হিট প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে হতাশ শিক্ষামন্ত্রী, গতি বাড়ানোর নির্দেশ
উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে ২০২৩ সালে হায়ার এডুকেশন অ্যাকসেলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্প শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। চার হাজার ১৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে চলমান এ প্রকল্পের প্রায় তিন বছর হতে চললেও অগ্রগতি মাত্র ৫ শতাংশ। বাকি ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ করতে হবে আগামী দুই বছর।
গবেষণার কাজনির্ভর হিট প্রকল্পের এমন দুরবস্থায় হতাশ শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি প্রকল্পের কাজে গতি বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি ব্যয় কমিয়ে প্রকল্পকে সাশ্রয়ী ও টেকসই করার কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ইউজিসি ভবনে আয়োজিত হিট প্রকল্পের মিড-টার্ম রিভিউ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ প্রকল্প দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর প্রতিটি উপাদান উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নের সঙ্গে জড়িত। তাই প্রকল্পের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
প্রকল্প সংশোধনের বিষয়ে এহছানুল হক মিলন বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় এ প্রকল্পের কিছু বিষয় আর প্রাসঙ্গিক নেই। উচ্চশিক্ষায় সরকারের অগ্রাধিকার যুক্ত করে ডিপিপি সংশোধন করতে হবে।
প্রকল্পের অগ্রগতি বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ আছে আর দুই বছর। কিন্তু এর অগ্রগতি মাত্র ৫ শতাংশ। আমাদের হাতে পর্যাপ্ত সময় নেই। এখনই গতি বাড়াতে হবে। ২০২৮ সালের মধ্যেই প্রকল্প শেষ করতে হবে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা দেবে।
আরও পড়ুন
বুলিং-ইভটিজিং ঠেকাতে ৫১৭ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বসছে সিসিটিভি
বিনামূল্যের স্কুল ড্রেস-জুতা-ব্যাগ কেমন হবে, কারা পাবে
প্রকল্প ব্যয়ে সাশ্রয়ী হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় কমিয়ে আনা এবং খরচের যৌক্তিকতা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। হিট প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ যৌক্তিক ব্যবহার করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, দেরিতে শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমর হিট প্রকল্প শেষ করবো। তবে শুধু টাকা খরচ করে নয়, লক্ষ্য অর্জন নিশ্চিত করতে হবে।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ প্রকল্প দেশের উচ্চশিক্ষার সংকট কাটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে গবেষণায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। প্রকল্পে যৌথ গবেষণার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শিল্প ও বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ বাড়ানো হবে। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ করে দেওয়া হবে।
কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. সরদার মো. কেরামত আলী এবং বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র এডুকেশন স্পেশালিস্ট ও টাস্ক টিম লিডার টি এম আসাদুজ্জামান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন হিট প্রকল্পের পরিচালক প্রফেসর ড. আসাদুজ্জামান।
এএএইচ/কেএসআর