যায়, তা নিয়ে কাজ করবো।’
ক্ষুব্ধ পদকপ্রাপ্তরা, অভিমানে নিতেই চান না কেউ কেউ!
প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৯-এর তালিকা প্রকাশের তিন বছরেও পদক হাতে না পেয়ে ক্ষুব্ধ পদকপ্রাপ্তরা। বিষয়টি নিয়ে জাগো নিউজের পক্ষ থেকে কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা অভিমানের কথা জানান। অভিমানে কেউ কেউ বলেও ফেলেন যে, তারা আর এ পদক গ্রহণ করতে চান না। তবে অধিকাংশ পদকপ্রাপ্ত গ্র্যাজুয়েট এখনো দেশের প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে এ পদক নিতে মুখিয়ে আছেন।
আমার ছোট মামা ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পেয়েছিলেন। তার এ পদক পাওয়া আমাকে অনুপ্রাণিত করে। এরপর মনোযোগ সহকারে পড়ালেখা করি। ভালো ফল করেছি। বিভাগে ও অনুষদে প্রথম হয়েছি। প্রত্যাশা ছিল প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাবো। কিন্তু আমাদের বছরের (২০২২) পদকের তালিকা আর প্রকাশ হয়নি। এ নিয়ে প্রচণ্ড হতাশা কাজ করে।-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সালমান আদনান
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ফিন্যান্স বিভাগ থেকে স্নাতকে সিজিপিএ ৩.৯২ (৪-এর মধ্যে) পেয়ে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পান তাসফিকা খানম। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘২০২১ সালে মাস্টার্স শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে এসেছি। ভালো ফল করায় প্রত্যাশা ছিল স্বর্ণপদক পাবো। অবশেষে ২০২৩ সালে নাম ঘোষণা দিলো। কিন্তু পদকটা আর দিলো না।’
প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক ২০১৯ পান বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জান্নাতারা মুন। বর্তমানে তিনি ব্যাংকে চাকরি করছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘২০২৩ সালেই পদকটা পাওয়ার কথা ছিল। যদি সে সময়ে পদকটা পেয়ে যেতাম, তাহলে হয়তো আমি আমার চাকরির ভাইভাতে সেটা দেখাতে পারতাম, সিভিতে যুক্ত করতে পারতাম। পদকের সঙ্গে যে সনদ, সেটা হয়তো আমার কাজে লাগতো। আরও ভালো ক্যারিয়ারও পেতে পারতাম।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে ৩.৮১ সিজিপিএ নিয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন লিমা আক্তার। কৃতিত্বপূর্ণ ফল করায় প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পান তিনি। পদকের আশায় দিনের পর দিন পার করে ক্লান্ত তিনি।
একটি বছরের পদক যেহেতু আনুষ্ঠানিকভাবে দেওয়া সম্ভব হয়নি, সেটি আটকে রেখে নতুন করে অন্য বছরের পদকের তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব নয়। ২০১৯ সালের পদক আটকে থাকায় ধারাবাহিকভাবে পরের ছয় বছরের পদকের তালিকা তৈরি ও প্রকাশ ঝুলে গেছে। জট ছাড়াতে আগে ২০১৯ সালের পদক বিতরণ করতে হবে, তারপর পর্যায়ক্রমে বাকি বছরগুলোর পদক দিতে হবে।-ইউজিসি সচিব ড. ফখরুল ইসলাম
লিমা আক্তার জাগো নিউজকে বলেন, ‘এটা (প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক) নিয়ে সরকার ও ইউজিসি আমাদের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা করেছে বলে মনে করি। নাম ঘোষণার পরও এভাবে তিনটা বছর ঝুলিয়ে রাখায় আমাদের প্রত্যাশা ও স্বপ্নের মৃত্যু ঘটেছে। এখন এ পদক নেওয়ার আর তেমন আগ্রহ নেই। যদি অনুষ্ঠান আয়োজন করে হয়তো যাবো, কিন্তু মনে সেই খুশি খুশি ভাব, উৎসাহ-উদ্দীপনাটা আর নেই।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকে মনোনীত শরিফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘যেদিন পদকের তালিকা প্রকাশ করা হয়, আমার নামটা আসে; সেদিনের কথা মনে পড়লে এখনো ভালোলাগা কাজ করে। কিন্তু পরে আবার মনটা খারাপ হয়ে যায়। তিন বছর পার হয়ে গেলো, কিন্তু পদকটা যে আমি পেয়েছি, তার কোনো প্রমাণ নেই। সরকারের উচিত দ্রুত আমাদের বকেয়া এ পদক বুঝিয়ে দেওয়া। আমরা নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকেই পদক নিতে চাই।’
পদকজটে বঞ্চিত হাজারো গ্র্যাজুয়েট
২০০৫ সালে যখন প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক চালু হয়, তখনকার নীতিমালা অনুযায়ী- শুধু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সুযোগ ছিল। ২০১৮ সালে স্বর্ণপদকের এ নীতিমালাটি সংশোধন করা হয়। এতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও এ পুরস্কারের আওতায় আসে। প্রতিবছর ১৭০-১৮০ জন শিক্ষার্থীকে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকে মনোনীত করা হয়।
ইউজিসি সূত্র জানায়, ২০১৯ সালে সবশেষ ১৭৮ জনকে মনোনীত করা হয়। তাদের পদক প্রদান অনুষ্ঠান আটকে যাওয়ায় এরপর আর কোনো বছরের পদক তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। ২০১৯ সালে পদকপ্রাপ্তদের হাতে পদক তুলে দেওয়ার পর পর্যায়ক্রমে সব বছরের পদক দেওয়া হবে।
পুরস্কার বা সম্মাননা যে কোনো মানুষকে উৎসাহিত ও উদ্দীপ্ত করে। শিক্ষার্থী বা সদ্য গ্র্যাজুয়েটকে পুরস্কৃত করা মানে তাকে দেশ-দশের জন্য কাজ করতে অনুপ্রাণিত করা। তাকে বোঝানো হয় যে, তোমার কাছে জাতির অনেক প্রত্যাশা। তুমি অনেক ভালো শিক্ষার্থীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ।-অধ্যাপক হোসনে আরা বেগম
সেই হিসাবে ২০২০, ২০২১, ২০২২, ২০২৩, ২০২৪, ২০২৫ সালের প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক ঝুলে আছে। প্রতিবছর গড়ে ১৭৫ জন শিক্ষার্থীকে মনোনীত করা হলে ছয় বছরে এক হাজার ৫০ জনের পদক বকেয়া রয়েছে। পাশাপাশি চলতি ২০২৬ সালের হিসাব ধরলে তা ১২শ ছাড়িয়ে যাবে। পদকজটের কারণে এ বছরগুলোতে যারা প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েছেন, তারা পদক পাননি।
২০২২ সালে স্নাতক শেষ করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সালমান আদনান জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমার ছোট মামা ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পেয়েছিলেন। তার এ পদক পাওয়া আমাকে অনুপ্রাণিত করে। তখন আমি সবেমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি। এরপর মনোযোগ সহকারে পড়ালেখা করি। ভালো ফল করেছি। বিভাগে ও অনুষদে প্রথম হয়েছি। প্রত্যাশা ছিল প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাবো। কিন্তু আমাদের বছরের (২০২২) পদকের তালিকা আর প্রকাশ হয়নি। এ নিয়ে প্রচণ্ড হতাশা কাজ করে।’
পদকজট প্রসঙ্গে ইউজিসি সচিব ড. ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘একটি বছরের পদক যেহেতু আনুষ্ঠানিকভাবে দেওয়া সম্ভব হয়নি, সেটি আটকে রেখে নতুন করে অন্য বছরের পদকের তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব নয়। ২০১৯ সালের পদক আটকে থাকায় ধারাবাহিকভাবে পরের ছয় বছরের পদকের তালিকা তৈরি ও প্রকাশ ঝুলে গেছে। জট ছাড়াতে আগে ২০১৯ সালের পদক বিতরণ করতে হবে, তারপর পর্যায়ক্রমে বাকি বছরগুলোর পদক দিতে হবে।’
পদকজটে মনোবল-উৎসাহ হারাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা
প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক দেওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘ জটিলতা মেধাবী শিক্ষার্থীদের মনোবল ও উৎসাহের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করেন শিক্ষা-সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত এ পদকজট কাটিয়ে ওঠার তাগিদ দিয়েছেন তারা। ইউজিসিকেই এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে বলেও মনে করেন শিক্ষাবিদরা।
২০১৫ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক ড. এম আব্দুল মান্নান। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘পদকের জট শব্দটাই তো বিশ্রি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে আমি দায়িত্বে থাকার সময়েও এটা নিয়মিত করতে পারিনি। এক-দুই বছরের গ্যাপ থেকেই যায়। কারণ অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশন জট রয়েছে। দেখা যায়, ২০১৮ সালের স্নাতক শেষ হচ্ছে ২০২০ সালে। সেক্ষেত্রে ইচ্ছা থাকলেও ২০১৮ সালের স্নাতকধারীদের ফলাফল একই বছর সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। সেজন্য এক-দুই বছরের গ্যাপ থাকাটা স্বাভাবিক। তবে পাঁচ-ছয় বছর ধরে পদক না দেওয়া কিংবা ঘোষণা দিয়ে তিন বছরেও পদক তুলে না দেওয়া খুবই বাজে দৃষ্টান্ত। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসিকে এটা নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’
পদকজটে শিক্ষার্থীদের মনোবলে চিড় ধরবে এবং উৎসাহ কমে যাবে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক হোসনে আরা বেগম। তিনি জাগো নিউজক বলেন, ‘পুরস্কার বা সম্মাননা যে কোনো মানুষকে উৎসাহিত ও উদ্দীপ্ত করে। শিক্ষার্থী বা সদ্য গ্র্যাজুয়েটকে পুরস্কৃত করা মানে তাকে দেশ-দশের জন্য কাজ করতে অনুপ্রাণিত করা। তাকে বোঝানো হয় যে, তোমার কাছে জাতির অনেক প্রত্যাশা। তুমি অনেক ভালো শিক্ষার্থীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে ভালো ফল অর্জন করে প্রথম স্থান লাভ করা শিক্ষার্থীর জন্য বড় উৎসাহ হিসেবে কাজ করে। কিন্তু পুরস্কার দিতে এত বিলম্ব হওয়ার মানে দাঁড়ায় যে, তাদের চরমভাবে অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। এতে মেধাবী গ্র্যাজুয়েট কিংবা তার পরের ব্যাচের মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি করে, মনোবলে চিড় ধরে, উৎসাহ কমে যায়। এ ধরনের পুরস্কার ও সম্মাননা দিতে দেরি করা বা ঝুলিয়ে রাখা অথবা বন্ধ করে দেওয়া শিক্ষাখাতকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। দ্রুত এ দিকটায় নজর দেওয়া উচিত।’
এএএইচ/এএসএ