এসএসসিতে বাড়তি নম্বর দিলে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৩২ পিএম, ০৬ এপ্রিল ২০২৬
এসএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন/ছবি সংগৃহীত

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা নকলমুক্ত ও সুষ্ঠু পরিবেশে আয়োজন করা হবে। পরীক্ষা যেমন সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত হবে, তেমনি খাতা মূল্যায়নও হবে সম্পূর্ণ নিয়মের মধ্যে। খাতা মূল্যায়নে কোনো শিক্ষক বাড়তি নম্বর দিলে তাকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এবং ময়মনসিংহ অঞ্চলের মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রসচিবরা অংশ নেন।

অতীতের কিছু অনিয়মের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে এহছানুল হক মিলন বলেন, পরীক্ষার ফলাফলে কৃত্রিম সাফল্য প্রদর্শনের প্রবণতা শিক্ষার মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ ধরনের অনৈতিক চর্চা থেকে সম্পূর্ণভাবে বেরিয়ে এসে একটি জবাবদিহিমূলক ও মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। সরকারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত মানোন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে শিক্ষক, প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

jagonews24

তিনি বলেন, আসন্ন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সারাদেশে সম্পূর্ণ নকলমুক্ত, স্বচ্ছ এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশে আয়োজন করা হবে। একই সঙ্গে খাতা মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা গাফিলতি বরদাশত করা হবে না। যদি কোনো পরীক্ষকের বিরুদ্ধে খাতা নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের পাশাপাশি খাতা মূল্যায়নে নির্ধারিত নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে। মূল্যায়নে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব, অবহেলা বা অনিয়ম শিক্ষাব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা ও অর্জনের সঠিক প্রতিফলন নিশ্চিত করতে পরীক্ষকদের দায়িত্বশীল ও পেশাদার আচরণ অপরিহার্য।

তিনি আরও বলেন, নকলমুক্ত পরীক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকারমূলক লক্ষ্য। শিক্ষার্থীরা যেন নিজ যোগ্যতায় উত্তীর্ণ হতে পারে, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পরীক্ষাকেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় কঠোরতা বজায় রাখা ও প্রতিটি ধাপে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

jagonews24

সভায় শিক্ষামন্ত্রী জানান, পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০ যুগোপযোগীভাবে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে পাবলিক পরীক্ষা ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, জালিয়াতি ও নকল প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সকলকে আইনের আওতায় আনা যায়।

মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ শিক্ষাখাত সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

এএএইচ/বিএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।