বাংলাদেশে কেমব্রিজের প্রশ্নফাঁস, নানান দেশে এএস লেভেলের পরীক্ষা বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৩২ পিএম, ০৯ মে ২০২৬
কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল/ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ইউরোপ, আফ্রিকা, এশিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে এএস (অ্যাডভান্স সাবসিডারি) লেভেলের গণিত পরীক্ষা বাতিল করেছে কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল।

গত ২৯ এপ্রিলের পরীক্ষার প্রশ্ন আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ পাওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে আগামী ৯ জুন নতুন প্রশ্নপত্রে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে আগের নির্ধারিত ১১ আগস্টেই ফল প্রকাশ করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) এসব সিদ্ধান্ত নেয় কেমব্রিজ কর্তৃপক্ষ। এ সিদ্ধান্তের আওতায় আফ্রিকা, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য এবং বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল রয়েছে। এছাড়া কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়ার কিছু অংশ, লাওস, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামেও একই ব্যবস্থা কার্যকর হবে।

ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রটি বাংলাদেশ থেকে ছড়িয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে কেমব্রিজ কর্তৃপক্ষ। তবে কোন ফেসবুক পেজ, আইডি বা গ্রুপে তা প্রথম দেওয়া হয়েছিল সেটি জানায়নি তারা।

এক বিজ্ঞপ্তিতে কেমব্রিজ জানায়, গণিত বিষয়ের প্রশ্নপত্রটি তাদের কঠোর নীতিমালা ভেঙে আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা হয়েছিল। প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ার মাত্রা এতটাই ব্যাপক ছিল যে, পরীক্ষাটির ভিত্তিতে নির্ভরযোগ্য ফল প্রকাশ করা সম্ভব নয়। ফলে ‘ক্যালকুলেটেড অ্যাসেসমেন্ট’ বা বিকল্প কোনো পদ্ধতিতে ফল তৈরির পরিবর্তে পরীক্ষাটি সম্পূর্ণ বাতিল করে নতুন প্রশ্নপত্রে পুনরায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

কেমব্রিজ জানিয়েছে, এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্কুলগুলোর হতাশা ও উদ্বেগ তারা বুঝতে পারছে।

আরও পড়ুন
শিক্ষকরা ‘সহযোগী বইয়ের’ তালিকা দেবেন, গাইড বইয়ের দরকার হবে না
অস্তিত্বহীন স্কুলে চাকরির প্রলোভনে টাকা খোয়াচ্ছেন হাজারও বেকার

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয় এবং ন্যায্য মূল্যায়নের জন্য তারা কেমব্রিজের ওপর আস্থা রাখে। সেই আস্থা অটুট রাখতে এবং বিশ্ববিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য ফল নিশ্চিত করতেই পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, বিভিন্ন পরীক্ষা বোর্ডের মতো তারাও প্রায়ই প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ পেয়ে থাকে, যার বেশির ভাগই ভুয়া। সাধারণত প্রতারকরা অর্থের বিনিময়ে প্রশ্নপত্র দেওয়ার নামে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। কেমব্রিজ নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রশ্নপত্র বিক্রি বা ছড়িয়ে দেওয়ার যে কোনো অভিযোগ তদন্ত করে থাকে। এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের সঙ্গেও তারা কাজ করে বলে জানানো হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গণিত (৯৭০৯/১২) বিষয়ের পুনঃপরীক্ষা আগামী মঙ্গলবার (৯ জুন) হবে। এর জন্য পরীক্ষার্থী বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত কোনো ফি দিতে হবে না। আগামী ১৫ মের মধ্যে স্কুলগুলোকে পরীক্ষার সময়সূচি, প্রশ্নপত্র গ্রহণ ও পরিচালনার নিয়মাবলি এবং সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা পাঠানো হবে। একই সঙ্গে জুন সিরিজ থেকে প্রত্যাহার ও নভেম্বর সিরিজে নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্যও জানানো হবে।

কেমব্রিজ জানিয়েছে, পুনরায় পরীক্ষা হলেও ফল প্রকাশের নির্ধারিত তারিখ ১১ আগস্ট অপরিবর্তিত থাকবে।

এদিকে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তদন্ত চলছে বলেও জানিয়েছে কেমব্রিজ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সহায়তায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে। গোপন পরীক্ষাসামগ্রী ফাঁস বা অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে স্থায়ী বহিষ্কারসহ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এএএইচ/একিউএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।