গণসাক্ষরতা অভিযান

পঞ্চম-অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি পরীক্ষা বাদ দেওয়ার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:০৫ পিএম, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন রাশেদা কে চৌধূরী। ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে প্রাথমিক এবং জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা বাদ দেওয়া হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার তা আবার ফিরিয়ে এনেছে। বিএনপি সরকারও এ দুটি বৃত্তি পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে সরকারের এ সিদ্ধান্তটি সুবিবেচনাপ্রসূত নয় জানিয়ে তা বাদ দেওয়ার দাবি তুলেছে শিক্ষা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থাগুলোর মোর্চা ‘গণসাক্ষরতা অভিযান’।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী ও অন্যান্য শিক্ষাবিদ এবং বিশেষজ্ঞরা এ দাবি তুলে ধরেন।

সম্প্রতি শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষিত শিক্ষা নিয়ে ১২ দফা প্রতিশ্রুতির বিষয়ে নিজেদের পরামর্শ জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নিজেদের পরামর্শগুলো তুলে ধরেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী। তিনি জানান, ইতোমধ্যে এগুলো সরকারের কাছে দেওয়া হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে গণসাক্ষরতা অভিযানের পক্ষ থেকে বলা হয়, শিক্ষাক্রম ও পরীক্ষার পদ্ধতি ‘রিভিউ’ করার সময় শ্রেণিভিত্তিক ধারাবাহিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করার ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন। এর ভিত্তিতে দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ক্লাসের ব্যবস্থা করা এবং সেসব ক্লাসের শিক্ষকদের অতিরিক্ত প্রণোদনা বা ভাতা দেওয়া যেতে পারে। আর শিক্ষাক্রম ‘রিভিউ’ করার ক্ষেত্রে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও নাগরিক সমাজসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা দরকার। শিক্ষার্থীরা কোনোভাবেই যেন অসংখ্য পরীক্ষার বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে কোচিং ও গাইড বই–নির্ভর হয়ে না ওঠে, সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া সরকারের অগ্রাধিকারে থাকা উচিত।

রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, পরীক্ষা দিতে দিতে শ্রেণিভিত্তিক ধারাবাহিক মূল্যায়ন গুরুত্বহীন করে ফেলা হয়েছে। তাই এ বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।

বৃত্তি পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের কোচিং ও গাইড বই–নির্ভর করে ফেলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যদি গাইড বইই পড়বে, কোচিং সেন্টারেই যাবে, তাহলে স্কুলের দরকার কী? এ জায়গায় এ সরকারকে দৃষ্টি দিতেই হবে। শিক্ষার্থীরা যেন পরীক্ষার্থী হয়ে না যায়।

বৃত্তি পরীক্ষার বিষয়ে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক এবং প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত পরামর্শক কমিটির প্রধান ড. মনজুর আহমদ বলেন, অল্প বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য নিচের শ্রেণিগুলোয় পাবলিক পরীক্ষা নয়, এটি বিদ্যালয়ভিত্তিক মূল্যায়ন হওয়া দরকার। পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা বাদ দেওয়া হয়েছিল। এখন বলা হচ্ছে, আবার নেবে। অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা হয়েছে এবং আবারও হবে। এটা করে আসলে সেই পাবলিক পরীক্ষাকেই ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

পর্যালোচনা অনুযায়ী বৃত্তি পরীক্ষায় মানের কোনো উন্নয়ন হয় না উল্লেখ করে অধ্যাপক মনজুর আহমদ বলেন, ১০ থেকে ২০ শতাংশ ভালো শিক্ষার্থী যারা, তাদের একটি পরীক্ষা নিয়ে আরেকটু প্রণোদনা দেওয়া হয়। তারা তো ভালোই করছে, তারা ভালোই আছে। কিন্তু বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী, যারা ভালো নেই, তাদের শিক্ষার মানোন্নয়নের দিকে নজর দেওয়া দরকার।

তিনি আরও বলেন ‘আমি বলব, এটি (বৃত্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত) সুবিবেচনাপ্রসূত হয়নি। এটি সুবিবেচনা করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।’

এএএইচ/এমএমএআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।